প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬
নারায়ণগঞ্জে গোলাপি এলবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ ঘিরে কৌতূহলের ঢল, ৭০০ কেজির প্রাণী এখন ভাইরাল
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়া এলাকায় একটি খামারে রাখা বিশাল আকৃতির এক এলবিনো মহিষ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই মহিষটির নাম রাখা হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’, যা ঘিরে এলাকায় দেখা দিয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও দর্শনার্থীদের ভিড়। সোনালি চুলের মতো মাথার লোমের কারণে এমন ব্যতিক্রমী নামকরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খামার মালিক। ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর এটি এখন স্থানীয়ভাবে এক ধরনের আকর্ষণীয় ‘ভাইরাল স্পট’-এ পরিণত হয়েছে।সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর খামারে ভিড়গত কয়েকদিনে মহিষটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জের রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে মানুষের উপস্থিতি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন বয়সী মানুষ খামারটিতে ভিড় করছেন শুধুমাত্র এই মহিষটিকে এক নজর দেখার জন্য।অনেকে মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন, আবার কেউ কেউ কাছে গিয়ে প্রাণীটিকে ছুঁয়ে দেখার চেষ্টা করছেন। খামার কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে যেখানে নির্দিষ্ট সংখ্যক দর্শনার্থী আসতেন, এখন সেখানে দিনভর মানুষের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।স্থানীয়দের মতে, একটি পশুকে ঘিরে এমন আগ্রহ সাধারণত দেখা যায় না, যা মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শক্তিকেই আবারও সামনে এনেছে।‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামকরণের পেছনের গল্পখামার মালিক জিয়া উদ্দিন মৃধা জানান, প্রায় ১০ মাস আগে তিনি রাজশাহীর একটি পশুর হাট থেকে মহিষটি কিনে আনেন। তখন থেকেই এর মাথার লোম এবং গঠন দেখে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আলাদা কৌতূহল তৈরি হয়।তিনি বলেন, “আমার ছোট ভাই প্রথমে মজা করে বলেছিল, এর মাথার চুল তো একদম বিদেশি স্টাইলের মতো। তারপরই রসিকতা করে নাম রাখা হয় ডোনাল্ড ট্রাম্প।”তিনি আরও জানান, এলবিনো প্রজাতির এই মহিষ সাধারণত শান্ত স্বভাবের হয়। আকারে বড় হলেও এটি খুব বেশি আক্রমণাত্মক আচরণ করে না। তবে সঠিক যত্ন ও পরিবেশ না পেলে অন্য যেকোনো পশুর মতোই অস্বস্তি প্রকাশ করতে পারে।নামটি নিয়ে কেউ কেউ মজার ছলে প্রতিক্রিয়া দিলেও, খামার কর্তৃপক্ষ এটিকে শুধু একটি রসিকতার অংশ হিসেবেই দেখছেন।শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও বিশেষ পরিচর্যাখামারের পরিচর্যাকারীদের মতে, এই মহিষটির ওজন প্রায় ৭০০ কেজির কাছাকাছি। এলবিনো হওয়ায় এর শরীর তুলনামূলকভাবে হালকা গোলাপি আভাযুক্ত এবং মাথার লোম সোনালি রঙের মতো দেখায়, যা এটিকে অন্য সব মহিষ থেকে আলাদা করে তুলেছে।কাউসার নামে এক পরিচর্যাকারী জানান, মহিষটিকে প্রতিদিন নিয়মিত যত্নের মধ্যে রাখা হয়। দিনে চারবার পর্যন্ত পরিষ্কার করা হয় এবং পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়।খাবারের তালিকায় রয়েছে ভুট্টা, খৈল, ভুসি, ধানের কুড়া ও তাজা ঘাস। তিনি বলেন, “এটা শুধু একটা পশু না, এখন আমাদের খামারের একটা আলাদা পরিচিতি হয়ে গেছে। তাই বিশেষ যত্নেই রাখা হচ্ছে।”খামার কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, কোরবানির মৌসুমকে সামনে রেখে পশুগুলোর স্বাস্থ্য ও ওজন বজায় রাখতে অতিরিক্ত নজর দেওয়া হচ্ছে।কোরবানির বাজার ও অর্থনৈতিক প্রস্তুতিরাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্ম এবার কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে অন্তত ২০০টি পশু প্রস্তুত করেছে বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সবগুলো পশুই ইতিমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে।জিয়া উদ্দিন মৃধা জানান, “আমাদের লক্ষ্য ছিল মানসম্মত পশু সরবরাহ করা। তাই শুরু থেকেই আমরা যত্ন নিয়ে পশুগুলো বড় করেছি। এখন বাজারে ভালো সাড়া পাচ্ছি।”তিনি আরও বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের মহিষটি লাইভ ওয়েট হিসেবে প্রতি কেজি ৫৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এটি ক্রেতার কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে।স্থানীয় পশু বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বড় আকার ও ভিন্নধর্মী নামের কারণে এই মহিষটি আলাদা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, যা পরোক্ষভাবে খামারের অন্যান্য পশুর বিক্রিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।দর্শনার্থীদের প্রতিক্রিয়া ও কৌতূহলখামারে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। কেউ কেউ শুধু ফেসবুকে দেখেই কৌতূহল নিয়ে এসেছেন, আবার অনেকে পরিবার নিয়ে সময় কাটাতে এসেছেন।রাসেল নামে এক দর্শনার্থী বলেন, “ফেসবুকে দেখে বিশ্বাস হয়নি। কিন্তু এসে দেখি সত্যিই মহিষটার মাথার চুল আর রং অনেকটা ট্রাম্পের মতোই লাগে।”অন্যদিকে মীম নামের এক দর্শনার্থী তার সন্তানকে নিয়ে এসেছিলেন। তিনি বলেন, “শুরুতে মনে হয়েছিল এটা হয়তো বাড়িয়ে বলা, কিন্তু সামনে এসে দেখি সত্যিই আলাদা একটা প্রাণী। বাচ্চারাও খুব উপভোগ করেছে।”এ ধরনের ভিড় সামলাতে খামার কর্তৃপক্ষকে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে বলেও জানা গেছে।বিশ্লেষণ: ভাইরাল সংস্কৃতি ও স্থানীয় খামার অর্থনীতিএই ঘটনাটি শুধু একটি পশুকে ঘিরে কৌতূহল নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব কতটা গভীর হতে পারে তার একটি বাস্তব উদাহরণ। সামান্য একটি রসিকতাপূর্ণ নামকরণই একটি সাধারণ খামারকে স্থানীয় পর্যটনের মতো আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত করেছে।বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যেকোনো ব্যতিক্রমী বিষয় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা সরাসরি অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে। এই ক্ষেত্রে খামারটি অতিরিক্ত প্রচার পেয়েছে, যা তাদের অন্যান্য পশুর বিক্রিতেও সহায়তা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।তবে একই সঙ্গে এটি একটি দায়িত্বশীলতার প্রশ্নও তৈরি করে। কারণ ভাইরাল হওয়ার জন্য অতিরিক্ত অস্বাভাবিকতা তৈরি করা ভবিষ্যতে ভুল বার্তা দিতে পারে। তাই খামার বা উদ্যোক্তাদের উচিত বাস্তব ও নৈতিক সীমার মধ্যে থেকেই প্রচারকে কাজে লাগানো।উপসংহারনারায়ণগঞ্জের রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে থাকা ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের এলবিনো মহিষটি এখন শুধু একটি পশু নয়, বরং স্থানীয়ভাবে আলোচনার একটি কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শক্তি, মানুষের কৌতূহল এবং ব্যতিক্রমী নামকরণের কারণে এটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে ওঠে।
আগামী দিনে কোরবানির মৌসুমে এই ধরনের বড় আকারের পশুর বাজার আরও সক্রিয় হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন আলোচনার পেছনে থাকা অর্থনৈতিক সুযোগ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি দায়িত্বশীল প্রচারও সমান জরুরি।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর