প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সরকারি ক্রয়ে প্রতিযোগিতা বাড়াতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট সংশোধনী অনুমোদন
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষা, সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং দরপত্র প্রক্রিয়া আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদনের কথা জানানো হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক নিয়ে দেওয়া তথ্যে এসব পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করা হয়।প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে সরকারি ক্রয় চুক্তি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিধান সম্প্রসারণ, উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির আধুনিকায়ন এবং বিভিন্ন নির্ণায়কের ভিত্তিতে ক্রয় প্রস্তাব মূল্যায়নের ব্যবস্থা।তবে সরকারি ক্রয় আইন নিয়ে প্রকাশ্য সরকারি নথিতে ২০২৬ সালের সংশোধনী আইন ইতোমধ্যে অনুমোদন ও গেজেট প্রকাশের তথ্য পাওয়া যায়। ফলে ২০ সেপ্টেম্বরের কথিত সংশোধনীটি নতুন কোনো সংশোধন, পৃথক অধ্যাদেশ নাকি আগের আইনের বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত বিষয়—তা চূড়ান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।সরবরাহ করা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুযায়ী, সরকারি ক্রয় আইন সংশোধনের মাধ্যমে দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষার পাশাপাশি ক্রয়কার্যে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ, দরপত্রে প্রতিযোগিতা এবং পণ্য ও সেবার মান—এসব বিষয় ক্রয়নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।তবে সংশোধনীতে দেশীয় শিল্পের জন্য কী ধরনের নির্দিষ্ট সুবিধা, অগ্রাধিকার বা শর্ত রাখা হয়েছে, তা খসড়া অধ্যাদেশের পূর্ণাঙ্গ পাঠ ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ক্রয় চুক্তি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিধান সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির কার্যপ্রণালি আধুনিকায়নের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ রয়েছে।উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রস্তাব মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তবে এসব পরিবর্তন কীভাবে কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে সংশোধিত আইন, বিধিমালা এবং বাস্তবায়ন নির্দেশনার ওপর।বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সংশোধিত আইনে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও টেকসই ক্রয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।সরবরাহ করা তথ্যে সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে ‘রেটেড ক্রাইটেরিয়া’ বা নির্ণায়কের অনুপাতভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি রাখার কথা বলা হয়েছে।এই পদ্ধতিতে শুধু পণ্যের দাম নয়, বরং নির্ধারিত বিভিন্ন মানদণ্ডের ভিত্তিতে ক্রয় প্রস্তাব মূল্যায়ন করা যেতে পারে। যেমন—পণ্য বা সেবার গুণগত মানকারিগরি সক্ষমতাসরবরাহের সময়টেকসই ব্যবস্থাপনাপ্রস্তাবিত মূল্যের যৌক্তিকতাতবে কোন কোন নির্ণায়ক কত শতাংশ গুরুত্ব পাবে, কীভাবে নম্বর দেওয়া হবে এবং কোন ধরনের ক্রয়ে পদ্ধতিটি প্রযোজ্য হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সংশোধনী ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা পর্যালোচনা প্রয়োজন।সরবরাহ করা সংবাদে সম্পদের সুষম বিস্তারের লক্ষ্যে সীমিত দরপত্র পদ্ধতির প্রয়োগ এবং পেশাগত অসদাচরণ-সংক্রান্ত বিধান স্পষ্ট করার কথা বলা হয়েছে।এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প ক্রয়ব্যবস্থার সংস্থান রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। জরুরি ক্রয়ের ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন থাকলেও স্বচ্ছতা, নথিপত্র সংরক্ষণ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।কোন পরিস্থিতিকে জরুরি ক্রয় হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং এ ক্ষেত্রে কী ধরনের অনুমোদন বা তদারকি প্রয়োজন হবে, তা সংশ্লিষ্ট আইনি বিধানের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়ার কথা।বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬-এর গেজেট প্রকাশের তথ্য রয়েছে। বিপিপিএর তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের সংশোধনী বিল ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে পাস হয় এবং ১০ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর আইনটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।এ ছাড়া সরকারি নথিতে ২০২৫ সালের সংশোধনী অধ্যাদেশ এবং পরবর্তী পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস, ২০২৫ কার্যকর হওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।সুতরাং, ২০ সেপ্টেম্বরের মন্ত্রিসভা বৈঠকসংক্রান্ত দাবিটি প্রকাশের আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মূল সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও সংশোধনী খসড়ার নম্বর যাচাই করা প্রয়োজন। এতে আগের আইন এবং নতুন প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হবে।দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষা ও সরকারি ক্রয়ে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্য উল্লেখ করা হয়েছে।উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি আধুনিকায়নের কথা বলা হয়েছে।রেটেড ক্রাইটেরিয়ার ভিত্তিতে ক্রয় প্রস্তাব মূল্যায়নের প্রস্তাব রয়েছে।সীমিত দরপত্র ও জরুরি ক্রয়ব্যবস্থা-সংক্রান্ত বিধান স্পষ্ট করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।২০২৬ সালের সরকারি ক্রয় আইন ইতোমধ্যে গেজেট হয়েছে কি না এবং নতুন খসড়ার সঙ্গে তার সম্পর্ক কী—তা যাচাই করা জরুরি।সরকারি ক্রয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় করা হয়। তাই ক্রয়প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছতা, গুণগত মান এবং সঠিক মূল্য নিশ্চিত করা জনগণের অর্থের কার্যকর ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত।ক্রয় মূল্যায়নে শুধু কম দাম নয়, পণ্যের মান, সরবরাহের সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতার মতো বিষয় বিবেচনা করা হলে ক্রয়ের ফলাফল মূল্যায়নের সুযোগ বাড়তে পারে। তবে এসব পরিবর্তন বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে আইন প্রয়োগ, নজরদারি ও জবাবদিহির ওপর।সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় পরিবর্তনের সংবাদ প্রকাশের সময় দুটি বিষয় আলাদা রাখা জরুরি—একটি হলো মন্ত্রিসভায় খসড়া অনুমোদনের তথ্য, অন্যটি হলো সংশোধিত আইন বাস্তবে কার্যকর হওয়ার আইনি অবস্থান। সরকারি নথিতে আগের সংশোধনী আইন গেজেট হওয়ার তথ্য থাকায় নতুন প্রস্তাবের সঠিক পরিচয় ও পরিধি যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে পাঠকের কাছে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর