প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুন ২০২৬
বাঞ্ছারামপুর থানা হোগলাকান্দি গ্রামে টেকসই সড়ক ও ড্রেন পেয়ে আনন্দিত সর্বস্তরের গ্রামবাসী...
হাবিব সরকার স্বাধীন ||
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার হোগলাকান্দি গ্রামের হামিদের বাড়ির মোড়টি, যা একসময় স্থানীয়দের কাছে 'মৃত্যুকূপ' ও মরণ ফাঁদ হিসেবে পরিচিত ছিল, তা এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। জানা যায়, খাকান্দা ফেরিঘাট ও পাঠামারা রুটের হাজারো পথচারীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে সেখানে নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ও টেকসই ঢালাই রাস্তা এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য আধুনিক ড্রেন ব্যবস্থা।দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ও মরণ ফাঁদএর আগে, হোগলাকান্দি সহ আশপাশের রূপসদী, উত্তর পাড়া, বেলানগর, দক্ষিণপাড়া ও খাকান্দা ফেরিঘাটের পথে যাতায়াতকারী হাজার হাজার মানুষ এই স্থানে চরম ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করতেন। ঢালাই রাস্তার ভেতরের মাটি সরে গিয়ে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল। বৃষ্টি এলেই সেই গর্ত আরও গভীর হতো এবং প্রায়ই মোটরসাইকেল, অটো ও ভ্যান উল্টে দুর্ঘটনা ঘটত। স্থানীয়রা নিজেদের অর্থায়নে কয়েকবার মেরামত করলেও ড্রেন না থাকায় বৃষ্টির পানিতে মাটি ধুয়ে বারবারই তা পূর্বের অবস্থায় ফিরে যেত।তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয়ে 'অপরাধ উন্মোচন'এই জনদুর্ভোগের চিত্রটি সামনে আনা এবং তা নিরসনে মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে প্রশাসনিক উচ্চপর্যায় পর্যন্ত সমন্বয়ে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন খিলক্ষেত প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং 'সাপ্তাহিক অপরাধ উন্মোচন'-এর সম্পাদক ও প্রকাশক হাবিব সরকার স্বাধীন। সার্বিকভাবে রাস্তাটি নির্মাণে সঠিক তথ্য সংগ্রহ এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে সার্বক্ষণিক আলোচনা ও যোগাযোগ রক্ষা করে তিনি এই কাজে বিশেষ সহযোগিতা প্রদান করেন।এ বিষয়ে সম্পাদক হাবিব সরকার স্বাধীন বলেন:"সরকারি অনুদানে আমাদের এলাকার এই টেকসই সড়ক ও ড্রেন নির্মাণে যিনি অনন্য ভূমিকা রেখেছেন, সেই মাননীয় মন্ত্রীর প্রতি আমি এবং আমরা ব্যক্তিগত ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।"প্রশংসনীয় উদ্যোগে বদলে যাওয়া চিত্রস্থানীয়দের এই দুর্ভোগের কথা জানতে পেরে দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জুনায়েদ সাকি, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব তারিকুল ইসলাম, উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার জনাব ফজলে রাব্বী এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে রাস্তাটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়।ঠিকাদার (কন্টাক্টর) জাহিদুল ইসলাম ফাহাদ অত্যন্ত নিখুঁত ও অসাধারণভাবে রাস্তাটি নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করেছেন। ঢালাই রাস্তার পাশাপাশি বৃষ্টির পানি সহজে সরে যাওয়ার জন্য একটি সুপরিকল্পিত ড্রেনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে, যার ফলে রাস্তাটি এখন পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ও স্থায়ী রূপ পেয়েছে।মানসম্মত মালামালেও টেকসই কাজ, খুশি এলাকাবাসীসরেজমিনে দেখা যায়, নতুন এই রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণে কোনো রকম আপস করা হয়নি। সম্পূর্ণ সরকারি নিয়ম মেনে অত্যন্ত মানসম্মত, উন্নত ও টেকসই মালামাল ব্যবহার করা হয়েছে। কাজের গুণগত মান ছিল চোখে পড়ার মতো। বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব তারিকুল ইসলাম ও উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার জনাব ফজলে রাব্বী-এর আন্তরিক ও দায়িত্বশীল কার্যক্রমে এলাকাবাসী অত্যন্ত আনন্দিত।স্থানীয়রা জানান, সংসদ সদস্য জুনায়েদ সাকি, ইউএনও তারিকুল ইসলাম এবং উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার ফজলে রাব্বী সহ কন্টাক্টর ফাহাদের এমন সততা ও দায়িত্বশীল কাজের তদারকি দেখে সবাই ভীষণ সন্তুষ্ট। রাস্তাটি এতটাই শক্তিশালী ভাবে তৈরি করা হয়েছে যে, দীর্ঘ মেয়াদে এটি আর নষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই।"অল্প দিনে আমরা এত সুন্দর একটি রাস্তা উপহার পাব কল্পনাও করিনি। গ্রামের স্বার্থে এবং দেশের স্বার্থে যারা ভূমিকা রেখেছেন, সকলের প্রতি অভিনন্দন।"— তোফাজ্জল ফকির, স্থানীয় বাসিন্দা, হোগলাকান্দি গ্রামকৃতজ্ঞতা ও আনন্দের জোয়াররাস্তাটির নতুন রূপ দেখে হোগলাকান্দি সহ আশপাশের গ্রামের মানুষের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার। পূর্বের সেই বিপজ্জনক 'মৃত্যুকূপ' এখন একটি নিরাপদ ও আধুনিক সড়কে পরিণত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা তোফাজ্জল ফকির প্রকৌশলী, কন্টাক্টর এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সাথে এই জনদুর্ভোগের চিত্রটি প্রথম থেকে সাহসিকতার সাথে তুলে ধরা এবং তা সমাধানে প্রশাসনের সাথে সংযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখায় 'অপরাধ উন্মোচন' সাংবাদিকতার কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং নিউজের শিরোনাম দেখে সাধুবাদ জানান তিনি।সংসদ সদস্য জুনায়েদ সাকি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব তারিকুল ইসলাম, উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার জনাব ফজলে রাব্বী, ঠিকাদার জাহিদুল ইসলাম ফাহাদ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত ও দ্রুত উদ্যোগের ফলে বাঞ্ছারামপুরের হোগলাকান্দি মোড়ের চিত্র এখন পুরোপুরি বদলে গেছে, যার সুফল ভোগ করবে এখন হাজারো সাধারণ মানুষ।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর