প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
ডিএমপি কমিশনারের কঠোর বার্তা: ঢাকায় ‘মব’ ও গণপিটুনি বরদাশত নয়, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
মূল নিউজ রিপোর্টঢাকা শহরে কোথাও ‘মব’ বা গণপিটুনির মতো ঘটনা ঘটলেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন স্পষ্ট ও কড়া বার্তা দিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নবনিযুক্ত কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো পরিস্থিতিতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। যেখানে মব তৈরি হবে, সেখানেই পুলিশ দ্রুত ও কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেবে।বুধবার (২০ মে) সকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তার বক্তব্যে আইন-শৃঙ্খলা, নগর নিরাপত্তা ও পুলিশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসে। “মব দেখলেই অ্যাকশন”—কঠোর অবস্থান ডিএমপিরডিএমপি কমিশনার স্পষ্টভাবে বলেন, ঢাকায় মব কালচার বা গণপিটুনির কোনো জায়গা নেই। কেউ যদি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেবে।তিনি বলেন, “যেখানেই মব হবে, সেখানেই পুলিশ অ্যাকশনে যাবে।”এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে নগরজুড়ে। চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে কমিশনার বলেন, অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।তিনি জানান, বিশেষ অভিযানে এখন পর্যন্ত ২০৬ জন তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করা হয়েছে।তার ভাষায়, “চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি চলবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”এই অভিযানের ফলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধীদের মধ্যে চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কিশোর গ্যাং ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের দমন অভিযানঢাকায় কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগের কথা উঠে আসে ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্যে। তিনি বলেন, গ্যাং লিডারদের তালিকা ধরে ধরে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।একই সঙ্গে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধেও অভিযান চলমান রয়েছে। তিনি জানান, জামিনে বের হয়ে অনেক অপরাধী আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, যাদেরও নজরদারিতে আনা হয়েছে।এই পরিস্থিতিকে নগর নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে পুলিশ। থানা হবে জনবান্ধব, দালালমুক্ত—নতুন নির্দেশনাডিএমপি কমিশনার থানাগুলোকে আরও জনবান্ধব ও সেবা কেন্দ্রিক করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, থানায় কোনো দালালের অস্তিত্ব থাকবে না।তিনি আরও জানান, কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। থানার মান উন্নয়ন, ফাঁড়ির সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যানবাহন সংকট দূর করার পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।এই ঘোষণা পুলিশের সেবা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে বাস্তবতা স্বীকারঢাকার অন্যতম আলোচিত সমস্যা ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়েও কথা বলেন কমিশনার। তিনি বলেন, এটি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়।তার দাবি অনুযায়ী, অতীতে একটি সিন্ডিকেট এই খাতে প্রভাব বিস্তার করেছিল। ফলে বিষয়টি এখন বহুস্তরীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঈদে ঢাকা ফাঁকা—নিরাপত্তায় বিশেষ প্রস্তুতিআসন্ন ঈদে ঢাকার নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, ঈদে ফাঁকা ঢাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।তিনি আরও জানান, উগ্রবাদ বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই, তবে সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে।সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ঈদযাত্রা ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিঈদযাত্রা সহজ করতে পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগ একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। বাড়তি ভাড়া আদায়কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।এছাড়া প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলাকে ভবিষ্যতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন কমিশনার। এআইসহ আধুনিক প্রযুক্তি অপরাধ দমনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সামাজিক বিশ্লেষণ: কেন বারবার ‘মব’ ও সহিংসতা?সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, নগর এলাকায় আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা মূলত আস্থার সংকট থেকে তৈরি হয়। বিচার ব্যবস্থার ধীরগতি, গুজব ছড়িয়ে পড়া এবং সামাজিক মাধ্যমে উত্তেজনা—এই তিনটি বিষয় মিলে অনেক সময় মানুষ দলবদ্ধ সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে।
ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে এই ধরনের ঘটনা শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, এটি সামাজিক মানসিকতারও প্রতিফলন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো না গেলে এই প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর