প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬
ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে উত্তাল জাবি ক্যাম্পাস, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শিক্ষার্থীদের
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও বিভাগ থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করেন। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং প্রশাসনের জবাবদিহিতা দাবিতে তারা প্রক্টরিয়াল বডি ও উপাচার্যের পদত্যাগও দাবি করেছেন।রাত সোয়া ১০টার দিকে ক্যাম্পাসের টারজান এলাকায় শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে শুরু করেন। পরে কয়েকশ নয়, প্রায় সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন বিক্ষোভ মিছিলে। মিছিলটি মেয়েদের আবাসিক হলসংলগ্ন সড়ক, চৌরঙ্গী মোড় হয়ে প্রক্টরের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। এসময় পুরো এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।অভিযোগের ঘটনার পর ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েশিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১ ব্যাচের এক ছাত্রীকে বহিরাগত এক যুবক ধর্ষণের চেষ্টা করে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে বুধবার রাতে শিক্ষার্থীরা সংঘবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে নামেন।বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। বিভিন্ন সময় হয়রানি, অনুসরণ কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগ উঠলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায় না বলে দাবি তাদের।এক শিক্ষার্থী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়কে নিরাপদ জায়গা ভাবতে চাই। কিন্তু বারবার এমন ঘটনা আমাদের আতঙ্কিত করছে। প্রশাসনের নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে।”আরেক আন্দোলনকারী অভিযোগ করেন, “ঘটনার পরপরই প্রশাসনের দায়িত্বশীল কাউকে মাঠে দেখা যায়নি। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ আরও বেড়েছে।”প্রক্টরিয়াল বডির বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতার অভিযোগবিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের পদত্যাগ দাবি করেন। তাদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দুর্বলতা থাকলেও প্রশাসন সেটি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে পারছে না।শিক্ষার্থীরা স্লোগানে স্লোগানে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। একই সঙ্গে তারা বলেন, শুধু ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দিলেই হবে না; নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চান তারা।আন্দোলনকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত এলাকাগুলোতেও পর্যাপ্ত নজরদারি নেই। বিশেষ করে রাতের সময় বহিরাগতদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন অনেকে।উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিও উঠেছেবিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগও দাবি করেন। তারা বলেন, এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দ্রুত ঘটনাস্থলে না আসা হতাশাজনক।শিক্ষার্থীদের দাবি, ঘটনার পর রাত পর্যন্ত উপাচার্য কিংবা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কোনো প্রতিনিধিকে আন্দোলনস্থলে দেখা যায়নি। এতে আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ আরও বাড়ে।তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামআন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছেন। তাদের দাবি, এই সময়ের মধ্যে অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারসহ দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তারা আলোচনা করছেন। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরাও এতে সংহতি প্রকাশ করছেন।নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নঘটনাটি আবারও দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে আবাসিক ক্যাম্পাসগুলোতে বহিরাগতদের অবাধ চলাচল, পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক সাড়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন ঘটনায় শুধু অভিযুক্তকে শনাক্ত করাই যথেষ্ট নয়; একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা কাঠামো কতটা কার্যকর, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা দরকার। কারণ নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা ও মানসিক পরিবেশে বড় প্রভাব ফেলে।তারা আরও মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্রুত সমন্বয় না হলে এমন পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে আরও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।পরিস্থিতির দিকে নজর সবারবুধবার গভীর রাত পর্যন্ত প্রক্টরের কার্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান অব্যাহত ছিল বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনের তরফ থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।এদিকে অভিযুক্ত যুবকের পরিচয়, ঘটনার প্রকৃত বিবরণ এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দুটোই রয়ে গেছে।
বর্তমানে পুরো ক্যাম্পাসের দৃষ্টি প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। শিক্ষার্থীদের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামের মধ্যে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর