প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইরানকে হুথিদের সমর্থন বন্ধের আহ্বান জি৭-এর, সৌদিতে হামলা নিয়ে কড়া বার্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
সৌদি আরবের ওপর ইয়েমেন থেকে হুথিদের চালানো হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে গোষ্ঠীটিকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে শিল্পোন্নত সাত দেশের জোট জি৭। একই সঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব মেনে হুথিদের অস্ত্র ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়া বন্ধ করতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জোটটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা হুথিদের সব ধরনের সামরিক তৎপরতা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের আহ্বান জানান।জি৭-এর যৌথ বিবৃতিতে হুথিদের সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার পাশাপাশি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা না চালানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।একই সঙ্গে ইয়েমেন সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতে সব পক্ষকে সৎ উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে জোটটি।বিবৃতিতে ইরানের ভূমিকার বিষয়টিও আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব অনুযায়ী হুথিদের অস্ত্র ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়া বন্ধ করতে তেহরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জি৭-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।ইয়েমেনের সংঘাতের কারণে নতুন করে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংঘাত ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে হাজার হাজার মানুষ সমুদ্রপথে জিবুতিতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে হুথিদের হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবকে আত্মরক্ষামূলক সামরিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য।ফলে ইয়েমেনের সংঘাত শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ সংকটের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তার সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়ছে।জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে সামনে রেখে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও আলোচনায় এসেছে। ইরানি প্রতিনিধি দলের ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টিও কূটনৈতিক টানাপোড়েনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।একই সময়ে হোয়াইট হাউসে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিতর্ক এবং সামগ্রিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব বাজারেও পড়ছে বলে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে।জি৭-এর বিবৃতিতে সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফেরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সমাধানে কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।কারণ সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে নতুন করে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বাড়তে পারে।সৌদি আরবে হুথিদের হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেছে জি৭।হুথিদের সামরিক কর্মকাণ্ড ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।ইরানকে হুথিদের অস্ত্র ও অন্যান্য সহায়তা বন্ধ করতে তাগিদ দিয়েছে জোটটি।ইয়েমেন সংঘাতে নতুন করে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।সংকট সমাধানে সব পক্ষকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে জি৭।ইয়েমেনের সংঘাতের প্রভাব শুধু যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বেসামরিক মানুষের বাস্তুচ্যুতি, সমুদ্রপথে নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর এর প্রভাব পড়ে। তাই সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে রাজনৈতিক আলোচনার পথ তৈরি করা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।জি৭-এর বিবৃতিতে একই সঙ্গে হুথিদের হামলা বন্ধ এবং ইরানের সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে বোঝা যায়, জোটটি ইয়েমেনের সংঘাতকে শুধু স্থানীয় লড়াই হিসেবে দেখছে না; বরং এর সঙ্গে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূমিকা ও আন্তর্জাতিক নৌনিরাপত্তাকেও যুক্ত করে দেখছে। তবে পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সামরিক অবস্থানের পাশাপাশি রাজনৈতিক আলোচনায় কতটা এগোয় তার ওপর।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর