প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬
লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা: নিখোঁজ বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার, আরেকজন এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির বিষয়ে নতুন তথ্য দিয়েছে বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। নিখোঁজ থাকা দুই প্রবাসীর মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যজনের মরদেহ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।বুধবার (১৩ মে) দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, গত ১১ মে রাতে লেবাননের নাবাতিয়ের মাইফাদুন এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই ভবনে কয়েকজন বাংলাদেশি কর্মী বসবাস করতেন। হামলার পর থেকেই সাতক্ষীরার শ্রী শুভ কুমার দাস ও নরসিংদীর করিম মিয়া নিখোঁজ ছিলেন।ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হয় অঙ্গবিচ্ছিন্ন মরদেহবাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, স্থানীয় লেবানিজ আর্মি ও রেডক্রসের সহায়তায় বুধবার হামলাস্থলে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। এ সময় ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে একটি অঙ্গবিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার করা হয়।সেখানে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসী রাজিব মরদেহটি শ্রী শুভ কুমার দাসের বলে শনাক্ত করেছেন বলে দূতাবাস নিশ্চিত করেছে। পরে মরদেহটি নাবাতিয়ের নাজদ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছে বলে জানা গেছে।হামলার ভয়াবহতায় ভবনটির একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। স্থানীয় সূত্র বলছে, বিস্ফোরণের পর আগুনও ছড়িয়ে পড়ে, যার কারণে উদ্ধারকাজে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি হয়।করিম মিয়ার খোঁজে উদ্বেগ বাড়ছেএকই হামলায় নিখোঁজ থাকা করিম মিয়ার বিষয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। দূতাবাসের ধারণা, তার মরদেহ ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারে।তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং পুনরায় হামলার আশঙ্কার কারণে উদ্ধার অভিযান পুরোপুরি চালানো যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এলাকায় সামরিক উত্তেজনা থাকায় উদ্ধারকর্মীদেরও সতর্ক অবস্থায় কাজ করতে হচ্ছে।দূতাবাস বলছে, স্থানীয় প্রশাসন, রেডক্রস এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হবে।যুদ্ধের ভেতর আতঙ্কে বাংলাদেশিরাদক্ষিণ লেবাননে চলমান সংঘাতের কারণে সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বসবাসকারীরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানা গেছে।স্থানীয় কয়েকজন বাংলাদেশি কর্মী জানিয়েছেন, রাতের পর রাত তারা বিস্ফোরণের শব্দ শুনছেন। অনেকেই নিরাপদ এলাকায় সরে যেতে চাইলেও কাজ, অর্থ সংকট এবং যোগাযোগ সমস্যার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।এক প্রবাসী বাংলাদেশি জানান, “কখন কোথায় হামলা হবে, কেউ জানে না। ভয় নিয়েই থাকতে হচ্ছে। কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগও বন্ধ হয়ে গেছে।”দূতাবাস কী বলছেবৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, নিহতদের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মরদেহ দেশে পাঠানো এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্নের বিষয়েও কাজ চলছে।দূতাবাস আরও বলেছে, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেক এলাকায় সরাসরি পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে বলেও জানিয়েছে কূটনৈতিক সূত্র।বাড়ছে নিহত বাংলাদেশির সংখ্যাএর আগে গত সোমবারও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার খবর সামনে আসে। সর্বশেষ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে সব তথ্য এখনো যাচাই প্রক্রিয়ায় রয়েছে, তবুও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে যারা সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় নির্মাণ, কৃষি বা ছোট কারখানায় কাজ করেন, তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন বলে মনে করা হচ্ছে।মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও প্রবাসীদের অনিশ্চয়তাবিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত শুধু স্থানীয় নাগরিকদের নয়, বিদেশি শ্রমিকদের জীবনকেও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলছে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বহু শ্রমিক জীবিকার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাতেও কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে সেখানে থাকা বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং দেশে ফেরার বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।একই সঙ্গে প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য জরুরি সুরক্ষা পরিকল্পনা, দ্রুত যোগাযোগব্যবস্থা এবং সংকটকালীন সহায়তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসছে।এখন কী হতে পারেদূতাবাস জানিয়েছে, নিখোঁজ করিম মিয়ার বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণা করা হচ্ছে না।অন্যদিকে শ্রী শুভ কুমার দাসের মরদেহ শনাক্তের পর তা দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দূতাবাস নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বলেও জানা গেছে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন প্রবাসীরা।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর