প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১৮ কিলোমিটার যানজট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে হাজারো যাত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই যানজট শনিবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী। যমুনা সেতু এবং এর সংযোগ সড়কে একাধিক যানবাহন বিকল হয়ে পড়া ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপকে এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যমুনা সেতুর টোল প্লাজা এলাকা থেকে শুরু হয়ে টাঙ্গাইলের পৌলী পর্যন্ত দীর্ঘ যানবাহনের সারি তৈরি হয়েছে। যানজটের কারণে শত শত বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পণ্যবাহী যান এবং ব্যক্তিগত গাড়ি ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে। ফলে গন্তব্যে পৌঁছাতে বিলম্বের পাশাপাশি যাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক ভোগান্তিও বেড়ে গেছে।রাতভর আটকে ছিল যানবাহনস্থানীয় সূত্র ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার গভীর রাতের পর থেকে যানবাহনের চাপ আরও বাড়তে থাকে। একই সময়ে যমুনা সেতু ও সংযোগ সড়কের কয়েকটি স্থানে যানবাহন বিকল হয়ে পড়লে যান চলাচলের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি এমন অবস্থায় পৌঁছে যে, মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।বিশেষ করে এলেঙ্গা এলাকায় এসে অনেক যানবাহন কার্যত স্থির হয়ে পড়ে। কয়েক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে চালকদের কয়েক ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।গরমে অতিষ্ঠ নারী ও শিশুরাদীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকায় সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা। অনেক যাত্রীকে বাস থেকে নেমে রাস্তার পাশে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ পানির সংকটের কথাও জানিয়েছেন।গাজীপুর থেকে নাটোরগামী একটি বাসের চালক মাহবুবুর রহমান বলেন, টাঙ্গাইল এলাকা থেকেই যানজট শুরু হয়েছিল। এলেঙ্গা এলাকায় এসে পুরোপুরি আটকে থাকতে হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে যাত্রীদের পাশাপাশি চালক ও সহকারীরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন।একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ঢাকা থেকে নাটোরগামী প্রাইভেটকারের চালক মোহাম্মদ আলম। তিনি বলেন, টাঙ্গাইল পর্যন্ত ধীরগতিতে চলার পর এলেঙ্গা এলাকায় এসে দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়েছি। কখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তা বুঝতে পারছি না।কেন বারবার তৈরি হচ্ছে এমন পরিস্থিতি?ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়কপথ। উত্তরবঙ্গগামী অধিকাংশ যানবাহন এই মহাসড়ক ব্যবহার করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একটি বা দুটি যানবাহন বিকল হয়ে পড়লেই পুরো সড়ক ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়। তার সঙ্গে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ যুক্ত হলে দ্রুত যানজটের বিস্তার ঘটে।সড়ক ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, ব্যস্ত সময়ে বিকল যানবাহন দ্রুত অপসারণের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে ছোট সমস্যা বড় যানজটে রূপ নেয়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।অর্থনীতি ও জনজীবনেও প্রভাবএই ধরনের দীর্ঘ যানজট শুধু যাত্রীদের ভোগান্তিই বাড়ায় না, পণ্য পরিবহনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ট্রাকে থাকা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, কৃষিপণ্য এবং শিল্পকারখানার কাঁচামাল সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারলে সরবরাহ ব্যবস্থায়ও চাপ তৈরি হয়।সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকা মানুষের মধ্যে বিরক্তি, মানসিক চাপ ও ক্লান্তি তৈরি করে। বিশেষ করে শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি এবং বয়স্কদের জন্য এমন পরিস্থিতি আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে যানবাহন ব্যবস্থাপনা, জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম এবং বিকল্প ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার দাবি দীর্ঘদিনের।শনিবার সকাল পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যান চলাচল ধীরগতিতে চলতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন বলে জানা গেলেও পুরোপুরি যানজট নিরসনে আরও সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও চালকরা।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর