প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মার্চ ২০২৫
জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত, বায়তুল মোকাররমে ৫ জামাত
মোঃ হাবিব, নির্বাহী সম্পাদক ||
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে রাজধানী ঢাকায় চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এবারও প্রধান ঈদের জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দান-এ অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এ পাঁচটি ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় ঈদগাহের প্রধান জামাতে অংশ নেবেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। এই জামাতে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক এবং ক্বারী হিসেবে থাকবেন মুয়াজ্জিন মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
ঈদের প্রধান জামাতকে ঘিরে ইতিমধ্যে হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখানে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন বলে জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাঁচ স্তরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেখানে পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বা অন্য কোনো কারণে জাতীয় ঈদগাহে জামাত আয়োজন সম্ভব না হলে বিকল্প হিসেবে সকাল ৯টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এমন প্রস্তুতিও আগেই রাখা হয়েছে।
বায়তুল মোকাররমে ঈদের জামাত শুরু হবে সকাল ৭টা থেকে। এরপর এক ঘণ্টা পরপর মোট পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যার শেষ জামাত হবে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে। প্রতিটি জামাতে আলাদা আলাদা ইমাম ও মুকাব্বির দায়িত্ব পালন করবেন। এতে করে মুসল্লিরা সুবিধামতো সময়ে নামাজ আদায় করতে পারবেন।
রাজধানীজুড়ে ঈদের নামাজ আয়োজনকে কেন্দ্র করে বড় পরিসরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঢাকায় মোট ১ হাজার ৪৩৫টি মসজিদ এবং ১৮৯টি ঈদগাহে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এই বিশাল আয়োজনকে ঘিরে ঢাকা মহানগর পুলিশ নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজিয়েছে।
উত্তর ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য আগারগাঁও পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠ-এ বড় জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে সকাল সাড়ে ৮টায় প্রায় ১০ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন।
এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে—সকাল ৮টা ও ৯টায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠেও বড় জামাতের আয়োজন রাখা হয়েছে। একইভাবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-এ সকাল সোয়া ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে, প্রয়োজনে বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ঈদের জামাতের আয়োজন রয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় সংসদ ভবন দক্ষিণ প্লাজা-এ সকাল সাড়ে ৮টায় জামাত হবে। এছাড়া গুলশান, ধানমন্ডি, মিরপুর, লালবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক জামাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে মানুষ সহজে অংশ নিতে পারেন।
ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে বিশেষ কিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে জাতীয় ঈদগাহে মুসল্লিদের জায়নামাজ না আনার পরামর্শ দিয়েছেন ডিএসসিসির প্রশাসক শাহজাহান মিয়া। তিনি জানান, মাঠে আরামদায়ক কার্পেট বিছানো হয়েছে এবং অজু, শৌচাগার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নারীদের জন্য আলাদা নামাজের স্থান এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য মেডিকেল টিমও প্রস্তুত থাকবে।
ঈদুল ফিতর মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবগুলোর একটি। দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখার পর এই দিনটি আসে আনন্দ, কৃতজ্ঞতা এবং মিলনের বার্তা নিয়ে। তাই এই দিনে একসঙ্গে নামাজ আদায় করা ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
সব মিলিয়ে, রাজধানীতে এবারের ঈদ জামাতকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। নিরাপত্তা, সুযোগ-সুবিধা এবং বিকল্প ব্যবস্থার সমন্বয়ে আয়োজকরা একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ঈদ উদযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। মুসল্লিরা যেন নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে নামাজ আদায় করতে পারেন, সেটিই এখন সংশ্লিষ্টদের প্রধান লক্ষ্য।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর