প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬
বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন, ৫ দিন পর লাপাত্তা প্রেমিক; চাঞ্চল্য পাবনায়
শিহাব আহম্মেদ, পাবনা প্রতিনিধি ||
প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ের স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্ন পূরণের আশায় প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে পাঁচ দিন ধরে অবস্থান করছেন এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী তরুণী। তবে ঘটনার নাটকীয় মোড় ঘুরেছে তখনই, যখন অভিযোগ উঠেছে—তরুণীর অনশন শুরুর পরপরই প্রেমিক বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন এবং এখন পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ঘটনাটি নিয়ে পাবনার সুজানগর উপজেলায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক চলছিল। তবে এই সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এখন দুই পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।দুই বছরের সম্পর্ক, এরপর কী ঘটল?তরুণীর বাবা মনিরুল ইসলাম ওরফে রতন মোল্লার অভিযোগ, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন মেয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন তাহজিদ। পরিবারের দাবি, গত ৩১ মে রাতে একটি ঘটনার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই রাতে তাহজিদ তার এক আত্মীয়ের সহযোগিতায় মেয়ের বাড়িতে যান এবং সেখানে অবস্থান করেন। পরে স্থানীয় কিছু লোক তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠার আগেই তাহজিদ সেখান থেকে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।ঘটনার পরদিন, অর্থাৎ ১ জুন, তাসনিম জাহান মিম বিয়ের দাবিতে তাহজিদের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন। এরপর থেকে তিনি সেখানেই রয়েছেন বলে জানা গেছে।অনশনে তরুণী, উধাও প্রেমিকতরুণীর স্বজনদের অভিযোগ, মিম প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নেওয়ার পর গভীর রাতে তাহজিদ বাড়ি ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।এ ঘটনায় এলাকায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছিল। আবার অন্যদের দাবি, পরিস্থিতি এখন আইনি প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে।মিমের চাচাতো ভাই সজল বলেন, দুই পরিবারের মধ্যে আলোচনা করে বিয়ের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে কিছু পক্ষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে।দুই পরিবারের বক্তব্যে ভিন্ন সুরতাসনিমের বাবা রতন মোল্লা বলেন, ছেলে-মেয়ের মধ্যে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রথমে পরিবারগুলো নিজেদের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা করলেও ঘটনাপ্রবাহ অন্যদিকে মোড় নেয়।তিনি জানান, তার মেয়ে এখনো বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছে এবং বিষয়টির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নেই।অন্যদিকে তাহজিদের মা বিউটি খাতুন প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করলেও ঘটনার পেছনে অন্য কারণ রয়েছে বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য, দুই পরিবারের মধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। প্রেমের বিষয়টি জানার পর তিনি ছেলেকে সম্পর্ক থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন।তিনি আরও দাবি করেন, কয়েক মাস যোগাযোগ বন্ধ থাকার পর মেয়ের পক্ষ থেকেই পুনরায় যোগাযোগ করা হয় এবং পরে পুরো পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে।কেন কথা বলতে পারছেন না তরুণী?ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সংশ্লিষ্ট তরুণীর সরাসরি বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।তরুণীর আত্মীয়দের অভিযোগ, তিনি যে বাড়িতে অবস্থান করছেন সেখানে তার সঙ্গে বাইরের লোকজনের যোগাযোগ সীমিত রাখা হয়েছে। এমনকি সংবাদকর্মী বা আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গেও কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করা হচ্ছে।তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অন্য পক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমত ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।তদন্তে পুলিশ, মামলার প্রস্তুতির ইঙ্গিতসুজানগর থানার ওসি (তদন্ত) মো. লালবুর রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে পুলিশের নজরে এসেছে এবং প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।তিনি বলেন, মেয়ের পরিবার আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী নেওয়া হবে।তবে এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।সামাজিক বাস্তবতা কী বলছে?সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, প্রেমের সম্পর্ক, পারিবারিক সম্মান, সামাজিক চাপ এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা—এই চারটি বিষয় এমন ঘটনায় বড় ভূমিকা রাখে। অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্কের বিষয়ে পরিবার ও তরুণ-তরুণীদের মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি সংকটকে আরও জটিল করে তোলে।বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হওয়া জরুরি। কারণ সামাজিক আলোচনার আড়ালে অনেক সময় প্রকৃত ভুক্তভোগীর কণ্ঠস্বর হারিয়ে যায়।
বর্তমানে পুরো ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। প্রেমিকের অবস্থান, বিয়ের দাবি এবং দুই পরিবারের অভিযোগ-প্রতিঅভিযোগের সত্যতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল বাড়ছে। পরিস্থিতির পরবর্তী অগ্রগতির দিকে নজর রাখছে এলাকাবাসী।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর