প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এশিয়ান গেমসে উত্তর কোরিয়ার কাছে বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ১০-০ গোলের হার
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
এশিয়ান গেমসে শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে পিটার বাটলারের দল।শুধু বড় হারই নয়, বাংলাদেশের নারী ফুটবল ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় পরাজয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে প্রথম ম্যাচেই শক্তির ব্যবধানটা স্পষ্ট করে দিয়েছে উত্তর কোরিয়া।ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে উত্তর কোরিয়া। বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে একের পর এক চাপে ফেলে বিরতির আগেই সাতবার জালে বল পাঠায় তারা।ম্যাচের ১০ মিনিটে রিয়ং জংয়ের জোড়া গোলে দ্রুত ব্যবধান বাড়ায় উত্তর কোরিয়া। দুই মিনিট পরই হোয়াং ইউ ইয়ং গোল করে স্কোর ৩-০ করেন।এরপর ১৮ ও ৩৫ মিনিটে চ্যা আন ইয়ংয়ের জোড়া গোল। ৪০ ও ৪৩ মিনিটে কিম কিয়ং ইয়ং আরও দুইবার বাংলাদেশের জালে বল পাঠালে প্রথমার্ধ শেষ হয় ৭-০ ব্যবধানে।বাংলাদেশের জন্য তখন মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় ম্যাচের বাকি সময়টুকু সামলে ওঠা।দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ কিছুটা গুছিয়ে খেলার চেষ্টা করলেও উত্তর কোরিয়ার চাপ পুরোপুরি সামলাতে পারেনি।বিরতির পর আরও তিনবার বাংলাদেশের জালে বল পাঠায় উত্তর কোরিয়া। রিং সং, জং কুম ও হান জিন হং স্কোরশিটে নাম লেখান।শেষ পর্যন্ত ১০-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে উত্তর কোরিয়া।উত্তর কোরিয়ার নারী ফুটবলের শক্তি নতুন নয়। বিশেষ করে বয়সভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দলটি বেশ কিছু সাফল্য পেয়েছে। সেই ধারাবাহিকতার ছাপ দেখা গেছে বাংলাদেশের বিপক্ষের ম্যাচেও।এশিয়ান গেমসেও উত্তর কোরিয়া স্বর্ণপদকের অন্যতম দাবিদার হিসেবে এসেছে। ফলে কাগজে-কলমে দুই দলের শক্তির ব্যবধান ছিল স্পষ্ট। তবে বাংলাদেশের জন্য ১০ গোলের হারটি শুধু স্কোরলাইন নয়, রক্ষণ ও দলগত প্রস্তুতির জায়গাতেও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।বাংলাদেশের সামনে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকলেও কাজটা সহজ নয়। আগামী বৃহস্পতিবার একই মাঠে গ্রুপের আরেক শক্তিশালী দল দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে যে জায়গাগুলোতে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে, সেগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধান করা জরুরি। বিশেষ করে প্রতিপক্ষের চাপের মধ্যে বল ধরে রাখা, রক্ষণে সমন্বয় এবং দ্রুত আক্রমণ ঠেকানোর সক্ষমতা বাড়ানো না গেলে পরের ম্যাচেও কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।গুরুত্বপূর্ণ দিকফল: বাংলাদেশ ০-১০ উত্তর কোরিয়াপ্রথমার্ধ: বাংলাদেশ ০-৭ উত্তর কোরিয়াবাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হার: এই ম্যাচের ১০-০ পরাজয়পরবর্তী ম্যাচ: বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষেএকটি ম্যাচে বড় হার মানেই একটি দলের সামগ্রিক সক্ষমতার শেষ কথা নয়। তবে ১০ গোলের ব্যবধানকে হালকাভাবে দেখারও সুযোগ নেই। এই ম্যাচ থেকে বাংলাদেশের কোচিং স্টাফের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে কোথায় পরিকল্পনা ভেঙে পড়েছে, সেটি খুঁজে বের করা।অরিজিনাল পর্যবেক্ষণ: এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হয়তো স্কোরলাইন নয়, বরং বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক নারী ফুটবলে প্রতিযোগিতার মান কতটা দ্রুত বাড়ছে, সেটি। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সাফল্য আর এশিয়ার শীর্ষ দলগুলোর সঙ্গে লড়াই—এই দুই স্তরের ব্যবধান কমাতে শুধু প্রতিভাবান খেলোয়াড় নয়, দীর্ঘমেয়াদি উচ্চমানের ম্যাচ, বয়সভিত্তিক উন্নয়ন ও শক্তিশালী রক্ষণভিত্তিক দল তৈরির প্রয়োজন আছে।তাই উত্তর কোরিয়ার কাছে এই হারকে শুধু ‘১০ গোলের লজ্জা’ হিসেবে দেখলে শিক্ষাটা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। বরং কোন জায়গায় ব্যবধান তৈরি হয়েছে, সেটি বের করে পরের ম্যাচেই তার কিছুটা হলেও উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করাই এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর