প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
চট্টগ্রাম কাস্টমসে এনওসি ছাড়া পাকিস্তান থেকে আমদানি করা ২৮ টন রক সল্ট আটকে দেওয়া হলো
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
নিউজ আর্টিকেল (ইনভার্টেড পিরামিড স্টাইল)চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান থেকে আনা ২৮ মেট্রিক টন রক সল্ট বা বিট লবণের একটি চালান আটকে দিয়েছে কাস্টম হাউস। শিল্প মন্ত্রণালয়ের বাধ্যতামূলক অনাপত্তি সনদ (এনওসি) না থাকায় প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে কনটেইনারটি খালাস করা যাচ্ছে না। বিষয়টি ঘিরে আমদানি প্রক্রিয়া ও নীতিমালা বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, সব কাগজপত্র থাকলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন না থাকায় আইন অনুযায়ী পণ্যটি ছাড় দেওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে আমদানিকারক পক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সমাধানে আসতে পারেনি।কেন আটকে গেল এই চালান?কাস্টম সূত্রে জানা যায়, পাকিস্তানের ‘পিক মিনারেলস প্রাইভেট লিমিটেড’ থেকে এই রক সল্ট পাঠানো হয়। বাংলাদেশে এটি আমদানি করে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ার্দা অ্যান্ড জুবায়ের এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’।২০ ফুট কন্টেইনারে আসা এই চালানের বিল অব এন্ট্রি ৪ মে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দাখিল করা হয় সিএন্ডএফ এজেন্ট ‘তাসমিয়া এন্টারপ্রাইজ’-এর মাধ্যমে। কিন্তু সঙ্গে শিল্প মন্ত্রণালয়ের এনওসি না থাকায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ খালাস অনুমোদন স্থগিত করে দেয়।কাস্টমসের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় লবণনীতি-২০২২ অনুযায়ী যেকোনো ধরনের লবণ আমদানিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রাপ্যতা সনদ বা সুপারিশ বাধ্যতামূলক।‘লবণনীতি’ নিয়ে কঠোর অবস্থানকাস্টম কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে স্থানীয় লবণ শিল্প রক্ষায় সরকার অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিরুৎসাহিত করছে।একজন কর্মকর্তা জানান, আগে কিছু ক্ষেত্রে শুধু আমদানির অনুমতিপত্র দেখিয়ে পণ্য ছাড় দেওয়া হতো। কিন্তু ২৩ এপ্রিল থেকে নতুনভাবে কঠোর নিয়ম চালু হয়েছে।তার ভাষায়,
“এখন এনওসি ছাড়া কোনো ধরনের রক সল্ট বা সোডিয়াম ক্লোরাইড জাতীয় পণ্য খালাস করা হচ্ছে না।”চালানের ভেতরে কী ছিল?এই চালানে মোট ২৮ মেট্রিক টন রক সল্ট ছিল, যা ১,১২০টি ব্যাগে প্যাক করা অবস্থায় বন্দরে পৌঁছায়।
কাস্টমস নথি অনুযায়ী, পণ্যের ইনভয়েস মূল্য মাত্র ৬,৪৪০ মার্কিন ডলার হলেও এর ওপর উচ্চ হারে শুল্ক-কর বসানো হয়েছে।মোট রাজস্ব নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৮৩ হাজার ৪৫৫ টাকা।আমদানিকারক ও সিএন্ডএফ এজেন্টের নীরবতাআমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ার্দা অ্যান্ড জুবায়ের এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’-এর মালিক মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাতের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।সিএন্ডএফ এজেন্ট ‘তাসমিয়া এন্টারপ্রাইজ’-এর পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিনিধি জানিয়েছেন,
কাস্টমস স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—এনওসি ছাড়া চালান ছাড় দেওয়া হবে না। এখন তারা শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেওয়ার চেষ্টা করছে।রক সল্ট কেন গুরুত্বপূর্ণ?বাংলাদেশে রক সল্ট বা বিট লবণ শুধু খাদ্য হিসেবে নয়, বিভিন্ন খাতে ব্যবহৃত হয়।
এর মধ্যে রয়েছে—
খাদ্য ও মসলা শিল্প
আচার ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য
হারবাল ও ইউনানি ওষুধ
কসমেটিকস
কিছু শিল্পকারখানার কাঁচামাল
‘হিমালয়ান পিংক সল্ট’ নামে পরিচিত এই লবণের চাহিদা শহরাঞ্চলে দিন দিন বাড়ছে।তবে দেশে পর্যাপ্ত লবণ উৎপাদন থাকায় সরকার আমদানি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।শুল্ক ও বাজার পরিস্থিতিরক সল্ট সাধারণত এইচএস কোড ২৫১০০৩০-এর আওতায় আমদানি হয়।
এ পণ্যে বর্তমানে প্রায় ৯৩ শতাংশের বেশি শুল্ক আরোপ রয়েছে।জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে ৬২৮ টনের বেশি রক সল্ট আমদানি হয়েছে। তবে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এই ধরনের আমদানির উল্লেখযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।বিশ্লেষণ: কেন বারবার এমন জটিলতা?অর্থনীতিবিদ ও আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়। মূল সমস্যা হচ্ছে—
নীতিমালা সম্পর্কে আমদানিকারকদের অজ্ঞতা
অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সমন্বয়ের ঘাটতি
বন্দরে কাগজপত্র যাচাইয়ের কঠোরতা
দ্রুত লাভের আশায় নিয়ম উপেক্ষা
মানসিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, অনেক সময় ব্যবসায়ীরা “আগে মাল আনি, পরে অনুমতি দেখি”—এই প্রবণতায় ঝুঁকে পড়েন। ফলে বন্দরে এসে পণ্য আটকে যাওয়ার ঘটনা বাড়ে।এতে শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, সময় ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।প্রশাসনের অবস্থানকাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, আইন সবার জন্য সমান।
এনওসি ছাড়া কোনো ছাড় নেই—এটাই বর্তমান নীতি।
তাদের মতে, এতে হয়তো কিছু ব্যবসায়িক জটিলতা তৈরি হচ্ছে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় সহায়ক হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর