প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ময়মনসিংহের ভালুকায় পল্লী বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে একসঙ্গে দুজনের মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ময়মনসিংহের ভালুকায় কৃষিজমিতে গরুর ঘাস কাটতে গিয়ে মাটিতে পড়ে থাকা পল্লী বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। একজনকে বিদ্যুতের সংস্পর্শে দেখে উদ্ধার করতে এগিয়ে গিয়েছিলেন আরেকজন। শেষ পর্যন্ত দুজনই প্রাণ হারান।বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার খারুয়ালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—খারুয়ালী গ্রামের আজিদ আকন্দের ছেলে মো. সাহাবউদ্দিন আকন্দ (৬৫) এবং একই গ্রামের মজিদ আকন্দের ছেলে মো. ধনু আকন্দ (৬০)। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকালে ধনু আকন্দ কৃষিজমিতে গরুর ঘাস কাটতে যান। সেখানে মাটিতে পড়ে থাকা পল্লী বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।ধনুকে বিদ্যুতের সংস্পর্শে পড়ে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে যান চাচাতো ভাই সাহাবউদ্দিন আকন্দ। কিন্তু তিনিও বিদ্যুতের সংস্পর্শে চলে আসেন। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, দুর্ঘটনার আগে মাটিতে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারের বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসকে জানানো হয়েছিল। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, খবর পাওয়ার পরও দ্রুত তারটি সরানো বা বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।স্থানীয় শিক্ষক মো. জান্নাতুল ইসলাম সোহাগ বলেন, সকাল ৯টার দিকে তিনি একটি বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি তিনি পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ে জানান।তার অভিযোগ, খবর দেওয়ার পরও দ্রুত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর কিছু সময়ের মধ্যেই ওই ছেঁড়া তারে জড়িয়ে দুই ব্যক্তি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।তবে দুর্ঘটনার আগে ঠিক কখন বিদ্যুতের তারটি ছিঁড়েছিল এবং পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ে খবর পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মীরা কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন—তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার নাসির উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এখন তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় সামনে আসবে—তারটি কখন ছিঁড়েছিল, সেটি সম্পর্কে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ আগে কোনো তথ্য পেয়েছিল কি না, খবর পাওয়ার পর ব্যবস্থা নিতে কতটা সময় লেগেছে এবং দুর্ঘটনা ঠেকাতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের কোনো গাফিলতি ছিল কি না।ঘটনাটির সবচেয়ে মর্মান্তিক দিক হলো, ধনু আকন্দকে বাঁচাতে গিয়ে সাহাবউদ্দিন আকন্দও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। অর্থাৎ একটি ছেঁড়া বিদ্যুতের তার শুধু একজনের জীবন কেড়ে নেয়নি, উদ্ধার করতে যাওয়া আরেকজনকেও প্রাণ হারাতে হয়েছে।বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তিকে খালি হাতে টেনে সরানোর চেষ্টা করলে উদ্ধারকারীও বিদ্যুতের সংস্পর্শে আসতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রথম কাজ হওয়া উচিত নিরাপদ দূরত্বে সরে গিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধের ব্যবস্থা করা এবং জরুরি সহায়তা নেওয়া। তবে গ্রামাঞ্চলে মাটিতে পড়ে থাকা ছেঁড়া তার যে সক্রিয় থাকতে পারে, সে বিষয়ে সচেতনতার ঘাটতিও বড় ঝুঁকি তৈরি করে।বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে থাকার ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু জনবসতি, কৃষিজমি বা চলাচলের জায়গায় এমন তার পড়ে থাকলে সেটি দ্রুত শনাক্ত করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং জায়গাটি নিরাপদ করা অত্যন্ত জরুরি।এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ সত্য হলে, বিষয়টি শুধু দুর্ঘটনা হিসেবে দেখলে হবে না। আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়ার সময় ও কার্যকারিতাও তদন্তের অংশ হওয়া দরকার। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে বিদ্যুৎ লাইন নিয়মিত পরিদর্শন ও ঝুঁকিপূর্ণ তার দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা কতটা কার্যকর—সেটিও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর