প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬
খুলনায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান, ১৮ প্রতিষ্ঠানে ২ লাখ ৩ হাজার টাকা জরিমানা
মোঃ সেলিম রেজা তাজ, স্টাফ রিপোর্টার ||
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ, ভেজাল প্রতিরোধ এবং ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে খুলনা বিভাগজুড়ে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। একদিনের অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২ লাখ ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।রোববার (১৮ মে) খুলনা বিভাগীয় কার্যালয় এবং বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা কার্যালয়ের ১১টি টিম একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে চাল, ভোজ্য তেল, গ্যাস, ওষুধ, ডায়াগনস্টিক সেবা, সবজি, দেশি পেঁয়াজ, ডিম, মুরগি ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের মূল্য যাচাই করা হয়। একইসঙ্গে ব্যবসায়ীদের ক্রয় ভাউচার ও মূল্য তালিকাও পরীক্ষা করা হয়।ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তারা জানান, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি এবং খাদ্যে ভেজালসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। অভিযানের সময় ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে অনিয়ম করলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।খুলনায় হাসপাতাল ও রেস্টুরেন্টে জরিমানাখুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানার তেতুলতলা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় কমিউনিটি কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট সংরক্ষণের অভিযোগ পাওয়া যায়। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।অন্যদিকে, একই এলাকার কেডিএ অ্যাভিনিউতে সহকারী পরিচালক দিনারা জামানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে “PizzaBurg-Khulna” নামের একটি প্রতিষ্ঠানে পণ্যের মোড়ক সঠিকভাবে ব্যবহার না করা এবং যথাযথ পণ্য সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, খাবারের মান ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে রেস্টুরেন্ট ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।খাদ্যে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাখুলনার রূপসা উপজেলার সেনের বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে “আকন ফুড” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে খাদ্যদ্রব্যে নিষিদ্ধ উপাদান মেশানোর অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা বাজারে পরিচালিত অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রির অভিযোগে “মেসার্স তীসাম বীজ ও বস্তা ঘর”কে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই অভিযানে “হারুন স্টোর”কে পণ্যের মোড়ক সঠিকভাবে ব্যবহার না করার অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।অন্যদিকে “মেসার্স মা অটো” নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে সেবাগ্রহীতার জীবন ঝুঁকিতে ফেলার অভিযোগে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।বিভিন্ন জেলায় অভিযানকুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের অভিযানে সদর উপজেলার বড় বাজার ও এন এস রোড এলাকায় দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। “তৃপ্তি বাণিজ্যালয়”কে ৬ হাজার টাকা এবং “প্রভাতী ইন্ডাস্ট্রিজ”কে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।বাগেরহাটের বারুইপাড়া বাজারে “পলাশ ডিপার্টমেন্টাল স্টোর”কে যথাযথ পণ্য সরবরাহ না করার অভিযোগে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।সাতক্ষীরার বল্লী বাজারে “তাহসিন কসমেটিকস” নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর।নড়াইলের মিঠাপুর বাজারে “পরশ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার”কে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় ১ হাজার টাকা এবং “নহাটা মিষ্টান্ন ভাণ্ডার”কে অনিয়মের অভিযোগে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।যশোর ও ঝিনাইদহে মূল্য তালিকা না থাকায় জরিমানাযশোরের ঝিকরগাছা বাজারে পরিচালিত অভিযানে “পুষ্প ভাণ্ডার”কে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই অপরাধে “মিঠু স্টোর”কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া “জয় ডিপার্টমেন্টাল স্টোর”কে পণ্যের মোড়ক সঠিকভাবে ব্যবহার না করায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।ঝিনাইদহের বিষয়খালী বাজারে “ঘোষ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার”কে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্যপণ্য উৎপাদনের অভিযোগে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।মাগুরায় আইসক্রিম কারখানা ও হোটেলে অভিযানমাগুরার তাতিপাড়া ও ভয়না মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে “মেসার্স তৃপ্তি আইসক্রিম”কে অবৈধভাবে পণ্য উৎপাদন এবং খাদ্যে নিষিদ্ধ উপাদান মেশানোর অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।একই এলাকায় “মেসার্স জান্নাত হোটেল”কে অবৈধভাবে খাদ্য উৎপাদন ও মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অভিযোগে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।বাজার নিয়ন্ত্রণে বাড়ছে নজরদারিভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্থিরতা ঠেকাতে নিয়মিত তদারকি চালানো হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের বাধ্যতামূলকভাবে দৃশ্যমান স্থানে মূল্য তালিকা টাঙিয়ে রাখা, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।অভিযানের সময় অনেক ব্যবসায়ীকে মৌখিকভাবে সতর্কও করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, শুধু জরিমানা নয়, ব্যবসায়ীদের সচেতন করাও এ অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।ভোক্তা সুরক্ষায় নিয়মিত অভিযান প্রয়োজনসচেতন মহলের মতে, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, খাদ্যে ভেজাল এবং অনিয়ম ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ও নিম্নমানের খাদ্যদ্রব্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান জনস্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করছেন অনেকে।তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু অভিযান নয়, দীর্ঘমেয়াদে বাজার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা—দুই পক্ষের মধ্যেই সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জনস্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর