প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ২০২৬: শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগই জাতি গঠনের সবচেয়ে বড় ভিত্তি—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
জাতি গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ : প্রধানমন্ত্রীএকদিকে ৯৯ লাখের বেশি শিশু, অন্যদিকে ১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি ফুটবল ম্যাচ। দেশের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত বিশাল এই ক্রীড়া আয়োজনকে ঘিরে শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনের নতুন বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।তিনি বলেছেন, একটি শক্তিশালী জাতি গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হলো শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ। শুধু বইভিত্তিক শিক্ষা নয়, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।শনিবার (২০ জুন) অনুষ্ঠিতব্য ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ এবং মানবিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অপরিহার্য। এ কারণেই সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে।পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতারপ্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার কার্যক্রম চলছে।এরই ধারাবাহিকতায় চতুর্থ শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কারাতে ও সাঁতার পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, শুধু তাত্ত্বিক শিক্ষা নয়, ব্যবহারিক ক্লাস ও মূল্যায়নের মাধ্যমেও শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।মাদক ও মোবাইল আসক্তি কমাতে খেলাধুলার ওপর জোরপ্রধানমন্ত্রীর মতে, শিশু-কিশোরদের মধ্যে বাড়তে থাকা মোবাইল ফোন নির্ভরতা এবং মাদকাসক্তির মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে খেলাধুলা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।তিনি বলেন, নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ তৈরি হলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকবে এবং সামাজিকভাবে আরও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হবে।সংশ্লিষ্ট শিক্ষা খাতের পর্যবেক্ষকদের মতে, মাঠভিত্তিক কার্যক্রম শিশুদের নেতৃত্ব, দলগত কাজের মানসিকতা এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।বিশ্বের বৃহত্তম স্কুলভিত্তিক ফুটবল আয়োজনের দাবিবাণীতে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার প্রণীত নীতিমালা অনুযায়ী দেশের ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ৯৯ লাখ ৪৮ হাজার ৯৫৬ জন শিক্ষার্থী এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে।এর মধ্যে বালক রয়েছে ৪৬ লাখ ৯১ হাজার ৯৯৬ জন এবং বালিকা ৫২ লাখ ৫৬ হাজার ৯৬০ জন।তিনি বলেন, বালক ও বালিকা উভয় দল সমান সুযোগ নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে। চলতি বছরে সারাদেশে দুই বিভাগ মিলিয়ে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৪টি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর দাবি, অংশগ্রহণকারী ও আয়োজনের পরিধি বিবেচনায় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচিত।খেলাধুলায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ার ইতিবাচক বার্তাএই আয়োজনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বালক ও বালিকা দলের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, গ্রামীণ পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের ক্রীড়ায় অংশগ্রহণ বাড়ানো সামাজিক পরিবর্তনের একটি ইতিবাচক সূচক।বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বিদ্যালয় পর্যায়ে মেয়েদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়লে আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বগুণ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে শিশুবিবাহ, বিদ্যালয় ত্যাগ এবং সামাজিক বৈষম্যের মতো সমস্যাও কমাতে এটি সহায়ক হতে পারে।গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো• দেশের ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।• প্রায় ৯৯ লাখ ৪৯ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে।• সারাদেশে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।• পাঠ্যক্রমে ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কারাতে ও সাঁতার যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।• বালক ও বালিকা উভয়ের জন্য সমান অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণবাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ব্যবস্থার সাফল্য মূল্যায়ন করা হয়েছে মূলত পরীক্ষার ফলাফল দিয়ে। কিন্তু এবার খেলাধুলাকে পাঠ্যক্রমের অংশ করার উদ্যোগ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীর সামগ্রিক বিকাশ—শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক সুস্থতা এবং সামাজিক দক্ষতাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। এটি দেশের শিক্ষা দর্শনে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের বার্তা বহন করছে।সাধারণ মানুষের ভাবনাঅভিভাবকদের অনেকেই মনে করেন, বর্তমানে শিশুদের একটি বড় অংশ মোবাইল ফোন ও অনলাইন নির্ভর জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। এমন বাস্তবতায় বিদ্যালয়ভিত্তিক খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাড়ানো গেলে শিশুরা বাস্তব সামাজিক পরিবেশে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ পাবে। তবে শুধু টুর্নামেন্ট আয়োজন নয়, প্রতিটি বিদ্যালয়ে মাঠ, ক্রীড়া উপকরণ এবং প্রশিক্ষকের ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।বাণীর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টুর্নামেন্টের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিশুরাই একদিন দেশের উজ্জ্বল মুখ হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর