প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দুর্গাপূজায় বাংলাদেশি ইলিশ চায় ভারত, রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রপ্তানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ভারতের মৎস্য আমদানিকারকরা। কলকাতার ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়ে আবারও ইলিশ আমদানির সুযোগ দেওয়ার আবেদন করেছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) পাঠানো ওই চিঠিতে বাংলাদেশি ইলিশ আমদানির দীর্ঘদিনের সম্পর্ক তুলে ধরে স্থায়ীভাবে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই এ তথ্য জানিয়েছে।
কলকাতার ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চিঠিতে বলা হয়েছে, সংগঠনটির সদস্যরা ১৯৯৬ সাল থেকে বেনাপোল ও আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে নিয়মিত ইলিশ আমদানি করে আসছেন।
তবে ২০১২ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ইলিশ রপ্তানি নিষিদ্ধ করার পর থেকেই তারা এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ, ভারতের আমদানিকারকদের এবারের আবেদন নতুন কোনো দাবি নয়; দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা তাদের দাবিরই আরেকটি প্রকাশ।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে প্রতি বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে মাত্র এক মাসের বিশেষ সময়সীমায় বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
আমদানিকারকদের দাবি, এই সীমিত সময়ের অনুমতি ব্যবসায়িকভাবে প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না। এ কারণে তারা শুধু পূজার সময় বিশেষ অনুমতি নয়, বরং ইলিশ রপ্তানির ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।
তবে এই চিঠি ভারতের আমদানিকারকদের অনুরোধ। বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা চিঠিতে বলা হয়নি।
ভারতের আমদানিকারকরা তাদের আবেদনে দুই বাংলার অভিন্ন সংস্কৃতি, ভাষা ও খাদ্য ঐতিহ্যের বিষয়টিও সামনে এনেছেন।
তাদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আসাম ও ত্রিপুরাতেও বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশ অত্যন্ত জনপ্রিয়। তাই দুই দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও খাদ্যসম্পর্কের কথা বিবেচনা করে ইলিশ রপ্তানির সুযোগ বাড়ানোর আবেদন করেছে তারা।
চিঠিতে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, ইলিশ রপ্তানির ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বাংলাদেশের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে।
ইলিশ শুধু একটি জনপ্রিয় মাছ নয়, বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাস, অর্থনীতি ও জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গেও এটি গভীরভাবে যুক্ত। ফলে বিদেশে ইলিশ রপ্তানির প্রশ্নে দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ও ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
একদিকে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের ইলিশের চাহিদা রয়েছে, অন্যদিকে দেশের বাজারে সরবরাহ ও দাম নিয়েও ভোক্তাদের আগ্রহ রয়েছে। তাই রপ্তানি বাড়ানোর যেকোনো সিদ্ধান্তে দুই দিকের ভারসাম্য বিবেচনা করতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ দিক
দুর্গাপূজা সামনে রেখে ইলিশ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন করেছে ভারতের আমদানিকারকরা।
কলকাতার ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছে।
১৯৯৬ সাল থেকে বেনাপোল ও আখাউড়া দিয়ে বাংলাদেশি ইলিশ আমদানির কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।
২০১৯ সাল থেকে পূজায় সীমিত সময়ের বিশেষ অনুমতি দেওয়া হলেও এবার স্থায়ীভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি উঠেছে।
বাংলাদেশের মানুষের কাছে ইলিশের দাম ও বাজারে সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিদেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য মাছের প্রাপ্যতা ও দামের ওপর কী প্রভাব পড়বে—এ প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে।
মূল পর্যবেক্ষণ: ভারতের আমদানিকারকদের এবারের চিঠি মূলত বাজারের চাহিদার একটি বার্তা। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য সিদ্ধান্তের জায়গাটি শুধু রপ্তানি আয় বা ভারতের চাহিদা দিয়ে নির্ধারণ করা যাবে না। দেশের বাজারে ইলিশের সরবরাহ, সাধারণ মানুষের নাগালের দাম এবং জেলেদের ন্যায্য আয়—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করেই যেকোনো রপ্তানি নীতি ঠিক করা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর