প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬
কটিয়াদীতে বিএনপি-যুবদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, থমথমে বনগ্রাম বাজার
এ.এস.এম হামিদ হাসান , কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি ||
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রাম বাজারে বিএনপি ও যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সংঘটিত এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। সংঘর্ষের সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।ঘটনার পর বনগ্রাম বাজার ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।কীভাবে শুরু হলো উত্তেজনা?স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, জাতীয় সংসদের সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন সহশ্রাম উপজেলার ধুলাদিয়া ইউনিয়নে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে অংশ নেন। সমাবেশ শেষে তার বনগ্রাম বাজারে যাওয়ার কথা ছিল। তবে তিনি সেখানে না গিয়ে সরাসরি অন্যত্র চলে যান।এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বনগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুঞ্জুরুল হক পিন্টু এবং বনগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। উপস্থিত নেতাকর্মীরা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও একপর্যায়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে মৌখিক তর্ক-বিতর্ক হলেও পরে উভয় পক্ষের সমর্থকরা জড়ো হয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।সংঘর্ষের সময় যা ঘটেছেস্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি দেশীয় অস্ত্রও ব্যবহার করা হয়েছে। কয়েকজনকে আহত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।সংঘর্ষের সময় বাজার এলাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়। অনেক পথচারী নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। এ ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।তবে আহতদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে বলে জানা গেছে।যুবদল সভাপতির অভিযোগবনগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতেই বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. নজরুল ইসলামকে বিএনপি নেতা মুঞ্জুরুল হক পিন্টু অশালীন ভাষায় অপমান করেন।তার দাবি, তিনি এর প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে সংসদ সদস্য চলে যাওয়ার পর প্রতিপক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।আনোয়ার হোসেন আরও দাবি করেন, এ ঘটনায় তিনি নিজেও আহত হয়েছেন এবং তার সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন নেতাকর্মী আঘাত পেয়েছেন।অভিযুক্ত নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নিঅভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বনগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুঞ্জুরুল হক পিন্টুর সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার অবস্থান বা ব্যাখ্যা জানা সম্ভব হয়নি।দলীয় নেতাদের উদ্বেগবনগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল আমিন মাসুদ বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা ব্যক্তিগত বিরোধ যেন আর বড় আকার ধারণ না করে, সে বিষয়ে স্থানীয় নেতারা কাজ করছেন।তিনি জানান, শান্তিপূর্ণভাবে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা চলছে এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয় সে ব্যাপারেও উদ্যোগ নেওয়া হবে।পুলিশের অবস্থান কী?কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বনগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুঞ্জুরুল হক পিন্টু এবং যুবদল সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি জানান।তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা সংঘর্ষে অংশ নিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।কেন বাড়ছে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংঘাত?রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা, প্রভাব বিস্তার এবং সাংগঠনিক অবস্থান শক্ত করার প্রবণতা থেকে অনেক সময় একই রাজনৈতিক দলের ভেতরেও উত্তেজনা তৈরি হয়। এসব বিরোধ দ্রুত সমাধান না হলে তা সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।কটিয়াদীর এ ঘটনাও স্থানীয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ কিনা, নাকি তাৎক্ষণিক উত্তেজনা থেকে ঘটেছে—সেটি তদন্ত ও পরবর্তী পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক মতবিরোধ যেন আর কোনোভাবেই জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর