প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬
চাঁদপুরে ‘হানিট্র্যাপ’ ফাঁদে ফেলে টাকা আদায়ের অভিযোগ, আটক ৪ নারী
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
চাঁদপুরে ‘হানিট্র্যাপ’ ফাঁদে ফেলে এক অটোরিকশাচালককে জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। পুলিশ পরিচয়ে তাকে একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে মারধর, এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ছবি-ভিডিও ধারণ এবং সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগে চার নারীকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনায় চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে চাঁদপুর শহরের মাজহারুল ইসলাম চক্ষু হাসপাতালের সামনে অটোরিকশাচালককে পথরোধ করেন দুই ব্যক্তি। তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।পরে তাকে পাশের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যাওয়া হয়।এজাহারে বলা হয়েছে, সেখানে তাকে মারধর করা হয়। এরপর জোরপূর্বক এক নারীর সঙ্গে ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়। এসব ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে তাকে ২০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। এর মধ্যে বিকাশের মাধ্যমে ৮ হাজার টাকা এবং তার সঙ্গে থাকা নগদ ১২ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।টাকা দেওয়ার পরও পরিস্থিতি থেকে বের হতে না পেরে কৌশলে এক স্বজনকে ফোন করে বিষয়টি জানান ভুক্তভোগী।পরে স্বজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলের পাশের একটি ভবনে অভিযান চালায়। সেখান থেকে অটোরিকশাচালককে উদ্ধার করা হয় এবং চার নারীকে আটক করা হয়।পুলিশের অভিযান টের পেয়ে চক্রের আরও কয়েকজন সদস্য পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি মো. ফয়েজ আহমেদ বলেন, আটক চারজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।এ ধরনের প্রতারণায় সাধারণত আগে কোনো ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়। পরে ছবি বা ভিডিওকে হাতিয়ার বানিয়ে সামাজিক মর্যাদা, পরিবার বা কর্মক্ষেত্রে বিষয়টি প্রকাশ করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করা হতে পারে।চাঁদপুরের ঘটনাতেও মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, একজন নারীকে ব্যবহার করে ছবি ও ভিডিও ধারণের পর সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছিল। তবে পুরো ঘটনাটি কীভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং কারা এর সঙ্গে যুক্ত, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিওকে ব্যবহার করে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের ঘটনা একজন মানুষের জন্য শুধু আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়; এর সঙ্গে সামাজিক ও মানসিক চাপও জড়িয়ে থাকে।এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীরা অনেক সময় লজ্জা বা সামাজিক প্রতিক্রিয়ার ভয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে যেতে চান না। কিন্তু দ্রুত স্বজন বা পুলিশের সহায়তা নেওয়া গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ হতে পারে।এই ঘটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—অপরাধের কৌশল হিসেবে ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিওকে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। অর্থাৎ এখানে শারীরিকভাবে কাউকে আটকে রাখার পাশাপাশি তার সামাজিক পরিচয় ও ব্যক্তিগত মর্যাদাকেও চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।তবে মামলার এজাহারে থাকা অভিযোগ এবং পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যই এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে দেখার সুযোগ নেই। তদন্তে চক্রটির পুরো কাঠামো, পলাতক সদস্যদের ভূমিকা এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়গুলো স্পষ্ট হওয়ার কথা।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর