প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চীনের কাছেই অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প, জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
তাইওয়ানকে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যেই নতুন এক তথ্য সামনে এসেছে। চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ জানিয়েছেন, চীনের উদ্বেগের জবাবে একপর্যায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের কাছেই অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিলেন।রোববার সম্প্রচারিত ফক্স নিউজের এক সাক্ষাৎকারে পারডিউ বলেন, ট্রাম্প সরাসরি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো অস্ত্র কিনতে চান কি না।এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন তাইওয়ানকে অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক আবারও আলোচনায় রয়েছে।চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে। অন্যদিকে, তাইওয়ান একটি স্বশাসিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, তাইওয়ানের আত্মরক্ষার সক্ষমতা বজায় রাখতে ওয়াশিংটন অস্ত্র সরবরাহ করে থাকে।এ কারণে বহু বছর ধরেই তাইওয়ানকে অস্ত্র বিক্রি বেইজিং ও ওয়াশিংটনের সম্পর্কের অন্যতম সংবেদনশীল ইস্যু।ডেভিড পারডিউ জানান, গত সপ্তাহে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময়ও এই বিষয়টি আলোচনা হয়।ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পারডিউ বলেন, ট্রাম্প প্রায়ই উল্লেখ করেন যে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছেই অস্ত্র বিক্রি করে।তার ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প একপর্যায়ে সি চিন পিংকে জিজ্ঞেস করেন, চীনও কি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো অস্ত্র কিনতে আগ্রহী?তবে পারডিউ স্পষ্ট করেন যে, তাইওয়ান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি।গত বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে প্রায় ১ হাজার ১১০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দাবি, ১৯৭৯ সালের পর এটি যেকোনো মার্কিন প্রশাসনের আমলে সবচেয়ে বড় অস্ত্র বিক্রির ঘটনাগুলোর একটি।অন্যদিকে, গত জুনে চীন তাইওয়ানকে সতর্ক করে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে স্বাধীনতা অর্জনের চেষ্টা সফল হবে না।বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন শুধু বাণিজ্য নয়, নিরাপত্তা ও সামরিক ভারসাম্যের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।তাইওয়ান ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় প্রতিটি কূটনৈতিক বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বার্তা তৈরি করে।একটি বিষয় লক্ষণীয়, সামরিক প্রতিযোগিতার পাশাপাশি দুই দেশ একই সময়ে অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও কূটনীতির ক্ষেত্রেও একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। ফলে প্রকাশ্য বক্তব্য ও পর্দার আড়ালের আলোচনা—দুই দিকই এখন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের নজরে রয়েছে।গুরুত্বপূর্ণ দিক
তাইওয়ানকে অস্ত্র বিক্রি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দাবি, ট্রাম্প চীনের কাছেই অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তাইওয়ান বিষয়ে তাদের নীতিতে পরিবর্তন হয়নি।
সামরিক ইস্যু এখন যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের অন্যতম বড় আলোচ্য বিষয়।
বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক শুধু দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ওপরও পড়ে। তাই তাইওয়ান ইস্যু বা অস্ত্র বিক্রি নিয়ে বড় শক্তিগুলোর প্রতিটি সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর