প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬
সময়ের অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘গুপ্তধনের খোঁজে’
শেখ জাহাঙ্গীর আলম, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি ||
ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দায় পা রাখা অনেক শিল্পীর কাছেই একটি স্বপ্নের নাম। সেই স্বপ্নই এবার বাস্তবে রূপ নিয়েছে কিশোর অভিনেতা ইরফান রহমান সময়ের জীবনে। নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা এই তরুণ অভিনয়শিল্পী প্রথমবারের মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন শিশুতোষ অ্যাডভেঞ্চারধর্মী সিনেমা ‘গুপ্তধনের খোঁজে’-তে। আর প্রথম ছবিতেই তিনি হাজির হচ্ছেন টারজান চরিত্রে, যা ইতোমধ্যে দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।শুধু নতুন সিনেমা নয়, চরিত্রটির জন্য সময়ের প্রস্তুতির গল্পও আলোচনায় এসেছে। কারণ টারজানের জীবন ও মানসিকতা উপলব্ধি করতে তিনি নিজের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় এনেছিলেন বড় ধরনের পরিবর্তন।নাটক থেকে সিনেমার পর্দায়অভিনয়ের জগতে সময়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল জনপ্রিয় নাটক ‘বিবাহিত জীবনের দিনগুলি’-এর মাধ্যমে। সেই পথচলার কয়েক বছরের মধ্যেই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়া তার জন্য ছিল বিশেষ এক অর্জন।সময় জানান, অভিনয় সবসময়ই তার কাছে স্বপ্নের মতো ছিল। ছোটবেলা থেকেই নিজেকে একজন ভালো অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ইচ্ছা ছিল। তবে এত দ্রুত বড় পর্দায় কাজ করার সুযোগ পাবেন, তা কখনো ভাবেননি।তার ভাষায়, অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা এবং নিয়মিত পরিশ্রমই তাকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছে।টারজান হতে তিন সপ্তাহের ভিন্ন জীবন‘গুপ্তধনের খোঁজে’ সিনেমায় সময় অভিনয় করেছেন টারজান চরিত্রে। জঙ্গলে বেড়ে ওঠা এবং একাকী জীবনযাপনে অভ্যস্ত এই চরিত্রকে বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য তিনি নিয়েছিলেন বিশেষ প্রস্তুতি।সময় জানান, চরিত্রটির মানসিক জগৎ বোঝার জন্য টানা তিন সপ্তাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে ছিলেন। শুধু তাই নয়, বন্ধুদের সঙ্গেও যোগাযোগ প্রায় বন্ধ রেখেছিলেন তিনি।সাধারণত বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে এবং মানুষের সঙ্গে মিশতে ভালোবাসলেও চরিত্রের প্রয়োজনে নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে নিয়েছিলেন। তার মতে, একজন অভিনেতার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো চরিত্রের ভেতরে প্রবেশ করা এবং দর্শকের কাছে সেটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা।রহস্য আর অভিযানে ভরপুর গল্প‘গুপ্তধনের খোঁজে’ মূলত শিশু-কিশোরদের জন্য নির্মিত একটি রোমাঞ্চকর চলচ্চিত্র। গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এক রহস্যময় গুপ্তধনের অনুসন্ধান।ইতিহাসের নানা সূত্র অনুসরণ করতে গিয়ে একদল কিশোর-কিশোরী জড়িয়ে পড়ে দুর্ধর্ষ এক অভিযানে। তাদের হাতে আসে রহস্যময় মানচিত্র, অজানা সংকেত এবং অতীতের কিছু লুকিয়ে থাকা তথ্য।গল্প যত এগোয়, ততই উন্মোচিত হতে থাকে অজানা সব রহস্য। বিপদের মুখোমুখি হয়েও তারা এগিয়ে চলে সত্য অনুসন্ধানের পথে। ফলে সিনেমাটি শুধু বিনোদনই নয়, সাহস, বন্ধুত্ব এবং অনুসন্ধিৎসু মনোভাবের বার্তাও বহন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।যারা অভিনয় করেছেনসিনেমাটিতে সময়ের পাশাপাশি আরও অভিনয় করেছেন ওমর তন্ময় ফিয়ান, সৌহার্দ্য চৌধুরী, যায়ান মুহাম্মদ রুয়াইফি, তাহানি শামস নাওমি, সাইফ খান, নুসরাত আফরিন ইয়ুমনা, মনিরুল ইসলাম, নিশক তারেক আজিজ এবং রুহনাজ নাওয়ার কাশফি।শিশু ও কিশোর অভিনয়শিল্পীদের অংশগ্রহণে নির্মিত এই সিনেমাটি নতুন প্রজন্মের দর্শকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।টিজারেই কৌতূহলপেন্টাগন ফিল্মসের ব্যানারে নির্মিত চলচ্চিত্রটির সহ-প্রযোজনায় রয়েছে এমএস মাল্টিমিডিয়া। সম্প্রতি সিনেমাটির টিজার প্রকাশের পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।বিশেষ করে অ্যাডভেঞ্চার, রহস্য এবং শিশুতোষ কাহিনির সমন্বয় টিজারটিকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, খুব শিগগিরই চলচ্চিত্রটির মুক্তির আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা করা হবে।শিশুতোষ সিনেমার নতুন সম্ভাবনাবাংলাদেশে শিশু-কিশোরদের জন্য মানসম্মত চলচ্চিত্রের সংখ্যা তুলনামূলক কম। সেই জায়গা থেকে ‘গুপ্তধনের খোঁজে’ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।একদিকে যেমন রয়েছে রোমাঞ্চকর গল্প, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের অভিনয়শিল্পীদের অংশগ্রহণ। ফলে সিনেমাটি শিশুদের পাশাপাশি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও আকৃষ্ট করতে সক্ষম হতে পারে।প্রথম চলচ্চিত্রেই ব্যতিক্রমী ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করতে প্রস্তুত ইরফান রহমান সময়। এখন দেখার বিষয়, মুক্তির পর দর্শকদের হৃদয়ে কতটা জায়গা করে নিতে পারে ‘গুপ্তধনের খোঁজে’।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর