প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন জমা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৪৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা রাষ্ট্রবিরোধী গোপন কর্মকাণ্ডের অভিযোগের তদন্ত শেষ হয়েছে। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি।তবে প্রতিবেদনে কী বলা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনই কোনো তথ্য প্রকাশ করছে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক জানিয়েছেন, সিন্ডিকেট সভায় প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।অভিযোগের তালিকায় ৪৪ শিক্ষকের কথা বলা হলেও প্রকাশিত তালিকা যাচাই করে ইবির শিক্ষকদের নামের সঙ্গে মিলে এমন প্রায় ২৫ জনের নাম পাওয়া গিয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে গত ৫ আগস্ট পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকের কাছে চিঠি পাঠিয়ে অভিযোগের পক্ষে প্রকাশিত তথ্য, কথোপকথনের স্ক্রিনশট এবং অভিযুক্ত শিক্ষকদের কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য চাওয়া হয়।এরপর পাওয়া তথ্য ও প্রকাশিত তালিকা যাচাই-বাছাই করে কমিটি।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশজুড়ে ৪০৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা বলা হলেও ইবির ক্ষেত্রে ৪৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল।তবে প্রকাশিত তালিকা যাচাই করার সময় ইবির শিক্ষকদের নামের সঙ্গে মিলে এমন প্রায় ২৫ জনের নাম পাওয়া যায় বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে আরও যাচাই-বাছাই করেছে তদন্ত কমিটি।এখন তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগগুলোর বিষয়ে কী ধরনের তথ্য উঠে এসেছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিবেদনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রশাসনের সিদ্ধান্তের আগে তদন্তাধীন বিষয়ে তথ্য প্রকাশের নিয়ম না থাকায় তিনি প্রতিবেদনের বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি।অর্থাৎ অভিযোগ ওঠা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, অভিযুক্ত শিক্ষকদের কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত অর্ডিন্যান্স বা বিধিবিধানের পরিপন্থী প্রমাণিত হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।তবে শুধু অভিযোগ ওঠা বা কোনো তালিকায় নাম থাকার ভিত্তিতে কাউকে দোষী বলা যায় না। তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য পর্যালোচনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের পরই বিষয়টির পরবর্তী ধাপ নির্ধারিত হবে।গুরুত্বপূর্ণ দিক
ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন সোমবার জমা হয়েছে।
তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল ৫ আগস্ট।
প্রকাশিত তালিকা যাচাই করে ইবির সঙ্গে মিলে প্রায় ২৫টি নাম পাওয়া যায় বলে সূত্রের দাবি।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন।
প্রতিবেদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা সিন্ডিকেট সভায়।পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন।সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-হিসাব পরিচালক মো. ইসরাফুল হক।কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন আল-হাদীস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যানেল আইনজীবী ড. মো. সাজ্জাত হোসেন।নিজস্ব পর্যবেক্ষণ: এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অভিযোগের তালিকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব যাচাইয়ে নামের সংখ্যায় পার্থক্য থাকার তথ্য। তাই সামনে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি তদন্ত কমিটি কোন তথ্যকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করেছে, সেটিও বিষয়টি বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কাউকে দোষী হিসেবে ধরে নেওয়াও ঠিক নয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক বিধিবিধান মেনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর