প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬
ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসকদের উদ্যোগে নতুন গতি, সবাইকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়—এবার সাধারণ মানুষ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সিটি করপোরেশনকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, প্রশাসকদের সমন্বিত উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে।তিনি মনে করেন, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে গঠিত টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সিটি করপোরেশন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে নগর পরিচ্ছন্নতায় নিয়োজিত কর্মীদের আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার পাশাপাশি নাগরিকদেরও নিজেদের বাসা, নির্মাণাধীন ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আশপাশ পরিষ্কার রাখার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।নির্মাণাধীন ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাড়তি নজরসভায় প্রতিমন্ত্রী নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার নির্দেশনা দেন।তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধই বেশি কার্যকর। তাই এডিস মশার লার্ভা জন্মানোর সম্ভাব্য স্থান দ্রুত শনাক্ত করে ধ্বংস করা এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই।প্রশাসকদের অভিজ্ঞতা শুনে দেওয়া হয় নতুন নির্দেশনাসভায় বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের বক্তব্য শোনেন প্রতিমন্ত্রী। মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে চলমান কার্যক্রম আরও সমন্বিত ও কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, প্রশাসকদের আন্তরিকতা, নিষ্ঠা এবং সমন্বিত উদ্যোগের কারণে মাঠপর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে। তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় স্থানীয় জনগণকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা গেলে এই কার্যক্রমের ফল আরও ইতিবাচক হতে পারে।কোন কোন সিটি করপোরেশন অংশ নিয়েছেসভায় ময়মনসিংহ, রংপুর ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, কুমিল্লা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও বগুড়াসহ বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি অংশ নেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।কেন এই বার্তা গুরুত্বপূর্ণবাংলাদেশে বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রকোপ সাধারণত বেড়ে যায়। এই সময়ে শুধু মশা নিধন অভিযান চালালেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং নাগরিক সচেতনতা একসঙ্গে নিশ্চিত করা গেলে সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।এ ধরনের টাস্কফোর্স বৈঠকের গুরুত্ব এখানেই যে, বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের বাস্তব অভিজ্ঞতা এক জায়গায় এনে সমন্বিত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। তবে এসব সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেটিই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।সামাজিক প্রভাব ও বিশ্লেষণডেঙ্গু এখন শুধু একটি স্বাস্থ্য সমস্যা নয়; এটি নগর ব্যবস্থাপনা, নাগরিক দায়িত্ববোধ এবং স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকারিতারও একটি বড় পরীক্ষা। একটি এলাকার মাত্র কয়েকটি অব্যবহৃত পানি জমার স্থান পুরো আশপাশের মানুষের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ফলে একজনের অবহেলা অনেক পরিবারের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে।একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, ডেঙ্গু প্রতিরোধ নিয়ে সচেতনতা প্রচার বাড়লেও অনেক সময় নির্মাণাধীন ভবন, ছাদের পানির ট্যাংক, ফুলের টব কিংবা পরিত্যক্ত পাত্র নিয়মিত পর্যবেক্ষণের বাইরে থেকে যায়। ভবিষ্যতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, স্থানীয় ওয়ার্ডভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী দল এবং নিয়মিত পরিবেশ পর্যবেক্ষণ চালু করা গেলে প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও কার্যকর হতে পারে।গুরুত্বপূর্ণ দিকডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি ও স্থানীয় উদ্যোগ একসঙ্গে জোরদারের আহ্বান।নির্মাণাধীন ভবন ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নিয়মিত অভিযান চালানোর নির্দেশনা।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব।সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ বাসা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান।সাধারণ মানুষের ভাবনাডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি করপোরেশনের ওপর নির্ভর করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। নিজের বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পানির পাত্র কিংবা আশপাশে কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি। একটি ছোট সচেতনতাই অনেক বড় ঝুঁকি কমাতে পারে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর