প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বলিউডকে ‘ভেড়ার পাল’ বলে কটাক্ষ কারিনার, ‘অ্যানিম্যাল’ হিটের পর অন্ধ অনুকরণের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
একটি সিনেমা সফল হলেই তার ফর্মুলা অনুসরণ করে একের পর এক ছবি বানানোর প্রবণতা—বলিউডে এমন অভিযোগ নতুন নয়। এবার সেই প্রবণতা নিয়েই সরাসরি কথা বললেন অভিনেত্রী কারিনা কাপুর।নিজের নতুন সিনেমা ‘দায়রা’র প্রচারে এসে ভাই রণবীর কাপুর অভিনীত ‘অ্যানিম্যাল’-এর প্রসঙ্গ টেনে বলিউডের একটি অংশকে ‘ভেড়ার পালের মতো অন্ধ অনুকরণ’ করার প্রবণতায় কটাক্ষ করেছেন তিনি।কারিনার বক্তব্য, দর্শককে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। ভালো সিনেমা হলে দর্শক তা বুঝতে পারেন এবং দেখতে চান। তাই শুধু একটি সফল ছবির ফর্মুলা অনুসরণ না করে নির্মাতাদের নতুন গল্প ও ভিন্ন ধরনের ভাবনার দিকে নজর দেওয়া উচিত।২০২৩ সাল থেকে হিন্দি সিনেমায় বড় পর্দার শক্তিশালী পুরুষ চরিত্র, ব্যাপক অ্যাকশন এবং ‘আলফা মেল’ ধাঁচের গল্পের উপস্থিতি চোখে পড়েছে। ‘পাঠান’, ‘জওয়ান’, ‘গদর ২’ ও ‘অ্যানিম্যাল’-এর মতো সিনেমা বক্স অফিসে বড় সাফল্য পাওয়ার পর এই ধরনের গল্প নিয়ে দর্শক ও চলচ্চিত্রাঙ্গনে আলোচনা আরও বেড়েছে।পরবর্তী সময়েও একাধিক অ্যাকশননির্ভর সিনেমায় একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। এর মধ্যেই প্রশ্ন উঠছে—একটি ফর্মুলা সফল হলেই কি অন্য নির্মাতারাও একই পথে হাঁটছেন?কারিনা এই জায়গাতেই আপত্তি তুলেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘অ্যানিম্যাল’ সফল হওয়ার পর সবাই যদি হিংসা ও বিদ্বেষকে কেন্দ্র করে সিনেমা বানাতে শুরু করেন, তাহলে সেটি সৃজনশীলতার জায়গা থেকে পিছিয়ে যাওয়ার লক্ষণ।কারিনার মতে, বর্তমান সময়ের দর্শক আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। তারা শুধু বড় তারকা বা চমক দেখেই সিনেমা বেছে নেন না; গল্প, ট্রেলার ও বিষয়বস্তুও বিবেচনা করেন।তিনি মনে করেন, সিনেমার বিষয় এখন শুধু প্রচলিত রোমান্টিক গল্পে আটকে নেই। দর্শক ভিন্ন ধরনের গল্প গ্রহণ করছেন। একই সঙ্গে পর্দায় হিংসার আধিক্যও দেখা যাচ্ছে।এখানে কারিনার বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—দর্শকের চাহিদা আর নির্মাতাদের অনুমান সবসময় এক নয়। কোনো একটি সিনেমা জনপ্রিয় হলেই সেই সাফল্যের কারণকে একমাত্র সূত্র ধরে পরের ছবি তৈরি করলে প্রত্যাশিত ফল নাও আসতে পারে।কারিনা অবশ্য পুরো বলিউডকে একই কাঠগড়ায় দাঁড় করাননি। তার মতে, এখনও এমন পরিচালক রয়েছেন যারা ভিন্ন ধরনের গল্প নিয়ে কাজ করছেন এবং দর্শকদের নতুনভাবে ভাবার সুযোগ দিচ্ছেন।এ ধরনের সিনেমার আলাদা দর্শকও তৈরি হচ্ছে। ফলে শুধু একটি নির্দিষ্ট ফর্মুলাকে নিরাপদ মনে করে বারবার ব্যবহার করার বদলে নির্মাতাদের নিজেদের গল্প বলার ধরন ও সৃজনশীলতার ওপর আস্থা রাখা প্রয়োজন।এটি শুধু বলিউডের ব্যবসায়িক হিসাবের বিষয় নয়। একই ধরনের গল্প বারবার সামনে এলে দর্শকের আগ্রহ কমে যেতে পারে। বিপরীতে নতুন গল্প, নতুন চরিত্র ও নতুন নির্মাণশৈলী চলচ্চিত্রের বৈচিত্র্য বাড়াতে পারে।বলিউডে বড় তারকার সিনেমা সাধারণত দর্শকের আগ্রহ তৈরি করে। কিন্তু বর্তমান সময়ে দর্শকের হাতে সিনেমা বাছাইয়ের সুযোগও বেড়েছে। ট্রেলার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা, রিভিউ এবং দর্শকের প্রতিক্রিয়া মুক্তির আগেই একটি সিনেমার প্রতি আগ্রহ তৈরি বা কমিয়ে দিতে পারে।তাই কারিনার মন্তব্যকে শুধু একজন অভিনেত্রীর সমালোচনা হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টি ধরা পড়ে না। এর মধ্যে চলচ্চিত্রের সৃজনশীল বৈচিত্র্য বনাম সফল ফর্মুলা অনুসরণের পুরোনো বিতর্কটিও রয়েছে।অন্যদিকে, একটি সিনেমার সাফল্যের পেছনে শুধু হিংসা বা অ্যাকশনই কাজ করে—এমন সিদ্ধান্তও সরলীকরণ হবে। তারকা, গল্প, নির্মাণ, প্রচারণা, দর্শকের সময়ের চাহিদা এবং মুক্তির সময়—সব মিলিয়েই একটি সিনেমার ফলাফল তৈরি হয়।গুরুত্বপূর্ণ দিককারিনা কাপুর বলিউডে অন্ধভাবে সফল ফর্মুলা অনুসরণের প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।‘অ্যানিম্যাল’-এর সাফল্যের পর হিংসাত্মক কনটেন্টের বাড়তি প্রবণতা নিয়ে মন্তব্য করেছেন তিনি।তার মতে, দর্শক এখন অনেক বেশি সচেতন এবং ট্রেলার দেখেও সিনেমা বাছাই করেন।ভিন্নধারার সিনেমার জন্যও আলাদা দর্শক রয়েছে বলে মনে করেন কারিনা।দর্শকের বড় একটি অংশ এখন সিনেমায় শুধু বড় বাজেট বা তারকা দেখতে চান না; গল্প ও বিনোদনের পাশাপাশি নতুন কিছু পাওয়ার প্রত্যাশাও থাকে। তাই নির্মাতাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে—জনপ্রিয় ফর্মুলার পুনরাবৃত্তি না করে দর্শকের পরিচিত চাহিদাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা।কারিনার ‘ভেড়ার পাল’ মন্তব্যটি আসলে বলিউডের একটি বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে—একটি সিনেমার সাফল্যকে অনুসরণ করা আর সেই সাফল্যের কারণ বুঝে নতুন কিছু তৈরি করা—দুটো কি এক? দর্শক যদি বারবার একই ধরনের গল্প দেখতে পান, তাহলে সাময়িকভাবে ব্যবসা হলেও দীর্ঘমেয়াদে চলচ্চিত্রের বৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এখানেই নতুন গল্প বলার সাহসী সিদ্ধান্ত নির্মাতাদের জন্য বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর