প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬
সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত, গুরুতর আহত আরও দুইজন
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় সিএনজি চালিত অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুইজন। দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সলঙ্গা থানাধীন চরিয়া এলাকায় RAB-12-এর প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সলঙ্গা থেকে যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা সিরাজগঞ্জ শহরের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা রাজশাহীগামী একটি বাস অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়।দুর্ঘটনার অভিঘাত এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করেন।পুলিশের বক্তব্যঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন Md. Aslam Ali।তিনি জানান, “সলঙ্গা থেকে যাত্রী নিয়ে সিএনজি অটোরিকশাটি সিরাজগঞ্জ শহরের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাস অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন।”তিনি আরও বলেন, নিহতদের মরদেহ Hatikumrul Highway Police Station-এ রাখা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কদুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা গেছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, মহাসড়কে বেপরোয়া গতির বাস চলাচল বেড়ে যাওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “বাসটি খুব দ্রুতগতিতে আসছিল। হঠাৎ করেই অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ হয়ে যায়।”আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এই সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা হয়। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা খুব একটা দেখা যায় না।”সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্নসাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়তে থাকায় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, ক্লান্ত চালক এবং ট্রাফিক নিয়ম না মানার কারণে এমন দুর্ঘটনা বাড়ছে।বিশেষ করে মহাসড়কে সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও ভারী যানবাহনের একসঙ্গে চলাচলকে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।তদন্ত ও পরবর্তী ব্যবস্থাপুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।উপসংহার
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে। মুহূর্তের অসতর্কতা বা বেপরোয়া গতি কত দ্রুত কয়েকটি পরিবারকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিতে পারে, এই ঘটনাই তার আরেকটি নির্মম উদাহরণ।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর