প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ২৭ কিশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ২৭ কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশে যেসব কিশোরের দ্রুত জামিনের সম্ভাবনা নেই, তাদের পর্যায়ক্রমে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ।সর্বশেষ রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে আরও দুই কিশোরকে টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। এ নিয়ে চলমান অভিযানে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো কিশোরের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান।জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কুমিল্লা নগরীসহ জেলার ১৮টি থানা এলাকায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান শুরু হয়। একই সঙ্গে মাদক ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হচ্ছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিনের পৃথক অভিযানে দুই হাজারের বেশি কিশোর গ্যাং সদস্যসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।তাদের মধ্যে ৮৩৩ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে মুচলেকা নিয়ে এক হাজার ২০৯ জনকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশ সূত্রের দাবি, মুচলেকায় মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী।তবে গ্রেপ্তার হওয়া কিশোরদের ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানের প্রভাব পড়েছে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারেও। কারাগার সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে বন্দীর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।রোববার সকালে প্রায় দেড় হাজার বন্দীর ধারণক্ষমতার কারাগারটিতে বন্দীর সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় তিন হাজার ৫০০ জনে। ফলে অতিরিক্ত বন্দীর চাপের পাশাপাশি প্রচণ্ড গরমে গাদাগাদি করে থাকার কারণে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান বলেন, কষ্ট হলেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কারাগারে চারটি নতুন বহুতল ভবন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। ভবনগুলো চালু হলে বন্দীদের থাকার সংকট অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন তারা।কারাগার কর্তৃপক্ষের হিসাবে, চলমান অভিযানে মোট ৫০ জন কিশোর কারাগারে এসেছিল। তাদের মধ্যে যাদের দ্রুত জামিন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, আদালতের নির্দেশে তাদের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে।সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান বলেন, এ পর্যন্ত ২৭ কিশোরকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। অন্য কিশোরদের মধ্যে যারা জামিন পেয়েছে, তারা কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছে।শিশুদের ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশোধন ও পুনর্বাসনের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতেই শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।এর আগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ড. নাহিদা বেগমের ছেলে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে দুই কিশোরকেও শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল।কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জানান, গত ২১ সেপ্টেম্বর ওই দুই কিশোরকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। ঘটনাটির পর কিশোরদের জড়িত থাকার অভিযোগ নিয়ে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু গ্রেপ্তার বা আটকের মাধ্যমে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান করা কঠিন। কারণ, আটক হওয়া অনেক কিশোরই বয়সে শিক্ষার্থী এবং তাদের একটি অংশ পারিবারিক ও সামাজিক নানা ঝুঁকির মধ্যে বেড়ে ওঠে।কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে যারা গুরুতর অপরাধে জড়িত নয়, তাদের ক্ষেত্রে কাউন্সেলিং, শিক্ষা ও পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর