প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রামেকে ৪ দিনে ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, চিকিৎসাধীন ১০৭
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ডেঙ্গুর চাপ বাড়ছে। গত চার দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১০৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮২ জন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত রামেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১০৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শেখ শামিম আহমেদের দেওয়া তথ্য থেকে এসব জানা গেছে।হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন করে ২০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। ওই দিন ১২ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পান। দিন শেষে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ছিল ৯৩ জন।সেদিন ডেঙ্গুতে মারা যান মো. আনোয়ার মন্ডল (৫২)। তার বাড়ি রাজশাহীর তানোর উপজেলায়। ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ২১ মিনিটে তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন সকাল ৬টা ২০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালের তথ্যে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম উল্লেখ করা হয়েছে।পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন আরও ৩১ জন। এদিন ১৮ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পান। একই দিনে মারা যান ১৬ বছর বয়সী সাথী রাণী। তার বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায়।সাথী রাণী ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালের তথ্যে তার মৃত্যুর কারণও ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম বলা হয়েছে।২১ সেপ্টেম্বর রামেকে নতুন করে ২৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পান ২৭ জন। ওই দিন ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর খবর ছিল না। দিন শেষে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৪ জনে।সর্বশেষ মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর নতুন করে আরও ২৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই দিনে ২৫ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এদিন মারা গেছেন আব্দুল করিম (৪৫) নামে এক রোগী। এতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৭ জনে।আব্দুল করিম পেশায় কৃষক ছিলেন। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের পোলাডাঙ্গার বটতলা এলাকায়। ১৬ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।হাসপাতালের তথ্যে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন ডেঙ্গু মায়োকার্ডাইটিস থেকে হৃদ্যন্ত্রের অনিয়মিত স্পন্দনের কারণে তার আকস্মিক হৃদ্যন্ত্রজনিত মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।১৯ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর—এই চার দিনের হিসাব বলছে, রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর ভর্তি সংখ্যা এবং চিকিৎসাধীন রোগীর চাপ দুটোই উল্লেখযোগ্য। এই সময়ে ১০৬ জন নতুন রোগী ভর্তি হলেও ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮২ জন। একই সময়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।বিশেষ করে ২২ সেপ্টেম্বর একদিনেই ২৯ জন নতুন রোগী ভর্তি হওয়া এবং ১০৭ জনের চিকিৎসাধীন থাকা হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু রোগীর চাপের বিষয়টি সামনে আনছে।সাধারণ মানুষের জন্য সতর্কতাজ্বর, শরীরব্যথা, মাথাব্যথা বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা উচিত, কারণ এ ধরনের স্থানে এডিস মশার বংশবিস্তার হতে পারে।ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন না করাই নিরাপদ।তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট বা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।ডেঙ্গু পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে শুধু নতুন রোগী ভর্তি নয়, প্রতিদিন কতজন সুস্থ হয়ে ফিরছেন এবং কতজন চিকিৎসাধীন থাকছেন—এই তিনটি তথ্য একসঙ্গে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। রামেকে চার দিনে ১০৬ জন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ার বিপরীতে ৮২ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন; পাশাপাশি তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে হাসপাতালের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর