প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৭.৪১ বিলিয়ন ডলার
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট মজুত বা গ্রস রিজার্ভ ৩৭ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবপদ্ধতি বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ৩২ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার।বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর দিনশেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৪০৭ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩২ হাজার ৪৯৬ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলার।সাম্প্রতিক সময়ে রিজার্ভে ওঠানামাবাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগস্টের শেষ সপ্তাহেও রিজার্ভে কিছুটা ওঠানামা ছিল।গত ২৪ আগস্ট গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৭ হাজার ৪৬৭ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ডলার। বিপিএম৬ হিসাবে এ পরিমাণ ছিল ৩২ হাজার ৬১৬ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার।এর আগে ২০ আগস্ট পর্যন্ত গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৭ হাজার ৩৪৮ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম৬ অনুযায়ী ছিল ৩২ হাজার ৫৩২ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন ডলার।আর ১৮ আগস্ট দিনশেষে গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছিল ৩৭ হাজার ২৪৫ দশমিক ০৬ মিলিয়ন ডলার। বিপিএম৬ পদ্ধতিতে এর পরিমাণ ছিল ৩২ হাজার ৪৩৮ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলার।গ্রস রিজার্ভ ও বিপিএম৬—দুই হিসাব কেন?বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত রিজার্ভের পরিসংখ্যানে গ্রস রিজার্ভ এবং বিপিএম৬ হিসাব আলাদাভাবে দেখানো হয়। গ্রস রিজার্ভে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মোট মজুতের হিসাব থাকে।অন্যদিকে, বিপিএম৬ হলো আইএমএফের নির্ধারিত আন্তর্জাতিক হিসাবপদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে এমন কিছু সম্পদ বা দায় বিবেচনায় নেওয়া হয়, যার কারণে গ্রস রিজার্ভের তুলনায় বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ কম দেখা যায়।তাই দুটি সংখ্যার পার্থক্যকে সরাসরি রিজার্ভ কমে যাওয়ার অর্থ হিসেবে দেখা ঠিক নয়; এগুলো ভিন্ন হিসাবপদ্ধতির ফল।অর্থনীতিতে রিজার্ভের গুরুত্বএকটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দিয়ে আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণের দায় এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে সহায়তা করা হয়। ফলে রিজার্ভের অবস্থান দেশের বৈদেশিক খাতের সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।তবে শুধু রিজার্ভের মোট পরিমাণ দেখলেই অর্থনীতির পুরো চিত্র বোঝা যায় না। আমদানি ব্যয়, রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং বিনিময় হারের ওপরও রিজার্ভের স্থায়িত্ব অনেকটা নির্ভর করে।গুরুত্বপূর্ণ দিক:১ সেপ্টেম্বর গ্রস রিজার্ভ: ৩৭.৪১ বিলিয়ন ডলারবিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ: ৩২.৫০ বিলিয়ন ডলার২৪ আগস্ট গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৭.৪৭ বিলিয়ন ডলারআগস্টে রিজার্ভে ওঠানামা দেখা গেছেসাধারণ মানুষের ভাবনারিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ওপরে থাকা দেশের বৈদেশিক লেনদেনের সক্ষমতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাধারণ মানুষের জন্য এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি বোঝা যায় ডলারের দাম, আমদানি পণ্যের মূল্য এবং বাজারের স্থিতিশীলতার মাধ্যমে।বিশেষ পর্যবেক্ষণ: রিজার্ভের পরিমাণ বাড়া বা কমার পাশাপাশি সেটি কোন উৎস থেকে আসছে এবং ভবিষ্যতে কতটা স্থিতিশীল থাকবে—এ বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু একটি দিনের পরিসংখ্যান নয়, কয়েক মাসের ধারাবাহিক প্রবণতাই অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থার বিষয়ে বেশি ধারণা দিতে পারে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর