প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
সৌদি আরবে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ২৭ মে ঈদুল আজহার ঘোষণা—বাংলাদেশে সম্ভাব্য ঈদ ২৮ মে
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর ২০২৬ সালের ঈদুল আজহার তারিখ চূড়ান্ত করেছে Saudi Arabia। দেশটির ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২৭ মে (বুধবার) কোরবানির ঈদ উদ্যাপিত হবে। এর একদিন আগে ২৬ মে পালিত হবে হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন আরাফাত দিবস। এই ঘোষণার পর বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ধরা হচ্ছে ২৮ মে।তুমাইর ও সুদাইরে চাঁদ দেখা, আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু জিলহজরোববার সন্ধ্যায় সৌদি আরবের দুইটি গুরুত্বপূর্ণ চাঁদ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র— Tumair এবং Sudair—থেকে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এরপরই দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ও রাজকীয় আদালতের অনুমোদনে ১৪৪৭ হিজরি সনের নতুন মাস গণনা শুরু হয়।চাঁদ দেখার পর সোমবার (১৮ মে) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সৌদি আরবে জিলহজ মাস শুরু হচ্ছে। ইসলামি চন্দ্র ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, এই মাসটিই হজ ও কোরবানির ঈদের মূল সময় নির্ধারণ করে।সৌদি কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী, ৯ জিলহজ অনুষ্ঠিত হবে আরাফাত দিবস এবং ১০ জিলহজ কোরবানির ঈদ বা ঈদুল আজহা পালিত হবে Eid al-Adha।আরাফাত দিবস ও হজের মূল আনুষ্ঠানিকতাঘোষণা অনুযায়ী, ২৬ মে মঙ্গলবার পালিত হবে আরাফাত দিবস। ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী এই দিনটিকে হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ধরা হয়। কারণ এই দিনে হাজিরা আরাফাত ময়দানে অবস্থান করেন এবং আল্লাহর কাছে দোয়া ও ইবাদতে সময় কাটান।এর পরের দিন ২৭ মে বুধবার সৌদি আরবে ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হবে। এই দিনেই পশু কোরবানির মাধ্যমে ত্যাগের মহিমা প্রকাশ করেন মুসলমানরা।প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মুসল্লি Hajj পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান। এই ধর্মীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়।বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় ঈদের সম্ভাব্য তারিখসৌদি আরবের ঘোষণার পরই এখন দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ঈদের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রচলিত চাঁদ দেখার পার্থক্যের কারণে সাধারণত বাংলাদেশে ঈদ একদিন পরে পালিত হয়।সে অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশে ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হতে পারে। যদিও চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি, যা স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়।বাংলাদেশে ধর্মীয় উৎসবের সময় চাঁদ দেখা নিয়ে প্রতিবছরই কিছুটা ভিন্নতা দেখা যায়। বিশেষ করে সৌদি আরব ও দক্ষিণ এশিয়ার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে চাঁদ দেখা একদিনের পার্থক্য স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।হিজরি ক্যালেন্ডার ও ধর্মীয় সময় গণনার বাস্তবতাইসলামি চন্দ্র ক্যালেন্ডার অনুযায়ী মাস শুরু হয় নতুন চাঁদ দেখা যাওয়ার মাধ্যমে। তাই প্রতি বছর ঈদুল আজহার তারিখ কিছুটা পরিবর্তিত হয়।ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতি মুসলিম বিশ্বে ঐক্য বজায় রাখলেও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সময়ের পার্থক্য তৈরি হয়। ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ঈদের তারিখ একদিনের ব্যবধানে পড়া একটি স্বাভাবিক ঘটনা।এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়েই ঈদের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।স্থানীয় ও সামাজিক প্রভাব: প্রস্তুতির নতুন ব্যস্ততাঈদের তারিখ সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে কোরবানির পশু কেনাবেচা, হাট প্রস্তুতি এবং পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যস্ততা শুরু হয়ে যায়। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে গ্রামীণ এলাকাগুলোতেও ঈদকেন্দ্রিক বাজারে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দেয়।বিশেষ করে গরু ও ছাগলের হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের আগাম প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। পাশাপাশি অনলাইন পশু কেনাবেচার প্ল্যাটফর্মগুলোতেও চাপ বাড়ে।অর্থনীতিবিদদের মতে, ঈদুল আজহা দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। কৃষক ও খামারিরা এই সময়টিকে বছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়ের মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করেন।অন্যদিকে নগর এলাকায় পরিবহন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের ছুটি এবং ঈদযাত্রা নিয়েও ব্যাপক চাপ তৈরি হয়। প্রতি বছরই ঈদকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের ঢল দেখা যায়, যা সড়ক ও রেলপথে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।ধর্মীয় অনুভূতি ও প্রস্তুতির মানবিক দিকঈদুল আজহা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং ত্যাগ ও সহমর্মিতার প্রতীক হিসেবে মুসলিম সমাজে গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত। এই সময় মানুষ তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি করে দরিদ্রদের মাঝে মাংস বিতরণ করে।সামাজিকভাবে এটি পারিবারিক বন্ধন ও পারস্পরিক সহানুভূতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেক পরিবার বছরের এই সময়টিতে একসঙ্গে মিলিত হয়, যা সামাজিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।ভবিষ্যৎ করণীয় ও চূড়ান্ত ঘোষণাসৌদি আরবের ঘোষণার পর এখন বাংলাদেশের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে। সাধারণত সৌদি আরবের একদিন পর বাংলাদেশে ঈদ উদ্যাপিত হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে স্থানীয় আকাশ পর্যবেক্ষণের ওপর।এদিকে প্রশাসন ইতোমধ্যে ঈদযাত্রা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জানা গেছে। পরিবহন খাতে অতিরিক্ত যাত্রী চাপ সামলাতে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়ার কথাও আলোচনা চলছে।উপসংহারসৌদি আরবে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার মাধ্যমে এবারের ঈদুল আজহার সময়সূচি প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। ২৭ মে সৌদি আরবে ঈদ পালিত হলেও বাংলাদেশে এটি ২৮ মে উদ্যাপিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থানীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণার পরই জানা যাবে।
বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য এটি শুধু একটি ধর্মীয় তারিখ নয়, বরং ত্যাগ, ঐক্য এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতীক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সময়।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর