প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নতুন পে-স্কেলের গেজেট কেন আটকে আছে অর্থ মন্ত্রণালয়ে, জানালেন সংশ্লিষ্টরা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
মন্ত্রিসভায় নতুন পে-স্কেল অনুমোদনের প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশ হয়নি। দীর্ঘ ১০ বছর পর নতুন বেতন কাঠামোর অপেক্ষায় থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গেজেট আটকে নেই; বরং প্রজ্ঞাপনের খসড়া চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। সামরিক-বেসামরিক বিভিন্ন খাতের বেতন, ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা কীভাবে নতুন কাঠামোর আওতায় আসবে, তা নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করতেই সময় লাগছে।গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের পর গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। কিন্তু অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খসড়াটি এখনো আইন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায়নি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রজ্ঞাপনের খসড়া বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছেই প্রক্রিয়াধীন। এটি কোনো ফাইল আটকে রাখার বিষয় নয়। বরং বেতন কাঠামোর প্রতিটি ধাপ, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতি স্পষ্ট করে একটি ত্রুটিহীন খসড়া তৈরির কাজ চলছে।নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শুধু জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ করলেই কাজ শেষ হচ্ছে না। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে—সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী;বিজিবি ও পুলিশ;সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান;বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান;সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা।প্রজ্ঞাপনে কোন খাতে কীভাবে নতুন কাঠামো কার্যকর হবে, কার বেতন কীভাবে নির্ধারিত হবে এবং কোন নির্দেশনা কোন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে—এসব বিষয় নির্দিষ্ট করতে হচ্ছে। এখানেই মূলত সময় লাগছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।সাবেক সচিব ড. মো. আনোয়ার উল্ল্যাহর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মন্ত্রিসভায় সাধারণত গ্রেডভিত্তিক বেতন বৃদ্ধির মূল নীতিগত প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। কিন্তু বাস্তবে তা কার্যকর করতে প্রয়োজন হয় বিস্তারিত হিসাব, বাস্তবায়ন নির্দেশনা এবং বিভিন্ন সংবিধিবদ্ধ আদেশের খসড়া।অর্থ মন্ত্রণালয়কে এসব বিষয় প্রস্তুত করার পর খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ে দেখা হয়, প্রস্তাবিত কাঠামোর কোনো অংশ সংবিধান, বিদ্যমান চাকরি আইন বা প্রচলিত বিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না।ভেটিং শেষ হলে চূড়ান্ত খসড়া সরকারি মুদ্রণালয় বা বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। এরপর মুদ্রণ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।অর্থাৎ মন্ত্রিসভার অনুমোদন হলো নীতিগত সিদ্ধান্তের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ; কিন্তু সেটি গেজেট প্রকাশের শেষ ধাপ নয়।অষ্টম জাতীয় পে-স্কেলের উদাহরণও সামনে আনছেন অভিজ্ঞ আমলারা। ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছিল ৭ সেপ্টেম্বর। এরপর প্রায় সাড়ে তিন মাস পর, ১৫ ডিসেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।এই ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদারসহ অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা মনে করছেন, এবার মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের দুই সপ্তাহের মধ্যে গেজেট প্রকাশ না হওয়াকে অস্বাভাবিক বলা ঠিক হবে না।আইন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে খসড়া ভেটিংয়ের জন্য পাওয়া গেলে তারা দ্রুত কাজ শুরু করবেন। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রও আশা করছে, প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষ করে শিগগিরই নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করা সম্ভব হবে।তবে গেজেট প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো জানানো হয়নি। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের অপেক্ষা আপাতত থাকছেই।গুরুত্বপূর্ণ দিকনতুন পে-স্কেল ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে।প্রায় দুই সপ্তাহ পরও প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হয়নি।খসড়াটি এখনো আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পৌঁছায়নি।সামরিক-বেসামরিক বিভিন্ন খাতের বেতন ও ভাতা নির্ধারণের কাজ চলছে।ভেটিং ও মুদ্রণ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশ হবে।সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পে-স্কেল শুধু বেতন বাড়ার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িত পরিবার, ঋণ, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক পরিকল্পনা। তাই গেজেট প্রকাশে দেরি হলে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।তবে একই সঙ্গে প্রজ্ঞাপনের খসড়ায় ভুল থাকলে পরে বেতন নির্ধারণ, ভাতা পাওয়া বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বৈষম্য নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই দ্রুততার পাশাপাশি নির্ভুলতাও জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত, গেজেট প্রকাশের সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেওয়া এবং প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়মিত জানানো।অরিজিনাল পর্যবেক্ষণ: পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু বেতন বাড়ানোর হিসাব নয়; বরং একই সিদ্ধান্তকে সামরিক, বেসামরিক, পুলিশ, ব্যাংক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন ভিন্ন কাঠামোর সঙ্গে মিলিয়ে কার্যকর করা। তাই এই বিলম্বকে শুধু প্রশাসনিক ধীরগতি হিসেবে দেখলে পুরো প্রক্রিয়ার জটিলতা ধরা পড়ে না।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর