প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৯
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
দেশজুড়ে হামের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯ জনে।একই সময়ে নতুন করে ৮৫৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এর আগে শুক্রবারের প্রতিবেদনে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়েছিল।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮২২ জনে।এ সময়ে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৯৬৭ জন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা নিশ্চিত হাম শনাক্ত রোগীর তুলনায় অনেক বেশি। ফলে উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের নজরদারি ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে এ সময়ের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭১ জন।তবে চিকিৎসা শেষে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৬৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এতে বোঝা যায়, বিপুলসংখ্যক রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং তাদের বড় একটি অংশ সুস্থ হয়ে ফিরেছেন।তবু প্রতিদিন নতুন করে আক্রান্ত ও মৃত্যুর খবর আসায় পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৫৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য পরিস্থিতির ধারাবাহিক চাপের দিকটি তুলে ধরছে।বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকায় জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি, কাশি, সর্দি বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি—স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে ‘হাম ও এর উপসর্গ’ এবং ‘নিশ্চিত হাম’ আলাদা হিসাব হিসেবে দেওয়া হয়েছে। তাই উপসর্গযুক্ত সব রোগীকেই নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।গুরুত্বপূর্ণ দিক
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু।
১৫ মার্চ থেকে মোট মৃত্যু ১ হাজার ৯ জন।
নতুন করে ৮৫৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।
মোট উপসর্গযুক্ত আক্রান্ত ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮২২ জন এবং নিশ্চিত হাম আক্রান্ত ১৯ হাজার ৯৬৭ জন।
হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭১ জন, সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৬৪ জন।হামের মতো সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে শুধু আক্রান্তের সংখ্যা নয়, প্রতিদিন নতুন রোগী ও মৃত্যুর প্রবণতাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই পরিবারে কারও হামসদৃশ উপসর্গ দেখা দিলে তাকে অন্যদের থেকে কিছুটা আলাদা রাখা, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
মূল পর্যবেক্ষণ: এই প্রতিবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক শুধু মৃত্যুর সংখ্যা নয়; দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক মানুষ হাম বা হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার বিষয়টিও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বড় চাপের ইঙ্গিত দেয়। আক্রান্তের পাশাপাশি নতুন সংক্রমণের গতি, নিশ্চিত হাম শনাক্তের হার এবং মৃত্যুর কারণ—এই তিনটি সূচক নিয়মিত বিশ্লেষণ করলেই পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর