প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬
শাহজালাল বিমানবন্দরের কুরিয়ার শেডে আগুন, কনটেইনারের ভেতর থেকেও আগুনের সূত্রপাত দেখেছে কর্তৃপক্ষ
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
কনটেইনারের ভেতর থেকেই আগুনের সূত্রপাত! শাহজালাল বিমানবন্দরের কুরিয়ার শেডে অগ্নিকাণ্ড ঘিরে নতুন তথ্যরাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কুরিয়ার শেডে আগুন লাগার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন শুধু বাইরে নয়, একটি কনটেইনারের ভেতর থেকেও জ্বলতে দেখা গেছে। তবে ঠিক কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পরপরই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে এবং বিমানবন্দরের ফ্লাইট পরিচালনাও স্বাভাবিক রয়েছে।শনিবার গভীর রাতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এসএম রাগীব সামাদ। তার বক্তব্য অনুযায়ী, রাত ১১টা ২৫ মিনিটের দিকে বিমানবন্দরের ৯ নম্বর গেটসংলগ্ন কুরিয়ার অপারেশন এলাকায় থাকা একটি কনটেইনারের ভেতর ও পাশ থেকে আগুনের সূত্রপাত দেখা যায়।আগুন ছড়ানোর আগেই দ্রুত অভিযানঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিমানবন্দরের নিজস্ব ফায়ার ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যদের পাশাপাশি সংলগ্ন বিমানবাহিনীর ঘাঁটি থেকেও সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেন।ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, রাত ১১টা ২৪ মিনিটে আগুন লাগার খবর তাদের কাছে পৌঁছায়। মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে অর্থাৎ রাত ১১টা ২৭ মিনিটে প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে আরও কয়েকটি ইউনিট পাঠানো হয়।প্রথমদিকে বিমানবন্দরের নিজস্ব দুটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ শুরু করলেও পরে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট যুক্ত হয়। সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে মাত্র ১৪ মিনিটের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। রাত ১১টা ৩৮ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে নিশ্চিত করা হয়।কনটেইনারের ভেতরে কী ছিল?ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে, যে কনটেইনারের ভেতর থেকে আগুন দেখা গেছে সেখানে কী ধরনের মালামাল রাখা ছিল। কুরিয়ার অপারেশন এলাকায় সাধারণত বিভিন্ন ধরনের আমদানি-রপ্তানি পণ্য, পার্সেল ও বাণিজ্যিক চালান সংরক্ষণ করা হয়।তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত কনটেইনারের ভেতরে থাকা মালামালের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি। আগুন লাগার কারণে কোনো পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সেই তথ্যও এখনও স্পষ্ট নয়।বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কনটেইনারের ভেতরে থাকা কোনো উপকরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে নাকি বাইরের কোনো উৎস থেকে আগুন ছড়িয়েছে, সেটিও তদন্তাধীন রয়েছে।ফ্লাইট চলাচলে কোনো প্রভাব পড়েনিবিমানবন্দর এলাকায় আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় ফ্লাইট পরিচালনায় কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি।নির্বাহী পরিচালক রাগীব সামাদ বলেন, আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে চলে আসায় বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটগুলো নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে।বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থাপনায় যেকোনো অগ্নিকাণ্ড বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই এমন ঘটনায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।কারণ নিয়ে তদন্ত, অপেক্ষা চূড়ান্ত প্রতিবেদনেরফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা রাশেদ বিন খালিদ জানিয়েছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে আগুনের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুন পুরোপুরি নিভে যাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে বিস্তারিত তদন্ত চালানো হবে।ডিউটি অফিসার শফিকুল ইসলাম বলেন, আগুনের তীব্রতা তুলনামূলক কম ছিল। সে কারণে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।কেন উদ্বেগ বাড়ছে?বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানবন্দর এলাকায় থাকা কুরিয়ার ও কার্গো শেডগুলোতে নানা ধরনের পণ্য সংরক্ষিত থাকে। এর মধ্যে কিছু পণ্য দাহ্যও হতে পারে। ফলে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার সামান্য ঘাটতিও বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন গুদাম, কনটেইনার ডিপো ও সংরক্ষণাগারে আগুন লাগার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। এসব ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি উঠলেও প্রশ্ন রয়ে গেছে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কতটা অগ্রগতি হয়েছে।শাহজালাল বিমানবন্দরের এই অগ্নিকাণ্ড বড় বিপর্যয়ে রূপ না নিলেও ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিল, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে অগ্নি-ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিয়মিত নজরদারির বিকল্প নেই। এখন তদন্তের ফলাফলই বলে দেবে, কনটেইনারের ভেতরে দেখা যাওয়া আগুনের প্রকৃত উৎস কোথায় ছিল।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর