প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর বৈঠক স্থগিত
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে অনুষ্ঠেয় আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত করেছে ওমান। সোমবার ওমানের সালালায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ পরিচালনা, জাহাজ চলাচল এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। তবে কোন কোন দেশ এতে অংশ নেবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।ওমান নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, গঠনমূলক আলোচনার উপযোগী পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে বৈঠকটি পরবর্তী সময়ে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতায় অবদান রাখে—এমন সংলাপ এগিয়ে নিতে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।তবে বৈঠকটি কবে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানানো হয়নি।ইরান জানিয়েছিল, ইরাক ও উপসাগরীয় দেশগুলো বৈঠকে অংশ নেবে। কিন্তু অঞ্চলটির কোনো দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।এদিকে বাহরাইন আগেই জানিয়ে দিয়েছে, তারা বৈঠকে অংশ নেবে না। ফলে বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সংখ্যা ও প্রতিনিধিত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী নিয়ে যেকোনো আলোচনা আঞ্চলিক রাজনীতি, নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই এ ধরনের বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ।হরমুজ প্রণালী মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। বিশ্বের বড় একটি অংশের জ্বালানি সরবরাহ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল।প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ কমে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে জ্বালানির দাম, পরিবহন ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে।যুদ্ধের আগে এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের পর হরমুজ প্রণালী ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে অনুমতি নেওয়া এবং ব্যবহারের জন্য সার্ভিস ফি বা মাশুল চালুর মতো বিষয় নিয়েও আলোচনা চলছে বলে দাবি করা হয়েছে।ইরানের শর্ত না মানা জাহাজগুলো হামলার ঝুঁকিতে পড়ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের প্রভাব কমাতে যুক্তরাষ্ট্রও বিভিন্ন সময়ে সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।তবে এসব অভিযোগ ও দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম আরও বাড়তে পারে। কারণ, এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হবে।এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে ওঠার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়লে আমদানি ব্যয়, পরিবহন খরচ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়তে পারে।গুরুত্বপূর্ণ দিকহরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর বৈঠক স্থগিত করেছে ওমান।বৈঠকে জাহাজ চলাচল, নিরাপত্তা ও প্রণালীর ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।বাহরাইন বৈঠকে অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে।হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতা বাড়লে তেল ও গ্যাস সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে।জ্বালানির দাম বাড়লে বিশ্ববাজার ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ তৈরি হতে পারে।হরমুজ প্রণালী নিয়ে উত্তেজনার খবর ছড়িয়ে পড়লে অনেক সময় বাজারে অযথা আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। তাই যাচাই ছাড়া তেলের দাম, জ্বালানি সংকট বা যুদ্ধের গুজব ছড়ানো উচিত নয়। পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুসরণ করা জরুরি।হরমুজ প্রণালী নিয়ে বৈঠক স্থগিত হওয়া শুধু একটি কূটনৈতিক ঘটনা নয়; এর সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির বিষয়ও জড়িত। আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে গেলে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। তাই আঞ্চলিক দেশগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে দ্রুত সংলাপের পরিবেশ তৈরি করাই উত্তেজনা কমানোর সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর