প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬
তুরস্কে এক কিশোরের বন্দুক হামলা, নিহত ৪: আতঙ্কে তারসুস, চলছে ব্যাপক অভিযান
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং আরও অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। সোমবার (১৮ মে) স্থানীয় সময় এ ঘটনা ঘটে। হামলার পর থেকে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। সন্দেহভাজন হামলাকারীকে ধরতে স্থল ও আকাশপথে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।দেশটির সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি একজন ১৭ বছর বয়সী কিশোর হতে পারে। তার হাতে শটগান ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করছে পুলিশ। তবে কী কারণে সে এমন হামলা চালিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।রেস্তোরাঁ থেকে শুরু হয় রক্তাক্ত হামলাতুরস্কের মেরসিন শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত তারসুস এলাকার উত্তরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সংবাদ সংস্থা ডিএইচএ জানায়, প্রথমে এক বন্দুকধারী একটি রেস্তোরাঁয় ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই অন্তত দুজন নিহত হন।রেস্তোরাঁয় উপস্থিত লোকজনের মধ্যে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে অনেকে টেবিলের নিচে আশ্রয় নেন, কেউ আবার বাইরে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।হামলার পর বন্দুকধারী দ্রুত একটি গাড়িতে করে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে অন্য আরেকটি স্থানে গিয়ে আবারও গুলি চালালে আরও দুজন নিহত হন। এতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় চারজনে।আহতদের হাসপাতালে ভর্তিহামলায় আহত অন্তত আটজনকে আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, কয়েকজনের শরীরে গুলির আঘাত গুরুতর হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।ঘটনার পরপরই জরুরি সেবা বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পুলিশ এলাকা ঘিরে ফেলে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়।এক প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, “হঠাৎ করেই গুলির শব্দ শুনতে পাই। সবাই চিৎকার করতে থাকে। কেউ বুঝে ওঠার আগেই কয়েকজন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।”তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সব প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।কিশোর হামলাকারীর খোঁজে হেলিকপ্টার অভিযানতুরস্কের পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে হামলাকারীর বয়স ১৭ বছর। সে একটি শটগান ব্যবহার করেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্তকে ধরতে বড় ধরনের অভিযান শুরু হয়েছে।পুলিশের পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর অন্যান্য ইউনিটও অভিযানে অংশ নিয়েছে। আকাশে হেলিকপ্টার উড়িয়ে আশপাশের পাহাড়ি ও গ্রামীণ এলাকাতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।এক পুলিশ কর্মকর্তা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা হামলাকারীকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। তাকে গ্রেপ্তারে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”তবে এখন পর্যন্ত হামলার পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে পরিষ্কার কিছু জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ব্যক্তিগত বিরোধ, মানসিক অস্থিরতা নাকি অন্য কোনো কারণ—সব দিকই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।তুরস্কে বাড়ছে কিশোর সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগতুরস্কে সাম্প্রতিক সময়ে কিশোরদের জড়িয়ে সহিংস ঘটনার সংখ্যা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর ঠিক এক মাস আগেও দেশটির দুটি আলাদা এলাকায় দুই কিশোরের বন্দুক হামলার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।সেই ঘটনার রেশ না কাটতেই আবারও একই ধরনের হামলা সামনে এলো। ফলে দেশটিতে তরুণদের মধ্যে অস্ত্রের সহজলভ্যতা, সামাজিক চাপ এবং মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব, পারিবারিক অস্থিরতা এবং সহিংস সংস্কৃতির বিস্তার অনেক সময় কিশোরদের ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের দিকে ঠেলে দেয়। যদিও প্রতিটি ঘটনার পেছনে আলাদা কারণ থাকতে পারে, তবুও ধারাবাহিক এ ধরনের হামলা সমাজে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে।নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ বলছেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা জোরদার করলেই হবে না, বরং তরুণদের মানসিক সহায়তা, পারিবারিক সচেতনতা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাউন্সেলিং ব্যবস্থাও শক্তিশালী করতে হবে।স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কহামলার পর তারসুস এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকেই দ্রুত দোকানপাট বন্ধ করে দেন। রাস্তায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে।স্থানীয় প্রশাসন জনগণকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সন্দেহজনক কিছু দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সেগুলোর সবকটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত রহস্য থেকেই যাচ্ছে কারণতুরস্কের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। হামলাকারীর ব্যক্তিগত পটভূমি, তার চলাফেরা এবং কারও সঙ্গে বিরোধ ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এখন পর্যন্ত কোনো সংগঠন এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। ফলে এটি পরিকল্পিত হামলা নাকি আকস্মিক সহিংসতা, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা গেলে হামলার পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে। এর আগে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কিছু জানাতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর