প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৩১ বিলিয়ন ডলার
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ঘর পেরিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী দেশের রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের প্রবাহও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৯ দিনে দেশে ১৮৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে এর পরিমাণ প্রায় ২২ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা।গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৯ দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৮০ লাখ ডলার, যা প্রায় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ।তবে সাম্প্রতিক কয়েক দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহে আরও গতি দেখা গেছে। ১৭ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর—এই তিন দিনে দেশে এসেছে প্রায় ১৩ কোটি ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা।চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ৭৭০ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। ১২২ টাকা দরে এর পরিমাণ প্রায় ৯৩ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা।অন্যদিকে, গত অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৬৭৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা একই বিনিময় হার ধরে প্রায় ৮২ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা।অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস ১৯ দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৯৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১১ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা।বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের এই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ।রিজার্ভের পাশাপাশি রেমিট্যান্সের এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বাড়াতে সহায়তা করে। ফলে রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখা এবং আমদানি দায় মেটানোর সক্ষমতার ওপরও প্রভাব ফেলে।তবে রিজার্ভের পরিমাণ বাড়লেই অর্থনীতির সব চাপ কেটে গেছে—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই। রিজার্ভের পাশাপাশি আমদানি ব্যয়, রপ্তানি আয়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং ডলারের বাজারে চাহিদা-জোগানের অবস্থাও সামগ্রিক বহিঃখাতের পরিস্থিতি বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ: ৩৬.৩১ বিলিয়ন ডলারবিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ: ৩১.৪৫ বিলিয়ন ডলারসেপ্টেম্বরের প্রথম ১৯ দিনে রেমিট্যান্স: ১৮৭.৭০ কোটি ডলার২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রেমিট্যান্স: ৭৭০.২০ কোটি ডলারএক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি: ১৩.৮ শতাংশরিজার্ভ বাড়া এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী হওয়া সাধারণভাবে বৈদেশিক মুদ্রার জোগানের জন্য ইতিবাচক বিষয়। তবে এর প্রভাব বাজারে কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে ডলারের চাহিদা, আমদানি ব্যয় এবং বৈদেশিক লেনদেনের অন্যান্য সূচকের ওপর।রিজার্ভের মোট অঙ্ক এবং আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতির অঙ্ক এক নয়—এই পার্থক্যটি প্রতিবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে শুধু ‘৩৬ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ’ বললে পুরো চিত্র পাওয়া যায় না; কোন হিসাব পদ্ধতিতে কত রিজার্ভ রয়েছে, সেটিও পাঠকের জন্য স্পষ্ট করা জরুরি।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর