প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬
নওগাঁর নিয়ামতপুরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু—তদন্তে পুলিশ
মোঃ মমিন আলী, জেলা প্রতিনিধি ||
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় শ্রাবন্তী (১৭) নামে এক তরুণ গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়ির একটি ঘর থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।নিহত শ্রাবন্তী উপজেলার সদর এলাকার বালাহৈর গ্রামের শ্যামলের মেয়ে। তার স্বামীর নাম সুমন। বিয়ের পর তিনি স্বামীর বাড়ি কুতুবপুর গ্রামেই বসবাস করছিলেন।সকালেই মিলল ঝুলন্ত মরদেহস্থানীয় সূত্র ও পরিবার জানায়, বুধবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে বাড়ির লোকজন মাটির তৈরি দোতলা ঘরের ভেতরে শ্রাবন্তীকে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে দ্রুত তাকে নামানো হলেও তখন আর কোনো সাড়া মেলেনি।ঘটনার খবর আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। অনেকে ঘটনাটিকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছেন না বলেও জানান। পরে খবর পেয়ে নিয়ামতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পাশাপাশি ঘটনাস্থলের বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হয়।শ্বশুরের বক্তব্যনিহতের শ্বশুর বীরেন দাস সাংবাদিকদের জানান, পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে শ্রাবন্তী ঝুলে আছেন।তিনি দাবি করেন, ঘটনার আগে পরিবারের সঙ্গে কোনো ঝগড়া বা বিরোধের বিষয় তাদের নজরে আসেনি। তবে ঠিক কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, সেটি তারা বুঝতে পারছেন না।পরিবারের সদস্যদের অনেকেই এ ঘটনায় হতবাক হয়ে পড়েছেন। প্রতিবেশীরাও বলছেন, শ্রাবন্তীকে আগের দিন পর্যন্ত স্বাভাবিক দেখেছেন।এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্নঘটনার পর থেকেই এলাকাবাসীর মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে রহস্যজনক মৃত্যু হিসেবে দেখছেন। তাদের দাবি, কেবল প্রাথমিক ধারণার ওপর নির্ভর না করে পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা দরকার।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, তরুণ বয়সে এমন মৃত্যু সহজভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। মৃত্যুর আগে কোনো পারিবারিক চাপ, মানসিক অস্থিরতা বা অন্য কোনো ঘটনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত।তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যনিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে।”তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।পুলিশের দাবি, ঘটনাটিকে ঘিরে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোও তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হবে।অল্প বয়সে বিয়ে ও মানসিক চাপ নিয়ে নতুন করে আলোচনাএই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় অল্প বয়সে বিয়ে, পারিবারিক মানসিক চাপ এবং নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সমাজকর্মীদের মতে, গ্রামাঞ্চলে অনেক তরুণী বিয়ের পর নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে গিয়ে নানামুখী চাপে পড়েন। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই মানসিক কষ্ট প্রকাশের সুযোগ বা সহায়তা তারা পান না।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক সমস্যা, দাম্পত্য টানাপোড়েন, সামাজিক চাপ কিংবা মানসিক অবসাদ—এসব বিষয় অনেক সময় ভেতরে ভেতরে বড় সংকটে রূপ নেয়। তাই পরিবারের সদস্যদের আরও সচেতন ও সহানুভূতিশীল হওয়ার পরামর্শ দেন তারা।তবে শ্রাবন্তীর ক্ষেত্রে ঠিক কোন কারণ কাজ করেছে, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নিয়ে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না।তদন্তের দিকে তাকিয়ে পরিবার ও এলাকাবাসীশ্রাবন্তীর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও এলাকাবাসী এখন পুলিশের তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে। অনেকেই চান, ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য সামনে আনা হোক।এদিকে, তরুণ এই গৃহবধূর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। বুধবার বিকেল পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য জানায়নি পুলিশ।
ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর