প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
যশোরে প্রথম নারী ওসি, তিন থানায় নতুন নেতৃত্বে পুলিশ প্রশাসনে নতুন বার্তা
মোঃ সেলিম রেজা তাজ, স্টাফ রিপোর্টার ||
যশোর জেলা পুলিশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ থানায় নতুন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিয়োগকে ঘিরে জেলায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে কেশবপুর থানায় প্রথমবারের মতো একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা ওসি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় বিষয়টি সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। অনেকেই এটিকে শুধু রুটিন বদলি হিসেবে দেখছেন না, বরং স্থানীয় প্রশাসনে নারী নেতৃত্বের নতুন বার্তা হিসেবেও দেখছেন।মঙ্গলবার (১৯ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে কেশবপুর, বাঘারপাড়া ও ঝিকরগাছা থানায় নতুন ওসিরা যোগদান করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম।নতুন এই পদায়নের পর স্থানীয়দের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জনসেবা এবং থানার কার্যক্রম নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশু সংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে কেশবপুর থানায় নতুন পরিবেশ তৈরি হতে পারে বলেও আলোচনা চলছে।কেশবপুরে ইতিহাস গড়লেন রোকসানা খাতুনএবারের রদবদলে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছেন মোসা. রোকসানা খাতুন। যশোর জেলা পুলিশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন একজন নারী কর্মকর্তা। কেশবপুর থানায় তার যোগদানকে ঘিরে স্থানীয় বিভিন্ন মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, এর আগে তিনি কোর্ট ইনসপেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে জেলা পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। সহকর্মীদের কাছেও তিনি দায়িত্বশীল ও পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত।স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে মনে করছেন, থানার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে একজন নারী কর্মকর্তার উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে ভিন্ন ধরনের আস্থা তৈরি করবে। বিশেষ করে নারী নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা, বাল্যবিয়ে কিংবা সামাজিক হয়রানির মতো বিষয়ে ভুক্তভোগীরা থানায় আরও স্বাচ্ছন্দ্যে অভিযোগ জানাতে পারবেন।সামাজিক বিশ্লেষকরাও বলছেন, স্থানীয় প্রশাসনে নারী নেতৃত্ব বাড়লে সমাজে ইতিবাচক বার্তা যায়। এতে শুধু নারীদের অংশগ্রহণই বাড়ে না, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি মানুষের বিশ্বাসও শক্তিশালী হয়।বাঘারপাড়ায় দায়িত্ব পেলেন শাহ জালাল আলমবাঘারপাড়া থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা শাহ জালাল আলম। তিনি এর আগে ঝিকরগাছা থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।জেলা পুলিশের একাধিক সূত্রের দাবি, মাঠপর্যায়ে কাজের দক্ষতা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকার কারণেই তাকে বাঘারপাড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ থানায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মাদক, চুরি, সামাজিক দ্বন্দ্ব এবং বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন। একই সঙ্গে থানার সেবার মান আরও বাড়বে বলেও আশা করছেন অনেকে।তবে স্থানীয় কিছু মানুষ মনে করছেন, শুধু প্রশাসনিক বদলি দিয়ে সব সমস্যার সমাধান হবে না। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি, জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ এবং অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির ওপরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।ঝিকরগাছায় নতুন দায়িত্বে গোলাম কিবরিয়াঝিকরগাছা থানার নতুন ওসি হিসেবে যোগ দিয়েছেন ইনসপেক্টর গোলাম কিবরিয়া। তিনি এর আগে ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্ববর্তী কর্মস্থলে তার কাজ ইতিবাচক মূল্যায়ন পেয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তাকে ঝিকরগাছার মতো ব্যস্ত থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।স্থানীয়দের ধারণা, সীমান্তবর্তী এলাকা ও ব্যস্ত বাজারকেন্দ্রিক বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তাকে বাড়তি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নেও তাকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।রুটিন বদলি হলেও ভেতরে বড় বার্তাজেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এটিকে নিয়মিত প্রশাসনিক রদবদল বলা হলেও সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করছেন, এই পরিবর্তনের ভেতরে জনবান্ধব পুলিশিংয়ের একটি বার্তা রয়েছে।সাম্প্রতিক সময়ে থানাভিত্তিক সেবা সহজ করা, অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ এবং মাঠপর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। নতুন ওসিদের কাছ থেকেও একই ধরনের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছে প্রশাসন।বিশেষ করে ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ঘটনার দ্রুত ছড়িয়ে পড়া পুলিশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। ফলে এখন শুধু অপরাধ দমন নয়, মানুষের আস্থা ধরে রাখাও থানার কর্মকর্তাদের বড় দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।নারী নেতৃত্ব নিয়ে নতুন আলোচনাকেশবপুর থানায় নারী ওসি নিয়োগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে এটিকে নারীর অগ্রযাত্রার ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে নারীরা নেতৃত্বে এলেও স্থানীয় প্রশাসনের মাঠপর্যায়ের দায়িত্বে এখনো নারীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম। সেই জায়গা থেকে এই পদায়ন গুরুত্বপূর্ণ।তবে কেউ কেউ মনে করছেন, নারী বা পুরুষ—পরিচয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে দায়িত্ব পালনের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা। কারণ থানায় সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা করে দ্রুত সেবা, নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নারী নেতৃত্ব নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা তৈরি হলেও বাস্তবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই হবে নতুন কর্মকর্তাদের বড় পরীক্ষা।সামনে যেসব চ্যালেঞ্জযশোর জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিস্তার, কিশোর গ্যাং, চুরি, সামাজিক বিরোধ এবং সড়ক নিরাপত্তার মতো নানা ইস্যুতে প্রশাসনকে প্রতিনিয়ত কাজ করতে হয়। ফলে নতুন দায়িত্ব পাওয়া কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকতে হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।বিশেষ করে থানাভিত্তিক সেবায় সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত শোনা, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।জেলা পুলিশের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং থানাকে আরও জনবান্ধব করে তুলতে নতুন ওসিদের পেশাদার ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর