প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে দিনাজপুরে মহিলা পরিষদের বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা সভা
ফিরোজ সরকার, দিনাজপুর প্রতিনিধি ||
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে নারী ও শিশুরা—এমন বাস্তবতা সামনে এনে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে দিনাজপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। পরিবেশ রক্ষা ও নারীর নিরাপত্তাকে একই সূত্রে গেঁথে সচেতনতা তৈরির এই উদ্যোগে অংশ নেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় নারীরা।বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে “পরিবেশ বিপর্যয় মোকাবিলা করি, নারীর সংকট নিরসন করি” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, দিনাজপুর জেলা শাখা এ কর্মসূচির আয়োজন করে। দিনাজপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী রায়সাহেব বাড়ি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।পরিবেশ সংকট ও নারীর বাস্তবতা নিয়ে আলোচনাবাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি ড. মারুফা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও জেলা শাখার সম্মানিত সদস্য কানিজ রহমান, জেলা শাখার সহ-সভাপতি মনোয়ারা সানু, মিনতি ঘোষ, রত্না মিত্র, প্রচার সম্পাদক শুক্লা কুন্ডু, সদস্য শিবানী উড়াওসহ জেলা ও পাড়া কমিটির নেতৃবৃন্দ।বক্তারা বলেন, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিবেশগত সংকট দিন দিন গভীর হচ্ছে। এর প্রভাব সমাজের সব শ্রেণির মানুষের ওপর পড়লেও নারী ও শিশুদের জীবন, স্বাস্থ্য ও জীবিকার ওপর এর চাপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।টেকসই উন্নয়নে সবুজ উদ্যোগের আহ্বানআলোচনা সভায় বক্তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।তারা বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে রাষ্ট্র, নাগরিক সমাজ এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, প্রতিটি নাগরিকেরও।নারীর নেতৃত্ব ছাড়া পরিবেশ আন্দোলন অসম্পূর্ণবক্তারা আরও বলেন, জলবায়ু সহনশীল সমাজ গঠনে নারীদের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে নারী নেতৃত্বের বিকাশ অত্যন্ত প্রয়োজন।তাদের মতে, পরিবার ও সমাজে পরিবেশবান্ধব আচরণ গড়ে তুলতে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। তাই পরিবেশ ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো জরুরি।বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে প্রতীকী অঙ্গীকারঅনুষ্ঠান শেষে রায়সাহেব বাড়ি প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এ সময় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজায়ন কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।আয়োজকরা বলেন, একটি গাছ শুধু ছায়া বা ফলই দেয় না, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার অন্যতম হাতিয়ার।কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আয়োজন?পরিবেশবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নারীদের সম্পৃক্ত করে পরিচালিত উদ্যোগগুলো সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশে বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ শিক্ষা এবং নারীর ক্ষমতায়নকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণসাম্প্রতিক সময়ে পরিবেশ বিষয়ক কর্মসূচিগুলোতে নারীদের অংশগ্রহণ দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে। এটি শুধু পরিবেশ আন্দোলনের শক্তি বাড়াচ্ছে না, বরং সমাজে নারী নেতৃত্বের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।গুরুত্বপূর্ণ দিক• বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে দিনাজপুরে আয়োজন করা হয় বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা সভা।• “পরিবেশ বিপর্যয় মোকাবিলা করি, নারীর সংকট নিরসন করি” ছিল এবারের প্রতিপাদ্য।• জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নারী ও শিশুদের ঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্ব পায়।• ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।• পরিবেশ রক্ষায় নারী নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়।সাধারণ মানুষের ভাবনাপরিবেশ রক্ষার বিষয়টি এখন আর কেবল একটি দিবসের আলোচনায় সীমাবদ্ধ নয়। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টি, খরা ও বন্যার মতো বাস্তব চ্যালেঞ্জ প্রতিদিন মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলছে। এমন পরিস্থিতিতে একটি গাছ লাগানো কিংবা পরিবেশ সচেতন আচরণ গড়ে তোলা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় অবদান হতে পারে।পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষ হোক আগামী প্রজন্মের জন্য আমাদের অঙ্গীকার।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর