প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
"ইসলামপুরের উন্নয়ন নিয়ে প্রশাসনের সংলাপ, স্বাস্থ্য-শিক্ষা থেকে বেকারত্ব ইস্যুতে গুরুত্ব".
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা-তে সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকে সামনে রেখে প্রশাসনের উদ্যোগে একটি মতবিনিময় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে আয়োজিত এই সংলাপে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।শনিবার (৯ মে) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সংলাপের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে থাকা বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয় সেখানে। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।উন্নয়নের নানা খাত নিয়ে আলোচনাসংলাপে সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্রামীণ সড়ক, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং তরুণদের কর্মসংস্থান তৈরির বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। বক্তারা মনে করেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, মানুষের জীবনযাত্রার বাস্তব পরিবর্তন নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু বলেন, ইসলামপুরকে একটি আধুনিক ও উন্নত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, উন্নয়ন শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের সমন্বিত অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই অগ্রগতি সম্ভব নয়।তিনি আরও উল্লেখ করেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাও আগামী দিনের বড় লক্ষ্য বলে জানান তিনি।প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বানউপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হোসাইন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সংলাপে স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মাঠপর্যায়ের সমস্যাগুলো সবচেয়ে ভালো জানেন সাধারণ মানুষই।তিনি বলেন, অনেক সময় উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হলেও বাস্তব চাহিদার সঙ্গে তার মিল থাকে না। তাই জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে পরিকল্পনা গ্রহণ করলে তা বেশি কার্যকর হয়। একই সঙ্গে তিনি সরকারি বিভিন্ন সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।সংলাপে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজওয়ানুল ইফতেকার ভূমি সংক্রান্ত সেবা সহজীকরণ নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে প্রশাসন ডিজিটাল সেবার পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করছে।রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিদের মতামতঅনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নবী নেওয়াজ খান লোহানী বিপুল, সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন এবং পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম ঢালী বক্তব্য রাখেন। তারা এলাকার উন্নয়নে রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।বক্তারা দাবি করেন, ইসলামপুরে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় চিকিৎসা সেবার সীমাবদ্ধতা এবং তরুণদের বেকারত্ব এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।এছাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ গাজী আব্দুল কাইয়ুম আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, উন্নয়নের জন্য শান্তিপূর্ণ সামাজিক পরিবেশ অপরিহার্য।সাংবাদিক ও সুধীজনদের অংশগ্রহণসংলাপে স্থানীয় সাংবাদিক, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সুধীজনরা অংশ নেন। ইসলামপুর প্রেসক্লাব-এর সভাপতি মোরাদুজ্জামান মোরাদ বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি স্বচ্ছতা ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এমন সংলাপ নিয়মিত হলে সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো সরাসরি প্রশাসনের কাছে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়। তারা আশা প্রকাশ করেন, আলোচনায় উঠে আসা বিষয়গুলো বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।উন্নয়ন আলোচনার সামাজিক গুরুত্বস্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের সংলাপ শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামীণ অঞ্চলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা বাড়ছে। তাই পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।বিশেষ করে তরুণদের বেকারত্ব, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং অবকাঠামোগত বৈষম্যের মতো বিষয়গুলো দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি হয়ে উঠেছে।ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ইঙ্গিত
সংলাপ শেষে আয়োজকরা জানান, উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাব ও মতামত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মতবিনিময় সভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর