প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬
হিজাব পরা নিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়, স্কুল ইউনিফর্মে আলাদা ছাড়ের আবেদন খারিজ
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
স্কুলের নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে করা এক ছাত্রীর আবেদন খারিজ করেছে ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সংশ্লিষ্ট মামলায় হিজাবকে ইসলামের অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মতো সুনির্দিষ্ট ভিত্তি দেখানো হয়নি।একই সঙ্গে আদালত বলেছে, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম যদি ন্যায্য, বৈষম্যহীন এবং সব শিক্ষার্থীর জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠানটি সেই পোশাকবিধি কার্যকর করতে পারে।গত ২১ আগস্ট দেওয়া এই রায়ে বিচারপতি জে জে মুনির ও বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ শুক্লার বেঞ্চ আবেদনটি খারিজ করেন।কী নিয়ে আদালতে আবেদন?একটি বেসরকারি স্কুলের ওই শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পাস করার পর একই প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে চেয়েছিলেন। তাঁর মা আদালতে আবেদন করে স্কুলের নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরার অনুমতি দেওয়ার নির্দেশনা চেয়েছিলেন।আবেদনে দাবি করা হয়, ওই শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই হিজাব পরে স্কুলে আসছেন এবং ইসলামে হিজাব পরা একটি অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন।তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত এবং সেখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে। সবার জন্য একই পোশাকবিধি কার্যকর রয়েছে।আদালত যা বলেছেবেঞ্চ জানায়, বিভিন্ন শ্রেণিতে ওই ছাত্রীর তোলা ছবি পর্যালোচনা করা হয়েছে। সেখানে অন্য কোনো ছাত্রীকে হিজাব পরতে দেখা যায়নি। একই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অন্য শিক্ষার্থীরাও হিজাব পরেনি বলে আদালত উল্লেখ করেছে।আদালতের মতে, প্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম যদি সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হয় এবং এর উদ্দেশ্য শৃঙ্খলা ও সমতা বজায় রাখা হয়, তাহলে ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে সেই পোশাকবিধিতে আলাদা পরিবর্তন দাবি করার আইনি অধিকার থাকবে না।ইউনিফর্ম নিয়ে কেন এত গুরুত্ব?আদালত বলেছে, নির্ধারিত ইউনিফর্মের সঙ্গে প্রত্যেকে নিজের পছন্দ অনুযায়ী আলাদা পোশাক যোগ করার সুযোগ পেলে অভিন্ন পোশাকবিধির উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে।স্কুল কর্তৃপক্ষও আদালতে যুক্তি দেয়, একজন শিক্ষার্থীকে বিশেষ ছাড় দিলে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও ইউনিফর্মের অভিন্নতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।নিজস্ব পর্যবেক্ষণ: এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ দিক শুধু হিজাব নিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ নয়; এর সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পোশাকবিধি নির্ধারণের ক্ষমতা বনাম শিক্ষার্থীর ধর্মীয় স্বাধীনতা—এই দুই অধিকারের ভারসাম্যের প্রশ্নও জড়িয়ে আছে। তাই একই ধরনের ঘটনায় ভবিষ্যতে আদালতের ব্যাখ্যা ও সংশ্লিষ্ট রাজ্য বা প্রতিষ্ঠানের নীতিমালাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।গুরুত্বপূর্ণ দিক
এলাহাবাদ হাইকোর্ট হিজাবসহ ইউনিফর্মের আবেদন খারিজ করেছে।
আদালত সংশ্লিষ্ট মামলায় হিজাবকে ইসলামের অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন হিসেবে প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট ভিত্তি পায়নি।
সবার জন্য একই ইউনিফর্ম কার্যকর থাকলে প্রতিষ্ঠানটি তা বাস্তবায়ন করতে পারে বলে আদালত জানিয়েছে।
মামলায় স্কুল কর্তৃপক্ষ, উত্তর প্রদেশ সরকার ও সিবিএসই আবেদনটির বিরোধিতা করে।
রায়টি দেওয়া হয়েছে ২১ আগস্ট।
বিষয়টি নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি
হিজাবের ধর্মীয় গুরুত্ব নিয়ে মুসলিম আলেমদের মধ্যে বিভিন্ন ব্যাখ্যা ও মতামত রয়েছে। তাই আদালতের একটি নির্দিষ্ট মামলার পর্যবেক্ষণকে ইসলামের বিষয়ে সব আলেমের সর্বসম্মত ধর্মীয় সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। একইভাবে ভারতের আদালতের এই রায়টি সংশ্লিষ্ট মামলা ও ভারতীয় আইনি কাঠামোর প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর