প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নবম পে-স্কেলে অনলাইনেই নির্ধারণ হবে বেতন, ২০ গ্রেডে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নে আরেক ধাপ এগিয়েছে সরকার। নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ের আইনগত ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। ভেটিং শেষ হলে গেজেট প্রকাশের পর বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এবারের পে-স্কেলে বড় পরিবর্তন আসছে বেতন নির্ধারণের পদ্ধতিতে। সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম iBAS++-এ চাকরিজীবীদের তথ্য হালনাগাদ করা হলে সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন বেতন নির্ধারণের ব্যবস্থা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই থাকছে। সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডে মূল বেতন হবে ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে বলে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে।
নতুন ব্যবস্থায় একজন সরকারি চাকরিজীবীর বেতন নির্ধারণের জন্য তাঁর চাকরিসংক্রান্ত তথ্য iBAS++-এ সঠিকভাবে থাকতে হবে।
এর মধ্যে থাকবে—
পদ ও গ্রেড
চাকরিতে যোগদানের তারিখ
বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট
পদোন্নতির তথ্য
উচ্চতর গ্রেডসংক্রান্ত তথ্য
তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর সফটওয়্যার নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী মূল বেতন এবং প্রযোজ্য ভাতা নির্ধারণ করবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এর ফলে প্রচলিত পদ্ধতিতে কাগজপত্র নিয়ে বারবার বেতন পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজন কমতে পারে। একই সঙ্গে চাকরিজীবীরাও অনলাইনে নিজেদের বেতন কাঠামো ও প্রাপ্যতা সম্পর্কে তথ্য দেখতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত নতুন জাতীয় পে-স্কেলে গ্রেডের সংখ্যা বাড়ানো বা কমানোর পরিবর্তে ২০টি গ্রেড রাখার কথা বলা হয়েছে।
গ্রেডপ্রস্তাবিত মূল বেতন২০তম গ্রেড২০,০০০ টাকা১ম গ্রেড১,৫৬,০০০ টাকা
অর্থাৎ প্রস্তাবিত কাঠামোতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা, আর সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
তবে কোন পদ কোন গ্রেডে থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী মূল বেতনের পাশাপাশি ঠিক কী পরিমাণ ভাতা বা অন্যান্য সুবিধা পাবেন, তা বাস্তবায়নের বিস্তারিত বিধান ও সংশ্লিষ্ট এসআরওর ওপর নির্ভর করবে।
প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামোর মূল বিষয়গুলো কার্যকর হবে। তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বাহিনীর কাঠামো এক নয়। তাই বাস্তবায়নের বিস্তারিত বিধান আলাদা সাতটি এসআরওতে নির্ধারণ করা হবে বলে তথ্যটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসআরওগুলো হবে—
বেসামরিক প্রশাসন
পুলিশ বিভাগ
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)
সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান
স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান
সশস্ত্র বাহিনী
বিচার বিভাগ
এসব এসআরওতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা কীভাবে কার্যকর হবে, তার বিস্তারিত নির্দেশনা থাকবে।
গুরুত্বপূর্ণ দিক
নতুন পে-স্কেলের খসড়া প্রজ্ঞাপন আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে।
বিদ্যমান ২০টি গ্রেড রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
iBAS++-এ তথ্য হালনাগাদ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেতন নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিজিটাল ব্যবস্থায় বেতন নির্ধারণের বড় সুবিধা হতে পারে হিসাবের ভুল কমানো। একই তথ্য বারবার হাতে লিখে বা আলাদা কাগজে হিসাব করার প্রয়োজন কমলে ভুলের সুযোগও কমতে পারে। একই সঙ্গে একই সুবিধা একাধিকবার পাওয়ার ঘটনা বা অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের ঝুঁকি কমানোর সুযোগ থাকবে।
তবে এর উল্টো দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। সফটওয়্যার যতই স্বয়ংক্রিয় হোক, শুরুতে দেওয়া তথ্য ভুল হলে ফলাফলও ভুল হবে। তাই একজন চাকরিজীবীর গ্রেড, যোগদানের তারিখ, ইনক্রিমেন্ট বা পদোন্নতির তথ্য সঠিকভাবে আপডেট করা এই ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে।
নিজস্ব পর্যবেক্ষণে, নতুন পদ্ধতিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন শুধু বেতন বাড়া নয়; বেতন নির্ধারণের পুরো প্রক্রিয়াটিই আরও বেশি ‘ডেটা-নির্ভর’ হয়ে উঠবে। ফলে কর্মীদের চাকরির তথ্য যত বেশি নির্ভুলভাবে ডিজিটাল ব্যবস্থায় থাকবে, ভবিষ্যতে বেতন, ঋণ, জিপিএফ বা অন্যান্য আর্থিক হিসাব পরিচালনাও তত সহজ হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলেও বেতন বিল, জিপিএফ, সরকারি ঋণ, আয়কর হিসাব এবং ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার বা EFT-এর মাধ্যমে বেতন-পেনশন দেওয়ার বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলো iBAS++-এর আওতায় বহাল থাকবে বলে তথ্যটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ নতুন বেতন কাঠামো এলেও সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে iBAS++-এর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের কাছে পে-স্কেলের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—নতুন কাঠামো কার্যকর হলে হাতে পাওয়া বেতন কত বাড়বে?
এখানে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার, মূল বেতন আর হাতে পাওয়া মোট বেতন এক বিষয় নয়। মূল বেতনের সঙ্গে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা যোগ হতে পারে, আবার কর বা অন্যান্য কর্তনের কারণে হাতে পাওয়া অর্থ ভিন্ন হতে পারে। তাই শুধু গ্রেড দেখে চূড়ান্ত মাসিক বেতন হিসাব করা ঠিক হবে না।
প্রজ্ঞাপন ও সাতটি এসআরও প্রকাশের পর কোন পদে কত মূল বেতন, কী হারে ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা কার্যকর হবে—এসব বিষয় আরও পরিষ্কার হবে।
প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। তবে বাস্তবে এটি কার্যকর করতে প্রজ্ঞাপনের চূড়ান্ত অনুমোদন, আইনগত ভেটিং, গেজেট প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট এসআরও জারি—এসব ধাপ শেষ করতে হবে।
অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন শ্রেণির চাকরিজীবীর কাঠামোগত পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে পৃথক এসআরও তৈরির কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন ও এসআরওতে কী থাকছে। খসড়ায় থাকা বেতন কাঠামো এবং চূড়ান্তভাবে জারি হওয়া বিধানের মধ্যে কোনো পরিবর্তন আসে কি না, সেটিও নজরে থাকবে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর