প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
রামুতে র্যাবের চমকপ্রদ অভিযান, প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ইয়াবাসহ তিন নারী গ্রেপ্তার
কক্সবাজার প্রতিনিধি ||
কক্সবাজারের রামু উপজেলায় পৃথক অভিযানে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ তিন নারীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৫। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তারা একটি সংঘবদ্ধ নারী মাদক পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা এনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করছিলেন।শনিবার (১৬ মে) বিকেলে রামু থানার বৌদ্ধ মন্দির সড়ক ও চৌমহনী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার পরিমাণ ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৫০ পিস, যার আনুমানিক বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।যাঁরা গ্রেপ্তার হয়েছেনগ্রেপ্তার তিন নারী হলেন—
লাইলি বেগম (২৬)
গুল বাহার (৩৫)
হাজেরা খাতুন (৬৫)
তাদের সবার বাড়ি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জালিয়াছড়ি এলাকায় বলে জানিয়েছে র্যাব।গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চেকপোস্টর্যাব-১৫ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কে একটি বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়। বিকেলের দিকে সন্দেহভাজন একটি ইজিবাইক থামিয়ে তল্লাশি চালানো হলে দুই নারী যাত্রীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়।পরবর্তীতে নারী সদস্যদের সহায়তায় দেহ তল্লাশি করে বিশেষ কৌশলে শরীরে পেঁচিয়ে রাখা ৩৮টি বান্ডেল ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।তথ্যের সূত্র ধরে দ্বিতীয় অভিযানপ্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব সদস্যরা রামু চৌমহনী বাজার এলাকায় আরেকটি অভিযান চালান। সেখান থেকে হাজেরা খাতুনকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে আরও ২২টি বান্ডেল ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।সব মিলিয়ে ৬০টি বান্ডেল থেকে ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৫০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে।মোবাইল ফোনও জব্দঅভিযানের সময় মাদক পাচারে ব্যবহৃত বলে সন্দেহ করা তিনটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা এসব ফোনের কল রেকর্ড ও যোগাযোগের তথ্য বিশ্লেষণ করে পাচার নেটওয়ার্কের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন।র্যাবের দাবি: দীর্ঘদিন ধরে পাচার করছিলর্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক নারীরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন যে তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতেন।তবে এসব তথ্যের পূর্ণ সত্যতা যাচাই করা হবে তদন্ত ও আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমে।সীমান্তবর্তী এলাকায় নারী চক্রের সক্রিয়তাকক্সবাজার ও পার্শ্ববর্তী সীমান্ত এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে নারী সদস্যদের ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের প্রবণতা বেড়েছে, কারণ অনেক সময় তাদের সন্দেহের বাইরে রাখা হয়।এই ঘটনায় আবারও উঠে এসেছে, পাচারকারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে নানা কৌশল ব্যবহার করছে।সামাজিক প্রভাব ও উদ্বেগমাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, পুরো পরিবার ও সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ইয়াবার বিস্তার উদ্বেগজনক। নারীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সমাজের জন্য আরও উদ্বেগের কারণ, কারণ এতে পারিবারিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়।সচেতনতা বৃদ্ধি, সীমান্ত নজরদারি জোরদার এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা ছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানকে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর করা কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।মামলা ও পরবর্তী ব্যবস্থার্যাব জানায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার তিন নারীকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে রামু থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল। একই সঙ্গে জব্দ করা মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তের কাজ অব্যাহত রয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর