প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৫
রাজনৈতিক সরকার জরুরি
ঢাকা প্রতিনিধি ||
গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচার পতনের পর যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল, শুরুতে তা পেয়েছিল সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক সমর্থন। কিন্তু মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। এখন সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন রাজনীতিক, বিশিষ্টজন এমনকি সাধারণ মানুষও।প্রথমদিকে এই সরকারকে একটি পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছিল। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া শক্তিগুলো, সরকারকে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আস্থা কিছুটা কমেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি সামনে এসেছে, তা হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ঘোষিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন হবে কি না—এই অনিশ্চয়তা এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় আলোচনার বিষয়। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, অর্থনীতির দুরবস্থা এবং শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে শ্রমিকদের বেকার হয়ে পড়া—এসব বিষয় সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন অনেকেই। বিভিন্ন কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লাখো শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈশ্বিক চাপ, বিশেষ করে মার্কিন শুল্কনীতির প্রভাব। বাজারে অস্থিরতা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে।এদিকে সরকারের ভেতরেও নানা প্রশ্ন উঠছে। ইতোমধ্যে সরকারের দুই উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি উঠেছে। প্রধান উপদেষ্টার বিরুদ্ধেও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, যদি সংস্কার দৃশ্যমান না হয় এবং নির্বাচন সুষ্ঠু না হয়, তাহলে নেতৃত্ব পরিবর্তনের কথাও ভাবতে হবে।রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি বিশিষ্টজনরাও সরব হয়েছেন। কে এম মহিউদ্দিন বলেন, এক বছরে সরকারের বড় কোনো সাফল্য চোখে পড়ছে না, বরং নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একইভাবে হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, “ভালো কথা অনেক হয়েছে, এখন দরকার পাওনার হিসাব।”সারা হোসেন বলেন, দেশে এখনো ভয় পুরোপুরি কাটেনি—এটা বিচারব্যবস্থার ভেতর-বাইরেও আছে। অন্যদিকে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মনে করেন, বৈষম্যবিরোধী চেতনার প্রতিফলন অর্থনীতি ও সংস্কারে ঠিকভাবে দেখা যায়নি।পটভূমি (Background Information)বাংলাদেশে অতীতে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় অন্তর্বর্তী বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের নজির রয়েছে। সাধারণত এসব সরকার নির্বাচনের পথ তৈরি করে এবং নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব নেয়।তবে ইতিহাস বলছে, এমন সরকার দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকলে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়—বিশেষ করে রাজনৈতিক চাপ, অর্থনৈতিক সংকট এবং জনআস্থার প্রশ্ন সামনে আসে।অন্যদিকে, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত সরকারগুলোর ওপর জনগণের প্রত্যাশা সাধারণ সময়ের চেয়ে অনেক বেশি থাকে। ফলে দ্রুত দৃশ্যমান পরিবর্তন না এলে হতাশা তৈরি হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।রাজনৈতিক অবস্থানতবুও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলো এখনো ঐক্য ধরে রাখার কথা বলছে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য আরও শক্ত করা দরকার।অন্যদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দ্রুত নির্বাচনের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, রাজনৈতিক সরকার ছাড়া এই সংকট কাটানো কঠিন হবে। তার মতে, যত দ্রুত সম্ভব ক্ষমতা নির্বাচিত সরকারের হাতে তুলে দিতে হবে।উপসংহার
সব মিলিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর এখন মূল্যায়নের মুখে। শুরুতে যে আশা ছিল, তা অনেক জায়গায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—সরকার কি দ্রুত সংস্কার ও নির্বাচন নিশ্চিত করে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারবে, নাকি সংকট আরও গভীর হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর