প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬
ড্যাফোডিল ও সুইসকন্ট্যাক্টের যৌথ উদ্যোগে দেশে প্রথম ইউজিসি অনুমোদিত সাস্টেইনেবিলিটি পিজিডি চালু
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
সাস্টেইনেবিলিটি দক্ষতা গড়তে দেশে প্রথম ইউজিসি অনুমোদিত পিজিডি চালুবাংলাদেশের শিল্পখাত এখন শুধু উৎপাদন বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় নেই, বরং টিকে থাকার জন্য লড়ছে বৈশ্বিক কমপ্লায়েন্স, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও সামাজিক দায়বদ্ধতার পরীক্ষায়। ঠিক এমন এক সময়ে দেশের প্রথম ইউজিসি অনুমোদিত ‘পোস্ট-গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা (পিজিডি) ইন সাস্টেইনেবল বিজনেস অ্যান্ড ইএসজি ম্যানেজমেন্ট (এসবিইএম)’ চালু করল ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) ও সুইসকন্ট্যাক্ট।২২ মে ২০২৬ ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে এই বিশেষায়িত কোর্সের প্রথম ব্যাচের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকরা বলছেন, দেশের তৈরি পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে এমন দক্ষ জনবল তৈরির প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছিল, যারা আন্তর্জাতিক ইএসজি কমপ্লায়েন্স বুঝবে এবং বাস্তব কর্মক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করতে পারবে।সুইসকন্ট্যাক্টের ‘প্রগ্রেস’ প্রজেক্টের সহযোগিতায় চালু হওয়া এই উদ্যোগে সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশে সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড দূতাবাস। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শুধু একাডেমিক ডিগ্রি নয়, এটি বাংলাদেশের শিল্পখাতকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার একটি বড় প্রস্তুতি।কেন গুরুত্বপূর্ণ এই কোর্স?বর্তমানে ইউরোপ ও আমেরিকার বড় বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু পণ্যের মান দেখছে না, বরং কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা, কার্বন নিঃসরণ, জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতাও যাচাই করছে। ফলে বাংলাদেশের রপ্তানিনির্ভর শিল্পখাতের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে এখন ‘ইএসজি’ শব্দটি প্রায় বাধ্যতামূলক হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতায় দক্ষ পেশাজীবীর ঘাটতি পূরণ করতেই নতুন এই পিজিডি প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।অনুষ্ঠানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের (এইচআরডিআই) পরিচালক ও সহযোগী অধ্যাপক তাহসিনা ইয়াসমিন বলেন, কর্মজীবী মানুষের কথা মাথায় রেখেই কোর্সের কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। যাতে চাকরির পাশাপাশি সহজে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।তিনি বলেন, শিল্পখাতে বাস্তব সমস্যার সমাধান দিতে পারে—এমন দক্ষতা তৈরির দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।শুধু তত্ত্ব নয়, থাকবে বাস্তব প্রশিক্ষণওওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে ডিআইইউ’র সাস্টেইনেবিলিটি অফিসার ইব্রাহিম হোসেন কোর্সটির উদ্দেশ্য, কাঠামো এবং বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।তার বক্তব্যে উঠে আসে, এটি কেবল শ্রেণিকক্ষভিত্তিক কোনো কোর্স নয়। বরং বাস্তব শিল্পখাতের সমস্যার সঙ্গে মিল রেখে তৈরি করা হয়েছে পুরো কারিকুলাম।সুইসকন্ট্যাক্ট বাংলাদেশের ‘প্রগ্রেস’ প্রজেক্টের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সাইয়েদুল আরেফিন বলেন, “কারিকুলামটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে এটি সরাসরি শিল্পখাতের বাস্তব চাহিদা পূরণ করতে পারে এবং বৈশ্বিক কমপ্লায়েন্স চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ নেতৃত্ব তৈরি করে।”অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রথম সেমিস্টারের ফ্যাকাল্টি ও ট্রেইনারদের পরিচিতি পর্ব। দেশের শীর্ষস্থানীয় কর্পোরেট সাস্টেইনেবিলিটি বিশেষজ্ঞরা এতে প্রশিক্ষক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন।তাদের মধ্যে রয়েছেন উর্মি গ্রুপের গ্রুপ সাস্টেইনেবিলিটি লিড এ বি এম ফখরুল আলম, টিম গ্রুপের হেড অব সা মো. মনোয়ার হোসেন, সাসনেক্স লিমিটেডের ডিরেক্টর-এথিক্যাল সোর্সিং অ্যান্ড সিএসআর আলেয়া আক্তার এবং এসজিএস বাংলাদেশের লিড-ইএসজি অ্যান্ড সাস্টেইনেবিলিটি সার্ভিসেস মুশফিকুর রাব্বী তূর্য।শিক্ষার্থীদের কার্বন ফুটপ্রিন্ট অ্যাসেসমেন্ট, এনার্জি অডিটিং, সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স, সিবিএএম এবং সিএসআরডি’র মতো বৈশ্বিক রিপোর্টিং কাঠামো নিয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।বিশ্ববাজারের চাপেই বদলাচ্ছে বাংলাদেশের শিল্পখাতএকসময় বাংলাদেশের শিল্পখাতে ‘কমপ্লায়েন্স’ বলতে মূলত শ্রম আইন বা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই বোঝানো হতো। কিন্তু এখন পরিস্থিতি অনেক বদলেছে। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো উৎপাদন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছরে যেসব প্রতিষ্ঠান পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, কার্বন নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে পারবে না, তারা আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে হিমশিম খেতে পারে।এই বাস্তবতায় সাস্টেইনেবিলিটি-ভিত্তিক উচ্চশিক্ষা শুধু নতুন একটি কোর্স নয়, বরং ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য মানবসম্পদ তৈরির কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির ইউনিভার্সিটি র্যাংকিং সেল ও সাস্টেইনেবিলিটি উইংয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের নতুন কমপ্লায়েন্স চাহিদা পূরণে এই পিজিডি প্রোগ্রাম বিশেষ ভূমিকা রাখবে।তার ভাষায়, “দেশের শিল্পখাত, বিশেষ করে আরএমজি সেক্টরের জন্য এটি সময়োপযোগী একটি উদ্যোগ।”কেন বাড়ছে ‘সাস্টেইনেবিলিটি’ নিয়ে আগ্রহ?বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন, শ্রম অধিকার, কার্বন নিঃসরণ এবং নৈতিক ব্যবসা এখন বড় আলোচনার বিষয়। ফলে শুধু সরকার বা উন্নয়ন সংস্থাই নয়, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন টেকসই ব্যবসা মডেলের দিকে ঝুঁকছে।মনোবিজ্ঞানী ও শ্রম বিশ্লেষকদের মতে, নতুন প্রজন্মের চাকরিপ্রার্থীরাও এখন শুধু বেতন নয়, কর্মপরিবেশ ও প্রতিষ্ঠানের সামাজিক অবস্থানকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে শিল্পখাতে “সাস্টেইনেবিলিটি স্কিল” ধীরে ধীরে নতুন ধরনের ক্যারিয়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে।বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির দেশে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বুঝতে পারে—এমন পেশাজীবীর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।ডিআইইউ ও সুইসকন্ট্যাক্টের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাআয়োজকরা জানিয়েছেন, এটি কেবল একটি ব্যাচ বা স্বল্পমেয়াদি একাডেমিক কার্যক্রম নয়। ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে টেকসই উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।ওরিয়েন্টেশন শেষে অতিথি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নেটওয়ার্কিং সেশন ও গ্রুপ ফটোশুট অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীদের অনেকে আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ দেশের শিল্পখাতে নতুন ধরনের পেশাদার নেতৃত্ব তৈরি করবে।ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বর্তমানে বৈশ্বিক টাইমস হায়ার এডুকেশন ইমপ্যাক্ট র্যাংকিং এবং কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাংকিংয়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। অন্যদিকে সুইসকন্ট্যাক্ট দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে দক্ষ মানবসম্পদ ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে কাজ করছে।
বাংলাদেশের আরএমজি খাতকে আরও পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে গড়ে তুলতে তাদের ‘প্রগ্রেস’ প্রজেক্ট কাজ করছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর