প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
মাধবপুরে ইটবোঝাই ট্রাকে মিলল কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য, বিজিবির অভিযানে চোরাচালান জব্দ
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
হবিগঞ্জের মাধবপুরে ইটবোঝাই একটি ট্রাক থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত এলাকা দিয়ে অভিনব কৌশলে পণ্য পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্টরা। অভিযানের সময় ট্রাকটি আটক করা হলেও জড়িত কয়েকজন পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।শনিবার (১০ মে) ভোররাতে মাধবপুর উপজেলার একটি সড়কে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ করা হয়। বিজিবি জানিয়েছে, ট্রাকটিতে উপরে ইট বোঝাই করা থাকলেও নিচে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বিভিন্ন ভারতীয় পণ্য।ইটের নিচে লুকানো ছিল চোরাই মালস্থানীয় সূত্র ও বিজিবি সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তঘেঁষা এলাকা থেকে ট্রাকটি দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছিল। সন্দেহ হলে বিজিবির একটি টহল দল গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশি চালায়। পরে ট্রাকের ভেতরে ইটের স্তরের নিচে বিপুল পরিমাণ বিদেশি পণ্যের সন্ধান পাওয়া যায়।জব্দ করা পণ্যের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় কাপড়, কসমেটিকস, খাদ্যপণ্য ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে কোন কোন পণ্য কত পরিমাণে ছিল, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছিল।বিজিবির কর্মকর্তারা দাবি করছেন, চোরাকারবারিরা নজর এড়াতে নিয়মিত পণ্যবাহী ট্রাক ব্যবহার করছে। বিশেষ করে ইট, বালু কিংবা নির্মাণসামগ্রীর আড়ালে বিদেশি পণ্য পাচারের প্রবণতা বেড়েছে।গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানঅভিযান সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সীমান্ত এলাকা দিয়ে বড় ধরনের চালান আসছে—এমন তথ্য আগে থেকেই তাদের কাছে ছিল। এরপর কয়েক ঘণ্টা নজরদারির পর সন্দেহভাজন ট্রাকটি শনাক্ত করা হয়।তল্লাশির সময় চালক ও তার সহকারীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে ট্রাকটি বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা হয়। এ সময় লুকানো অবস্থায় পণ্যগুলো পাওয়া যায়। তবে অভিযান শুরুর আগেই চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।সীমান্তজুড়ে বাড়ছে চোরাচালানের ঝুঁকিসংশ্লিষ্টরা বলছেন, হবিগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ভারতীয় পণ্য অবৈধভাবে দেশে প্রবেশের অভিযোগ প্রায়ই উঠে আসে।স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশের দাবি, রাতের আঁধারে বিভিন্ন যানবাহনে করে সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাই পণ্য আনা-নেওয়া করা হয়। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানের কারণে অনেক সময় চালান আটকও হচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ চোরাচালান শুধু রাষ্ট্রের রাজস্ব ক্ষতির কারণ নয়, এটি স্থানীয় বাজার ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করে। বৈধ ব্যবসায়ীরা এতে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েন এবং বাজারে অনিয়ন্ত্রিত পণ্যের প্রবেশ বাড়ে।বিজিবির বক্তব্যঅভিযানের বিষয়ে বিজিবির এক কর্মকর্তা জানান, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং চোরাচালান ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান চলছে। তিনি বলেন, অবৈধভাবে কোনো পণ্য দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তবে আটক ট্রাকের মালিক বা চালকের পূর্ণ পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়ামাধবপুরের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান পুরোপুরি বন্ধ না হলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিযান কিছুটা বেড়েছে। তারা আরও কঠোর নজরদারি ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “অবৈধ পথে আসা পণ্যের কারণে বৈধ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। নিয়মিত অভিযান হলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে।”উপসংহার
মাধবপুরে ইটবোঝাই ট্রাকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দের ঘটনায় আবারও সীমান্তপথে চোরাচালান ইস্যু সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু অভিযান নয়, সীমান্ত নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। তদন্ত শেষে এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর