প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন, শিশু ওয়ার্ডে আতঙ্ক; নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় আগুন লাগার ঘটনায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার সন্ধ্যায় হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয় শিশু ওয়ার্ডে।
খবর পেয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ভবনের ভেতর থেকে তখনও প্রচুর ধোঁয়া বের হচ্ছিল বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
ময়মনসিংহ সদর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জুলহাজ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলার শিশু ওয়ার্ডে হঠাৎ আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়।
আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালে থাকা রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। বিশেষ করে শিশু ওয়ার্ডে থাকা রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা জানান, খবর পাওয়ার পর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফায়ার স্টেশন থেকে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এলেও ভবনের ভেতরে ধোঁয়া রয়ে গেছে। ধোঁয়া পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ করছেন।
ময়মনসিংহ সদর ফায়ার স্টেশন থেকেও একটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে বলে জানান স্টেশন অফিসার জুলহাজ উদ্দিন।
অগ্নিকাণ্ডের তাৎক্ষণিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ধোঁয়া পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।
প্রাথমিকভাবে আগুনে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো রোগী-স্বজন আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
গুরুত্বপূর্ণ দিক
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় আগুন লাগে।
অগ্নিকাণ্ডের স্থান ছিল শিশু ওয়ার্ড।
সন্ধ্যা ৬টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়।
বাকৃবি ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিশ্চিত নয়।
হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড সাধারণ ভবনের আগুনের চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এখানে এমন রোগী থাকেন, যাদের অনেকের পক্ষে দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে বের হওয়া সম্ভব নয়। শিশু ওয়ার্ডের ক্ষেত্রে ঝুঁকিটা আরও বেশি—একজন রোগীকে সরানোর সময় তার স্বজন, চিকিৎসক ও নার্সদেরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হয়।
এ ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে হাসপাতালের মতো জায়গায় আগুন লাগার পর ধোঁয়া দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা এবং রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি কতটা জরুরি, ঘটনাটি আবারও তা সামনে আনল।
নিজস্ব পর্যবেক্ষণে, হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেই যথেষ্ট নয়; কোন পথে রোগী সরানো হবে, কার দায়িত্ব কী এবং আগুন লাগলে কে দ্রুত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করবে—এসব নিয়ে নিয়মিত মহড়াও থাকা দরকার। বিশেষ করে শিশু ওয়ার্ড, আইসিইউ ও জরুরি বিভাগে এমন প্রস্তুতি আরও গুরুত্বপূর্ণ।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে আগুনের আতঙ্ক রোগী ও স্বজনদের জন্য খুবই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হতে পারে। তাই এমন ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে একসঙ্গে সবাই ছুটে বের হওয়ার চেষ্টা না করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিসের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি। একই সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উচিত ঘটনার পর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক সংযোগ ও জরুরি বহির্গমন পথ ভালোভাবে পরীক্ষা করা।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর