পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও সমাজে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার কাজ কীভাবে চলছে—সেই বাস্তব চিত্র এবার সরাসরি জানলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে দেশের অন্যতম বিশেষায়িত পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান সিআরপি তাদের নানা কার্যক্রম তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর সামনে।
রোববার (২৪ মে) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বৈঠকে সিআরপি কর্মকর্তারা শুধু চিকিৎসা নয়, একজন পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষকে কীভাবে মানসিকভাবে শক্ত করে তোলা হয় এবং পরিবার ও সমাজের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত করা হয়—সেসব বিষয়ও তুলে ধরেন।
বাংলাদেশে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনা, কর্মস্থলে দুর্ঘটনা, স্ট্রোক কিংবা বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় বহু মানুষ স্থায়ী বা আংশিক পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন। তাঁদের অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে সংকটে পড়ে যান। এমন বাস্তবতায় সিআরপির মতো প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা দিন দিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, পুনর্বাসন শুধু শারীরিক চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন রোগী যেন আত্মবিশ্বাস ফিরে পান এবং নতুনভাবে জীবন শুরু করতে পারেন, সেটিও বড় বিষয়।
সাক্ষাৎকালে সিআরপির প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ড. ভ্যালেরি এ. টেইলর উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ট্রাস্টির নির্বাহী পরিচালক ড. মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন, ট্রাস্টি চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সাইদুর রহমান এবং ট্রাস্টি মুশতাক আহমেদসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সিআরপির চলমান চিকিৎসা কার্যক্রম, পুনর্বাসন সেবা, প্রশিক্ষণ ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সিআরপিকে অনেকে কেবল একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখলেও বাস্তবে এটি বহু মানুষের জীবনে নতুনভাবে দাঁড়িয়ে যাওয়ার জায়গা। এখানে চিকিৎসার পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি, কর্মমুখী প্রশিক্ষণ, মানসিক সহায়তা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে এখনো প্রতিবন্ধিতা ও পক্ষাঘাত নিয়ে সামাজিক সংকোচ রয়েছে। অনেক পরিবার আক্রান্ত সদস্যকে ঘরের ভেতর সীমাবদ্ধ রাখে। ফলে রোগীর শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি মানসিক অবস্থাও দ্রুত খারাপ হতে থাকে।
এমন পরিস্থিতিতে পুনর্বাসনকেন্দ্রগুলো শুধু চিকিৎসা দেয় না, বরং পরিবারকেও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে প্রস্তুত করে। একজন মানুষকে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজ—তিন পক্ষের সমন্বিত ভূমিকা দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনা ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতার কারণে মেরুদণ্ডে আঘাতপ্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে বিভিন্ন মহলের দাবি। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা না পেলে অনেক রোগী স্থায়ীভাবে চলাচলের ক্ষমতা হারান।
এ কারণে পুনর্বাসন ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে জেলা পর্যায়ে উন্নত পুনর্বাসন সেবা না থাকায় অনেক রোগীকে রাজধানীমুখী হতে হয়, যা তাদের জন্য বাড়তি কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে এখন শুধু চিকিৎসা নয়, দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ব্যবস্থাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ চিকিৎসা শেষে রোগী যদি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে না পারেন, তাহলে পুরো পরিবার অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপে পড়ে যায়।
এই বৈঠককে অনেকে প্রতীকী দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। কারণ পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়টি সাধারণত মূলধারার আলোচনায় খুব বেশি আসে না। অথচ এটি একটি বড় সামাজিক বাস্তবতা।
স্বাস্থ্য অধিকারকর্মীদের মতে, দেশে প্রতিবন্ধী ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি জরুরি। শুধু চিকিৎসা নয়, কর্মসংস্থান, চলাচলের সুযোগ এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁদের দাবি, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ একসঙ্গে কাজ করলে পুনর্বাসন সেবার পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব। একইসঙ্গে সচেতনতা বাড়লে দুর্ঘটনার পর প্রাথমিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিয়েও মানুষের ধারণা বদলাবে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সিআরপি প্রতিনিধিদের এই সাক্ষাৎ সেই আলোচনাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোববার, ২৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬
পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও সমাজে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার কাজ কীভাবে চলছে—সেই বাস্তব চিত্র এবার সরাসরি জানলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে দেশের অন্যতম বিশেষায়িত পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান সিআরপি তাদের নানা কার্যক্রম তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর সামনে।
রোববার (২৪ মে) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বৈঠকে সিআরপি কর্মকর্তারা শুধু চিকিৎসা নয়, একজন পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষকে কীভাবে মানসিকভাবে শক্ত করে তোলা হয় এবং পরিবার ও সমাজের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত করা হয়—সেসব বিষয়ও তুলে ধরেন।
বাংলাদেশে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনা, কর্মস্থলে দুর্ঘটনা, স্ট্রোক কিংবা বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় বহু মানুষ স্থায়ী বা আংশিক পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন। তাঁদের অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে সংকটে পড়ে যান। এমন বাস্তবতায় সিআরপির মতো প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা দিন দিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, পুনর্বাসন শুধু শারীরিক চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন রোগী যেন আত্মবিশ্বাস ফিরে পান এবং নতুনভাবে জীবন শুরু করতে পারেন, সেটিও বড় বিষয়।
সাক্ষাৎকালে সিআরপির প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ড. ভ্যালেরি এ. টেইলর উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ট্রাস্টির নির্বাহী পরিচালক ড. মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন, ট্রাস্টি চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সাইদুর রহমান এবং ট্রাস্টি মুশতাক আহমেদসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সিআরপির চলমান চিকিৎসা কার্যক্রম, পুনর্বাসন সেবা, প্রশিক্ষণ ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সিআরপিকে অনেকে কেবল একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখলেও বাস্তবে এটি বহু মানুষের জীবনে নতুনভাবে দাঁড়িয়ে যাওয়ার জায়গা। এখানে চিকিৎসার পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি, কর্মমুখী প্রশিক্ষণ, মানসিক সহায়তা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে এখনো প্রতিবন্ধিতা ও পক্ষাঘাত নিয়ে সামাজিক সংকোচ রয়েছে। অনেক পরিবার আক্রান্ত সদস্যকে ঘরের ভেতর সীমাবদ্ধ রাখে। ফলে রোগীর শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি মানসিক অবস্থাও দ্রুত খারাপ হতে থাকে।
এমন পরিস্থিতিতে পুনর্বাসনকেন্দ্রগুলো শুধু চিকিৎসা দেয় না, বরং পরিবারকেও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে প্রস্তুত করে। একজন মানুষকে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজ—তিন পক্ষের সমন্বিত ভূমিকা দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনা ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতার কারণে মেরুদণ্ডে আঘাতপ্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে বিভিন্ন মহলের দাবি। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা না পেলে অনেক রোগী স্থায়ীভাবে চলাচলের ক্ষমতা হারান।
এ কারণে পুনর্বাসন ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে জেলা পর্যায়ে উন্নত পুনর্বাসন সেবা না থাকায় অনেক রোগীকে রাজধানীমুখী হতে হয়, যা তাদের জন্য বাড়তি কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে এখন শুধু চিকিৎসা নয়, দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ব্যবস্থাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ চিকিৎসা শেষে রোগী যদি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে না পারেন, তাহলে পুরো পরিবার অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপে পড়ে যায়।
এই বৈঠককে অনেকে প্রতীকী দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। কারণ পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়টি সাধারণত মূলধারার আলোচনায় খুব বেশি আসে না। অথচ এটি একটি বড় সামাজিক বাস্তবতা।
স্বাস্থ্য অধিকারকর্মীদের মতে, দেশে প্রতিবন্ধী ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি জরুরি। শুধু চিকিৎসা নয়, কর্মসংস্থান, চলাচলের সুযোগ এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁদের দাবি, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ একসঙ্গে কাজ করলে পুনর্বাসন সেবার পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব। একইসঙ্গে সচেতনতা বাড়লে দুর্ঘটনার পর প্রাথমিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিয়েও মানুষের ধারণা বদলাবে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সিআরপি প্রতিনিধিদের এই সাক্ষাৎ সেই আলোচনাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন