প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬
দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান প্রত্যাখ্যান, ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লেন কিম জং উন
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যেই আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় পিয়ংইয়ংকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল সিউল। তবে সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যানের পর শনিবার (৩ অক্টোবর) পূর্ব উপকূল থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে উত্তর কোরিয়া।ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলীয় ওনসান এলাকা থেকে উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্রটি ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী।গত ২১ সেপ্টেম্বর দুই কোরিয়ার সীমান্তবর্তী অসামরিকীকৃত অঞ্চল বা ডিএমজেডে একটি পথ পরিষ্কারের সময় মাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন। তাদের মধ্যে দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ডের তদন্তে দাবি করা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা মাইনের কারণেই ওই বিস্ফোরণ ঘটে।তবে পিয়ংইয়ং এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। উত্তর কোরিয়ার দাবি, বিস্ফোরণের সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।দক্ষিণ কোরিয়া ঘটনাটিকে ১৯৫৩ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে উত্তর কোরিয়ার কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে সীমান্তে মাইন পোঁতা এবং নতুন প্রতিরক্ষা অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধের আহ্বানও জানানো হয়।দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) জানিয়েছে, শনিবার ভোরে উত্তর কোরিয়ার ওনসান এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এটি পূর্ব সাগরের দিকে ছোড়া হয়, যে জলভাগ জাপান সাগর নামেও পরিচিত।সিউলের সামরিক বাহিনীর হিসাবে ক্ষেপণাস্ত্রটি ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছে। তবে এটি ঠিক কোন ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং এর অন্যান্য কারিগরি বৈশিষ্ট্য কী—সেগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।এদিকে দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিষয়ে তথ্য বিনিময় করছে। তিন দেশই নিজেদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি ও নজরদারি জোরদার করেছে।১৯৫৩ সালের যুদ্ধবিরতির পর থেকে দুই কোরিয়ার মধ্যে বিভাজনের প্রতীক হয়ে রয়েছে ডিমিলিটারাইজড জোন বা ডিএমজেড। প্রায় চার কিলোমিটার প্রশস্ত এই এলাকায় বিপুলসংখ্যক স্থলমাইন রয়েছে।সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্তে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে উত্তর কোরিয়া। ২০২৪ সালে কিম জং উন দক্ষিণ কোরিয়াকে দেশের ‘প্রধান শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করার পর দুই দেশের বিচ্ছিন্নতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।উত্তর কোরিয়ার সেনারা সীমান্ত এলাকায় মাইন পোঁতা এবং ট্যাংক চলাচল ঠেকাতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধক নির্মাণ করছে বলে দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাং শিন-চুলের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি বিস্ফোরিত মাইনগুলো উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত সুরক্ষা জোরদারের কাজের অংশ হিসেবে পোঁতা হয়ে থাকতে পারে।মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং।শুক্রবার (২ অক্টোবর) তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় বক্তব্য দেন এবং বিস্ফোরণের দায় পিয়ংইয়ংয়ের ওপর চাপানোর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।অর্থাৎ, সীমান্তের মাইন বিস্ফোরণ নিয়ে দুই দেশের বক্তব্য এখনো সম্পূর্ণ বিপরীত। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাতিসংঘ কমান্ডের তদন্ত একদিকে উত্তর কোরিয়ার মাইনকে দায়ী করছে, অন্যদিকে পিয়ংইয়ং সেই অভিযোগ অস্বীকার করছে।বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার কূটনৈতিক উদ্যোগের জবাবেই উত্তর কোরিয়া শক্তি প্রদর্শনের পথ বেছে নিয়েছে।সিউলের সাবেক ইউনিভার্সিটি অব নর্থ কোরিয়ান স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট ইয়াং মু-জিন এএফপিকে বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে, কিন্তু পিয়ংইয়ং তার জবাবে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।তার মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া সিউলের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগে আগ্রহী নয়—এমন একটি বার্তা দিতে চাইছে।সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ—সব মিলিয়ে দুই কোরিয়ার সম্পর্ক আরও চাপের মধ্যে পড়েছে।বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান যখন উত্তর কোরিয়ার সামরিক তৎপরতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, তখন নতুন কোনো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বা সীমান্তে সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।তবে সর্বশেষ উৎক্ষেপণের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর