প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬
ভোলাহাটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১টি ঘর ছাই, মুহূর্তেই নিঃস্ব তিন সহোদরের পরিবার
এম. এস. আই শরীফ, ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি ||
এক মুহূর্ত আগেও যেখানে ছিল মানুষের বসতি, সংসারের হাসি-কান্না আর বহু বছরের সঞ্চয়; কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সেখানে এখন শুধু পোড়া কাঠ, ছাই আর ধোঁয়ার গন্ধ। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের তিন সহোদরের ১১টি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। আগুনে কয়েক লাখ টাকার নয়, প্রায় ৩৫ লাখ টাকারও বেশি সম্পদ ভস্মীভূত হয়েছে বলে দাবি করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।রোববার (৩১ মে) দুপুর পৌনে ২টার দিকে উপজেলার জামবাড়ীয়া ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ধারণা, বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তাধীন রয়েছে।কয়েক মিনিটেই আগুন গ্রাস করে তিনটি পরিবারস্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আদমপুর গ্রামের মৃত মেহের আলীর তিন ছেলে—কুতুব আলী, মেসবাহ ও মেসের আলীর পরিবারের বসতঘরগুলো পাশাপাশি অবস্থিত। ঘটনার সময় পরিবারের অধিকাংশ সদস্য বাড়ির বাইরে ছিলেন।হঠাৎ একটি ঘর থেকে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত এক ঘর থেকে অন্য ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুরো বাড়ি আগুনের কবলে পড়ে যায়।স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। ফলে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।যা বলছেন জনপ্রতিনিধিরাজামবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আফাজ উদ্দিন পানু মিঞা এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য মো. আব্দুস সবুর জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলোর ওপর দিয়ে পল্লী বিদ্যুতের লাইন গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুতের লাইনের ত্রুটি থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।তারা বলেন, আগুনের সময় বাড়িতে তেমন কেউ না থাকায় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে ঘরে থাকা আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, কাপড়চোপড়, কৃষি সরঞ্জাম এবং দৈনন্দিন ব্যবহার্য প্রায় সবকিছুই পুড়ে গেছে।জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বর্তমানে চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে।দ্রুত পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসঘটনার খবর পাওয়ার পর ভোলাহাট ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। একটি পানিবাহী গাড়ি ও একটি উদ্ধারকারী ইউনিট নিয়ে তারা আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় শত শত মানুষ আগুন নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে ১১টি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।স্থানীয়দের মতে, এলাকা তুলনামূলকভাবে প্রত্যন্ত হওয়ায় এবং ঘরগুলো কাছাকাছি অবস্থানে থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৫ লাখ টাকাক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, আগুনে তাদের প্রায় ৩৫ লাখ টাকারও বেশি সম্পদ নষ্ট হয়েছে।পরিবারের সদস্যরা জানান, বহু বছরের কষ্টার্জিত সঞ্চয়, আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, খাদ্যশস্য, গবাদিপশুর খাবারসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র আগুনে পুড়ে গেছে।একজন ক্ষতিগ্রস্ত সদস্য বলেন, “আমরা এখন কার্যত খোলা আকাশের নিচে। কীভাবে আবার নতুন করে সংসার শুরু করব, সেটাই বুঝতে পারছি না।”কেন বাড়ছে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা?গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের পুরোনো সংযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ তার, অনিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং সচেতনতার অভাবের কারণে প্রায়ই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে বাড়ির বৈদ্যুতিক সংযোগ দীর্ঘদিন পরীক্ষা করা হয় না। ফলে ছোট একটি ত্রুটিও বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।এ ধরনের ঘটনায় শুধু সম্পদের ক্ষতিই নয়, অনেক পরিবারের জীবন-জীবিকাও হুমকির মুখে পড়ে। তাই নিয়মিত বৈদ্যুতিক লাইন পরীক্ষা, ঝুঁকিপূর্ণ তার পরিবর্তন এবং দ্রুত জরুরি সেবা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।সহায়তার অপেক্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারঅগ্নিকাণ্ডের পর তিন পরিবারের সদস্যদের মাঝে শোক ও হতাশা নেমে এসেছে। অনেকেই চোখের সামনে নিজের সবকিছু পুড়ে যেতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন।স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।এদিকে এলাকাবাসীও মানবিক সহায়তার হাত বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর