প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ফোল্ডেবল আইফোন এনে বড় ঝুঁকি নিল অ্যাপল
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
আইফোনের ইতিহাসে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটল অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানের নতুন প্রধান নির্বাহী জন টার্নাস দায়িত্ব নেওয়ার দ্বিতীয় সপ্তাহেই উন্মোচন করলেন কোম্পানির প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন—‘ডুও’।বইয়ের মতো ভাঁজ করা যায় এমন এই ফোনটি পুরোপুরি খুললে ছোট আকারের আইপ্যাডের মতো দেখায়। আবার ভাঁজ করলে এটি প্রশস্ত আকৃতির আইফোনে পরিণত হয়।তবে প্রযুক্তির নতুনত্বের পাশাপাশি এর উচ্চ দামই অ্যাপলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিভাইসটির দাম প্রায় ১ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে শুরু হয়ে কনফিগারেশনভেদে ৩ হাজার ২০০ ডলার পর্যন্ত যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।অ্যাপলের নতুন সিইও জন টার্নাস জানিয়েছেন, ডুও তৈরিতে আইপ্যাড থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে। ফোনটির ভাঁজ করার প্রযুক্তিকে তিনি সাবলীল ও স্বজ্ঞাত অভিজ্ঞতা হিসেবে তুলে ধরেছেন।টার্নাসের দাবি, বাজারে থাকা অন্য ফোল্ডেবল ফোনের মতো ডুওকে শুধু দুটি ফোন একসঙ্গে জুড়ে দেওয়ার অনুভূতি দিতে চায়নি অ্যাপল।অ্যাপলের ভেতরে ফোল্ডেবল আইফোন তৈরির কাজ অবশ্য কয়েক বছর ধরেই চলছিল। টার্নাস নিজেও হার্ডওয়্যার বিভাগের শীর্ষ নির্বাহী হিসেবে প্রকল্পটির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।টিম কুকের পদত্যাগের পর অ্যাপলের শীর্ষ পদে আসা টার্নাসের জন্য ডুও শুধু একটি নতুন পণ্য নয়, নেতৃত্বের বড় পরীক্ষাও।প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান CCS Insight-এর বিশ্লেষক বেন উড মনে করেন, টার্নাসের সিইও হওয়ার সময় এবং বড় আইফোন উন্মোচনের সময়টি সম্ভবত পরিকল্পিতভাবেই নির্ধারণ করা হয়েছিল।অন্যদিকে Creative Strategies-এর বিশ্লেষক ক্যারোলিনা মিলানেসির মতে, পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানে টার্নাসকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেন তিনিই অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান ‘পণ্য’।অ্যাপলের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হতে পারে দাম। এতদিন আইফোনের সর্বোচ্চ প্রারম্ভিক মূল্য যেখানে প্রায় ৯০০ ডলারের মধ্যে ছিল, সেখানে ডুওর দাম অনেক বেশি।Forrester-এর বিশ্লেষক দীপঞ্জন চ্যাটার্জির মতে, ফোল্ডেবল আইফোন এমন একটি দামি পণ্যে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা অ্যাপলের ব্র্যান্ডের মর্যাদা বাড়ালেও বড় ধরনের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি নাও আনতে পারে।তার আশঙ্কা, ডুও শেষ পর্যন্ত অ্যাপলের পণ্য তালিকায় একটি ‘চড়া দামের অলঙ্কার’ হয়েই থাকতে পারে।ফোল্ডেবল আইফোনের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্লেষকদের মতও এক নয়।চ্যাটার্জির মতে, এটি অ্যাপলের Vision Pro-এর মতো সীমিত জনপ্রিয়তার পণ্য হতে পারে। আবার Apple Watch-এর মতোও সফল হতে পারে—যেটি আইফোনের মতো ব্যাপক জনপ্রিয় না হলেও প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ কিনছেন।এদিকে নতুন ধরনের ডিভাইসে ব্যবহারকারীদের অভ্যস্ত হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রচলিত আইফোন থেকে ফোল্ডেবল ফোনে গেলে সফটওয়্যার এবং ব্যবহারের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসবে। ফলে ব্যবহারকারীদের নতুন অভিজ্ঞতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লাগতে পারে।২০০৭ সালে প্রথম আইফোন বাজারে আসার পর অ্যাপল স্মার্টফোন বাজারে একের পর এক বড় পরিবর্তন এনেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোম্পানিটি আগের মতো যুগান্তকারী উদ্ভাবন দেখাতে পারছে না—এমন সমালোচনা রয়েছে।ফোল্ডেবল আইফোন সেই সমালোচনার জবাব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। সফল হলে এটি অ্যাপলের নতুন পণ্য-যুগের সূচনা করতে পারে। কিন্তু অতিরিক্ত দাম ও ব্যবহারকারীদের পরিবর্তনের অনীহা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ালে প্রকল্পটি প্রত্যাশা পূরণ নাও করতে পারে।গুরুত্বপূর্ণ দিকঅ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনের নাম ‘ডুও’বইয়ের মতো ভাঁজ করা যাবে ফোনটিপুরোপুরি খুললে ছোট আইপ্যাডের মতো আকার ধারণ করবেযুক্তরাষ্ট্রে দাম সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২০০ ডলার পর্যন্ত যেতে পারেনতুন সিইও জন টার্নাসের জন্য এটি বড় নেতৃত্বের পরীক্ষাফোল্ডেবল ফোন প্রযুক্তির দিক থেকে আকর্ষণীয় হলেও সাধারণ ক্রেতার কাছে দাম একটি বড় বিষয়। একটি ফোনের জন্য কয়েক হাজার ডলার খরচ করতে সবাই আগ্রহী হবেন না। তাই অ্যাপলের জন্য শুধু নতুন প্রযুক্তি তৈরি করাই যথেষ্ট নয়—সেটিকে এমনভাবে বাজারে আনতে হবে, যাতে ব্যবহারকারীরা অতিরিক্ত দাম দেওয়ার যথেষ্ট কারণ খুঁজে পান।বিশেষ পর্যবেক্ষণ: ডুওর সবচেয়ে বড় পরীক্ষা সম্ভবত প্রযুক্তি নয়, বরং ব্যবহারকারীর অভ্যাস বদলানো। অ্যাপল যদি ফোল্ডেবল স্ক্রিনকে শুধু ‘বড় ডিসপ্লে’ হিসেবে নয়, দৈনন্দিন ব্যবহারে সত্যিই নতুন সুবিধা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তাহলে উচ্চ দাম সত্ত্বেও এটি নতুন একটি বাজার তৈরি করতে পারে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর