প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৩
তীব্র তাপপ্রবাহে দেশের সব মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ, শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত মাউশির
ঢাকা প্রতিনিধি ||
দেশজুড়ে অস্বাভাবিক ও তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন যখন প্রায় অচল, তখন শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা কর্তৃপক্ষ। দেশের সব মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণি কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) বুধবার (৭ জুন) এক চিঠির মাধ্যমে এ নির্দেশনা জারি করে জানায়, আগামী ৮ জুন পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।প্রখর রোদে বিপর্যস্ত জনজীবনগত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। সকাল থেকেই সূর্যের তাপমাত্রা এতটাই তীব্র যে বাইরে বের হওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন এই তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি রেকর্ড করা হচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাতাসে আর্দ্রতার তারতম্য এবং দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যের তাপ সরাসরি পড়ায় পরিস্থিতি আরও অসহনীয় হয়ে উঠছে।কেন হঠাৎ স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত?মাউশির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে স্কুলে যাতায়াতের সময় শিক্ষার্থীরা সরাসরি রোদের মধ্যে পড়ছে, যা হিটস্ট্রোকসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।একজন অভিভাবক বলেন,
“এই গরমে ছোট বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানো সত্যিই ভয়ংকর হয়ে গেছে। সিদ্ধান্তটা একদম সময়োপযোগী।”শিক্ষকদের মধ্যেও স্বস্তি দেখা গেছে। তাদের মতে, এই গরমে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছিল।প্রাথমিক স্কুলেও আগেই ছুটিএর আগে একই ধরনের পরিস্থিতিতে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোও সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী বলছেন অনেকে।শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উভয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় এমন পদক্ষেপ জরুরি ছিল।স্বাস্থ্যঝুঁকি কতটা বড়?চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের তীব্র গরমে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা ও বমি ভাবের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।একজন চিকিৎসক বলেন,
“শিশুদের শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে যায়। এই সময়ে বেশি পানি পান করা ও অযথা বাইরে না যাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবআবহাওয়াবিদরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাপপ্রবাহের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তন বড় ভূমিকা রাখছে।শহরাঞ্চলে গাছপালা কমে যাওয়া, কংক্রিটের আধিক্য এবং বায়ুদূষণ পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং নিয়মিত চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।জনজীবনে প্রভাবতাপপ্রবাহের কারণে শুধু শিক্ষা নয়, সাধারণ জীবনও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। শ্রমজীবী মানুষদের কাজের সময় কমে যাচ্ছে, রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচলও কমে এসেছে।একজন রিকশাচালক বলেন,
“দুপুরে কাজ করা প্রায় অসম্ভব। আয়ও অনেক কমে গেছে।”অভিভাবকদের জন্যও এটি বাড়তি চাপ তৈরি করেছে, কারণ অনেককে সন্তানদের ঘরে রেখে কাজে যেতে হচ্ছে।সামনে কী হতে পারে?শিক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্কুল খোলার বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হবে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে অনলাইন ক্লাস বা বিকল্প সময়সূচির মতো ব্যবস্থা আরও গুরুত্ব পেতে পারে।উপসংহার
তীব্র তাপপ্রবাহে দেশের সব মাধ্যমিক স্কুল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় একটি জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এটি সাময়িক সমাধান হলেও, দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং শিক্ষা অবকাঠামোকে তাপসহনীয় করে তোলার কোনো বিকল্প নেই।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ হাবিব
বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুর কাদের জিলানী
বিজ্ঞাপন ও তথ্য দিতেঃ 01860-519390
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর